📌 নিউইয়র্কের জনপ্রিয় জোন্স বিচের নামকরণ করা হয়েছে ১৭শ শতকের জলদস্যু টমাস জোন্সের নামে। গবেষণা থেকে জানা যায়, তিনি মোগল জাহাজ ‘গঞ্জ-ই-সাওয়াই’-এর ডাকাতিতে জড়িত জলদস্যুদের পালাতে সাহায্য করেছিলেন
নিউইয়র্কের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘জোন্স বিচ’-এর নামকরণ করা হয়েছে ১৭শ শতকের একজন বিখ্যাত জলদস্যুর সহযোগী টমাস জোন্সের নামে। কিন্তু এই সৈকতের ইতিহাসে গোপন ছিল যে, জোন্স আদতে ক্যাপ্টেন হেনরি এভরির জলদস্যু দলের পথনির্দেশক ছিলেন। মার্কিন ইতিহাসবিদ জেমস বেইলির গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে, যা নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক অর্থনীতির গোপন দিক উন্মোচন করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৬৯৫ সালে লোহিত সাগরে মোগল জাহাজ ‘গঞ্জ-ই-সাওয়াই’-এ জলদস্যুদের ডাকাতিতে টমাস জোন্স সহযোগিতা করেছিলেন।
- 📌 জলদস্যুদের ওপর নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে; কোটি কোটি ডলার মূল্যের সোনা-রুপা লুট করা হয়।
- 📌 টমাস জোন্সের নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত জোন্স বিচের নামকরণ করা হয়েছে, কিন্তু তার জলদস্যু অতীত এতদিন গোপন ছিল।
- 📌 ১৭শ শতকের শেষে জোন্স নিউইয়র্কে আসেন এবং তিমি শিকারের ব্যবসায় সম্পদ অর্জন করেন।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে জোন্স ইংরেজ সেনাবাহিনীর একজন মেজর ছিলেন।
📰 বিস্তারিত
নিউইয়র্কের ‘জোন্স বিচ’ প্রতিবছর কোটি কোটি দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে। কিন্তু এই সৈকতের নামকরণ করা হয়েছে টমাস জোন্সের নামে, যিনি ১৭শ শতকের একজন বিখ্যাত জলদস্যুর সহযোগী ছিলেন। ইতিহাসবিদ জেমস বেইলির গবেষণায় জানা যায়, টমাস জোন্স ক্যাপ্টেন হেনরি এভরির জলদস্যু দলকে পালাতে সাহায্য করেছিলেন। ১৬৯৫ সালে লোহিত সাগরে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের রাজকীয় জাহাজ ‘গঞ্জ-ই-সাওয়াই’-এ জলদস্যুরা ভয়াবহ ডাকাতি চালায়। জাহাজের যাত্রী ও নাবিকদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। কোটি কোটি ডলার মূল্যের সোনা-রুপা লুট করে জলদস্যুরা পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে প্রথম কোনো অপরাধীকে ধরতে অভিযান শুরু হয়। কিছু জলদস্যু ধরা পড়লেও ক্যাপ্টেন এভরি ও টমাস জোন্স চিরতরে আত্মগোপনে চলে যান। ঐতিহাসিক নথি থেকে জানা যায়, টমাস জোন্স জলদস্যুদের পালাতে পথনির্দেশক হিসেবে সাহায্য করেছিলেন। এই সহায়তার পর ১৭শ শতকের শেষের দিকে জোন্স নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে বিপুল সম্পত্তির মালিক হন এবং তিমি শিকারের ব্যবসায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
১৬৯৮ সালে নিউইয়র্কের গভর্নর এক তদন্ত প্রতিবেদনে জোন্সকে ‘সাবেক দস্যু’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর বাড়িতে গোপন দস্যুতার অর্থ থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে জোন্স ইংরেজ সেনাবাহিনীর একজন মেজর ছিলেন। জোন্স বিচের নামকরণ করা হয়েছে টমাস জোন্সের নামে, কিন্তু তার জলদস্যু অতীত এতদিন স্থানীয় ইতিহাসের বইগুলোতে কেবল ইঙ্গিতে বলা হতো। বেইলির গবেষণা এই গোপন ইতিহাসের ওপর আলোকপাত করেছে।
"জোন্সের বিতর্কিত অতীতের যে অংশটি এত দিন স্থানীয় ইতিহাসের বইগুলোতে কেবল ইঙ্গিতে বলা হতো, বেইলির এই গবেষণা সেটির ওপরই নতুন করে আলোকপাত করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক, জোন্স বিচ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: টমাস জোন্স, জেমস বেইলি, ক্যাপ্টেন হেনরি এভরি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬৯৫ (মোগল জাহাজ ডাকাতির বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!