📌 ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান ইরানের জন্য উদ্বেগের বিষয় নয়। তিনি বলেন, ঢাকার ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি ইরান সমর্থন করে এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি স্পষ্ট করেছেন যে, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পাদিত ‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে ইরানের কোনো উদ্বেগ নেই। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরান স্পষ্ট করেছে যে মক্কা চুক্তিকে তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না
- 📌 বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে ইরান জানিয়েছে, ঢাকার ভারসাম্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নীতি তারা সমর্থন করে
- 📌 ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কে বাংলাদেশের যেকোনো সিদ্ধান্ত ইরানের জন্য উদ্বেগের কারণ হবে না
- 📌 দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান
- 📌 পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, অঞ্চলের উত্তেজনা দ্রুত অবসান এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন
- 📌 ইরান জানিয়েছে, আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের সক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে
- 📌 বাংলাদেশ এখনো মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পায়নি
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের তিনি জানান, মক্কা চুক্তিকে ইরান ইরানের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করছে না। তিনি বলেন, ‘আমরা মক্কা চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে মনে করি না। বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত আমাদের উদ্বিগ্ন করে না।’
ইরানের রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে ইরান জানিয়েছে, ঢাকার ভারসাম্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নীতি তারা ভালোভাবে বুঝতে পারে। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সরকারের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে আমরা ভালোভাবেই জানি যে আপনাদের সরকার একটি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে।’
ইরানি রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যেকোনো সিদ্ধান্ত ইরানের জন্য উদ্বেগের কারণ হবে না। তিনি বলেন, ইরান বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় এবং রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী।
সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্যাশা হলো, এই অঞ্চলের চলমান উত্তেজনার দ্রুত অবসান হবে এবং অঞ্চলের মানুষসহ বিশ্বের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে।’
ইরানের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলো প্রমাণ করে যে দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ক্রমেই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের সক্ষমতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘মক্কা চুক্তি এর ভালো প্রমাণ যে আঞ্চলিক দেশগুলো এবং এর সদস্যরা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।’
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে আঞ্চলিক দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি থাকলেই যে সেসব দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তা নয়। তিনি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর উচিত বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব ক্রমেই নিজেদের হাতে নেওয়া।
‘আঞ্চলিক দেশগুলোর উচিত নিজেদের নিরাপত্তার জন্য নিজেদের ওপর নির্ভর করা।’
তিনি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার বিভিন্ন উদ্যোগ আসলে বৃহত্তর কৌশলগত স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির গত রোববার জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে’ যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি দেখছে না। তিনি বলেন, এই চুক্তিতে যোগ দিলে অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও যোগাযোগ সীমিত হয়ে যাবে না।
এদিকে গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত ‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হলে এতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ঢাকা পুরো পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে। তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তিতে অংশগ্রহণের বিষয়ে আমরা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছি। এই জোটে যোগ দেওয়ার আগে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি (ইরানি রাষ্ট্রদূত), হুমায়ুন কবির (পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী), শামা ওবায়েদ ইসলাম (পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮টি (ওষুধ কোম্পানি), ১৪টি (কাশির সিরাপ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!