📌 দেশের আটটি ওষুধ কোম্পানির ১৪টি কাশির সিরাপে মাদক উপাদান ডেক্সট্রোমেথরফেন শনাক্ত করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অপব্যবহার রোধে প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) দেশের আটটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ১৪টি কাশির সিরাপে ‘ডেক্সট্রোমেথরফেন’ নামের একটি মাদক উপাদান শনাক্ত করেছে। উপাদানটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ‘ক’ শ্রেণির তফসিলভুক্ত নিয়ন্ত্রিত মাদক হিসেবে বিবেচিত। এ বিষয়ে সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানিয়েছে, অপব্যবহার রোধে ডেক্সট্রোমেথরফেনযুক্ত ওষুধ প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি না করার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেশের ৮টি ওষুধ কোম্পানির ১৪টি কাশির সিরাপে ডেক্সট্রোমেথরফেন পাওয়া গেছে
- 📌 ডেক্সট্রোমেথরফেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত নিয়ন্ত্রিত উপাদান
- 📌 রাজধানীর কয়েকটি এলাকার ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া কাশির সিরাপ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে
- 📌 অতিরিক্ত সেবনে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ডিএনসি
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও রাশিয়ার মতো কয়েকটি দেশে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ডেক্সট্রোমেথরফেন কেনা যায় না
📰 বিস্তারিত
গত ১৩ মার্চ বগুড়া সদর থানায় মাদকসংক্রান্ত একটি মামলার আলামত হিসেবে রাজশাহী বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারে ১৪টি কাশির সিরাপের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, বেক্সিমকো, স্কয়ার, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস, অপসোনিন ফার্মা, এসিআই, একমি ল্যাবরেটরিজ, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস ও অ্যারিস্টোফার্মার প্রস্তুতকৃত সিরাপগুলোতে ডেক্সট্রোমেথরফেন উপস্থিত রয়েছে।
ডিএনসির মহাপরিচালককে লেখা এক চিঠিতে রাজশাহী বিভাগীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারের পরীক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম সরকার জানান, পরীক্ষিত সিরাপগুলোতে নিয়ন্ত্রিত মাদক উপাদানটির উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। তবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে ডেক্সট্রোমেথরফেনকে ‘ক’ শ্রেণির মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত না করলেও চলত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মাসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিত বলেন, ‘ডেক্সট্রোমেথরফেন সাধারণত হেরোইন বা গাঁজার মতো আসক্তি তৈরিকারী উপাদান নয়। তবে এর অপব্যবহার রোধে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি নিষিদ্ধ করা উচিত।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিকভাবে অনেক দেশেই এই উপাদানটি নিয়ন্ত্রিত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যে প্রেসক্রিপশন ছাড়া কেনা যায়।
"ডেক্সট্রোমেথরফেনযুক্ত কাশির সিরাপ দীর্ঘস্থায়ী কাশি নিরাময়ে ব্যবহৃত হলেও অতিরিক্ত সেবনে হাইপোম্যানিয়া, তীব্র সাইকোসিস, শ্বাসকষ্ট, মারাত্মক মাথা ঘোরা ও মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।"
ডিএনসির সূত্রে জানা যায়, দেশে ফেনসিডিলসহ প্রচলিত মাদকের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিকল্প হিসেবে যুবসমাজ ও মাদকাসক্তরা ডেক্সট্রোমেথরফেনযুক্ত কাশির সিরাপ ব্যবহার করছে। এসব সিরাপ রাজধানীর কয়েকটি এলাকার ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিক্রেতাদের মতে, অনেকে চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়াও নেশার উদ্দেশ্যে এসব সিরাপ ক্রয় করছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানী ঢাকা, রাজশাহী বিভাগ ও বগুড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. শফিকুল ইসলাম সরকার (পরীক্ষক), অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিত
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮টি কোম্পানি, ১৪টি সিরাপ, ১৩ মার্চ, ১৬ মার্চ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!