📌 ভারতের মোদিবিরোধী ইন্ডিয়া জোটের নেতারা রামলীলা ময়দানে লাখো মানুষের সমাবেশে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও মোদি-শাহদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ভোট চুরির মাধ্যমে ক্ষমতায় বসা মোদি-শাহদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে
ভারতের রাজনৈতিক মঞ্চে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয় ইন্ডিয়া জোট। রোববার রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠিত ভোট বাঁচাও দেশ বাঁচাও বিক্ষোভ সমাবেশে লাখো মানুষের সমাবেশে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও মোদি-শাহদের বিচারের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। ইন্ডিয়া জোটের নেতারা বলেছেন, এই লড়াই কোনো দলের নয়, বরং গণতন্ত্রপ্রিয় প্রত্যেক ভারতীয়ের সংগ্রাম।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লাখো মানুষের সমাবেশ: রামলীলা ময়দানে ময়দানের ভেতরে থাকা লাখো মানুষের পাশাপাশি বাইরে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার মানুষের সমাবেশে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও মোদি-শাহদের বিচারের দাবি তুলে ধরা হয়।
- 📌 ভোট চুরির অভিযোগ: ইন্ডিয়া জোটের নেতারা দাবি করেছেন, মোদি-শাহরা ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে ক্ষমতায় বসেছেন। তারা বলেছেন, এই ভোট চুরির শাস্তি পেতেই হবে।
- 📌 জ্ঞানেশ কুমারকে কারাগারে: কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, জ্ঞানেশ কুমার রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ করেছেন। তাঁর কারাগারে যেতে হবে।
- 📌 গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই: ইন্ডিয়া জোটের নেতারা বলেছেন, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের পর মোদি-শাহদের ক্ষমতাচ্যুত করে গণতন্ত্র রক্ষা করা এই লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য।
- 📌 পুলিশের শর্তসাপেক্ষ অনুমতি: দিল্লি পুলিশ শর্তসাপেক্ষে ইন্ডিয়া জোটের জনসভার অনুমতি দিয়েছিল। সেসব শর্ত মেনেই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
- 📌 রাজনৈতিক নেতাদের ভাষণ: রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফারুক আবদুল্লাহ, মেহবুবা মুফতি, যোগী আদিত্যনাথসহ ইন্ডিয়া জোটের নেতারা পাঁচ মিনিটের ভাষণ দেন।
- 📌 এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি: ইন্ডিয়া জোটের নেতারা ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও মোদি-শাহদের বিচারের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। ইন্ডিয়া জোটের নেতারা বলেছেন, এই লড়াই কোনো দলের নয়, বরং গণতন্ত্রপ্রিয় প্রত্যেক ভারতীয়ের সংগ্রাম। তারা দাবি করেছেন, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের পর মোদি-শাহদের ক্ষমতাচ্যুত করে গণতন্ত্র রক্ষা করা এই লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর পর সেই সংগ্রামের লক্ষ্য নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহদের ক্ষমতাচ্যুত করে দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করা। তিনি দাবি করেছেন, জ্ঞানেশ কুমার রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ করেছেন। তাঁর কারাগারে যেতে হবে। তিনি বলেছেন, মোদি-শাহরা ভোট চুরির মাধ্যমে ক্ষমতায় বসেছেন। ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম তাঁরা বাদ দিয়েছেন। এই শাস্তি তাঁদের পেতেই হবে।
ইন্ডিয়া জোটের নেতারা দাবি করেছেন, ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) বাতিল করতে হবে। তারা বলেছেন, এই প্রক্রিয়ায় মুসলমান ভোটারদের নাম বেছে বেছে বাদ দেওয়া হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ বলেছেন, এসআইআরে মুসলমান ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন মুসলমান মানেই পাকিস্তানপন্থী? উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ অভিযোগ করেছেন, তাঁর রাজ্যে দেড় কোটি হিন্দুর নাম কাটা গেছে। তিনি দাবি করেছেন, হিন্দুরাও কি পাকিস্তানপন্থী?
দিল্লির রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা পাঁচ মিনিটের ভাষণ দেন। সমাবেশের সঞ্চালক ছিলেন দিল্লি কংগ্রেসের নেতা অজয় মাকেন। সমাবেশের সময় দিল্লি পুলিশ ঘড়ি দেখিয়ে পাঁচটার মধ্যে সমাবেশ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল। ফলে প্রত্যেক নেতা পাঁচ মিনিটের ভাষণ দিতে পেরেছিলেন।
"জ্ঞানেশ কুমারকে কারাগারে যেতেই হবে। তিনি যা করেছেন, তা রাষ্ট্রদ্রোহ। মোদি-শাহকেও শাস্তির মুখোমুখি হতে হবেই। তাঁদের জেনে রাখা ভালো, যে যতই শক্তিশালী ও সম্পদশালী হোন, সংবিধানের চেয়ে কেউ বড় নন।"
দুপুর ১২টায় হুড খোলা গাড়িতে চেপে মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, ফারুক আবদুল্লাহ, মেহবুবা মুফতি, সুপ্রিয়া সুলে, কল্পনা সোরেন, সঞ্জয় রাউত, দীপংকর ভট্টাচার্য, এম এ বেবিদের মতো ইন্ডিয়া জোটের নেতা-নেত্রীরা কনট প্লেস-মিন্টো রোড ক্রসিং থেকে রামলীলা ময়দান অভিমুখে রওনা দেন। তাদের সঙ্গে হাজারো কর্মী-সমর্থক। অন্য নেতারাও একই রকম গাড়িতে চেপে এগোতে থাকেন। মিছিল করে রামলীলা ময়দানে যাওয়ার জন্য ইন্ডিয়া জোট পুলিশের অনুমতি চায়নি। কাজেই পুলিশের মধ্যে একটা দোলাচল ছিল। কিন্তু নেতারা হুড খোলা গাড়িতে থাকায় পুলিশ আপত্তি জানায়নি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রামলীলা ময়দান, দিল্লি, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাহুল গান্ধী, জ্ঞানেশ কুমার, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, ফারুক আবদুল্লাহ, যোগী আদিত্যনাথ, মেহবুবা মুফতি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ শতাংশ ভোটার, ১২ টা (দুপুর ১২টায় শুরু), ৫ মিনিট (প্রত্যেক নেতার ভাষণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!