📌 শ্রমিকদের ওপর পুলিশি হামলা ও ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকার দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের মশালমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিরপুরে শ্রমিকদের মারধর ও পুলিশ ভ্যানে তুলে নেওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়
শ্রমিকদের ওপর পুলিশি হামলা ও ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের মশালমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আজ রোববার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি ও তাদের ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতারা।
- 📌 মিরপুরের ১০ ও ১২ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের মারধর ও পুলিশ ভ্যানে তুলে নেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়।
- 📌 বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি নাঈম উদ্দীন বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি মেনে নেওয়া উচিত।
- 📌 সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক সরকারের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন নেই।
- 📌 বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক তৈয়ব ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের কারখানায় ও বাইরে নিপীড়নের শিকার হওয়া অব্যাহত রয়েছে।
- 📌 মজুরি বোর্ডে প্রকৃত শ্রমিকদের প্রতিনিধি নেই, বরং বিএনপির শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি রয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পায়রা চত্বর থেকে শুরু হওয়া মশালমিছিল ভিসি চত্বর, কলাভবনের শ্যাডো, মধুর ক্যানটিন ও কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকা প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে শেষ হয়। মিছিলের পর সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি নাঈম উদ্দীন বলেন, শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবি মেনে নেওয়া উচিত। তিনি দ্রব্যমূল্যের উচ্চতা, বাড়িভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় বিবেচনা করে বলেন, বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের পরিবার নিয়ে জীবনযাপন করা কঠিন।
মিরপুরের ১০ ও ১২ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের মারধর ও পুলিশ ভ্যানে তুলে নেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে নাঈম উদ্দীন বলেন, “সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি করা হলেও শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করলে তাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে।” তিনি সরকারকে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
মোজাম্মেল হক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক, বলেন, মিরপুর, গাজীপুর ও আশপাশের এলাকায় আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়ন নিন্দনীয়। তিনি সরকারের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘সরকারের মন্ত্রী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন, আন্দোলন ভিন্ন খাতে নেওয়া হচ্ছে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন রয়েছে। কিন্তু ক্ষমতার হাতবদল হয়, কিন্তু ক্ষমতার ভাষার পরিবর্তন হয় না।’
তৈয়ব ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক, বলেন, “যাঁদের শ্রমের ওপর বাংলাদেশের পোশাকশিল্প ও অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে, সেই শ্রমিকেরাই কারখানার ভেতরে ও বাইরে নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।” তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবিতে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ না পেয়ে রাস্তায় নামলে পুলিশের হামলার মুখে পড়ছেন তারা।
ইসরাত জাহান ইমু, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক, বলেন, “সাম্প্রতিক মজুরি বোর্ডে প্রকৃত শ্রমিকদের কোনো প্রতিনিধি নেই। সেখানে শ্রমিক প্রতিনিধি হিসেবে বিএনপির শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি রয়েছেন।” তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ থাকলেও শ্রমিকেরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছিলেন। তিনি সাভারের প্রথম শহীদকে শ্রমিক হিসেবে স্মরণ করে বলেন, “শ্রমিকেরা একসময় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, এখন শিক্ষার্থী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের উচিত শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানো।”
গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফাহিম আহমেদ চৌধুরী সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনকে আওয়ামী লীগের ইন্ধন বা ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে দমনের এ ধরনের প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমান বাজারে সাড়ে ১২ হাজার টাকা দিয়ে একজন মানুষের পক্ষেও জীবনযাপন করা সম্ভব নয়।”
"শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবির সঙ্গে অন্য পেশার মানুষের মজুরি বৃদ্ধির কোনো বিরোধ নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাড়িভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় বিবেচনায় বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের পক্ষে পরিবার নিয়ে জীবনযাপন করা কঠিন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (টিএসসি পায়রা চত্বর, ভিসি চত্বর, রাজু ভাস্কর্য), মিরপুর (১০ ও ১২ নম্বর এলাকা), গাজীপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাঈম উদ্দীন, মোজাম্মেল হক, তৈয়ব ইসলাম, ইসরাত জাহান ইমু, ফাহিম আহমেদ চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ হাজার টাকা (মজুরি), ১০ ও ১২ নম্বর এলাকা (মিরপুর), সাড়ে ১২ হাজার টাকা (বর্তমান বাজারে জীবনযাপনের সীমা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!