📌 নারায়ণগঞ্জে প্রবাসী নিশা বেগমের হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুর রহমানের সাজা হাইকোর্ট কমিয়ে দিয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে। আদালত ১০ হাজার টাকা জরিমানাও আরোপ করেছে। রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়েছে
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে প্রবাসী নিশা বেগমের ছুরিকাঘাতে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুর রহমানের সাজা হাইকোর্ট কমিয়ে দিয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে। রোববার (১ নভেম্বর) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিলের শুনানি শেষে এই রায় ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত নিশা বেগম ছিলেন কাতারপ্রবাসী তাজুল ইসলামের স্ত্রী এবং নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নারায়ণগঞ্জে নিশা হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুর রহমানের সাজা হাইকোর্ট কমিয়ে দিয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করেছে।
- 📌 রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা ছিল মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে, কিন্তু হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
- 📌 ২০১৯ সালে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল, পরে হাইকোর্টের শুনানিতে সাজা কমিয়ে দেওয়া হয়।
- 📌 নিশা বেগমকে ২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর আব্দুর রহমান ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছিলেন।
- 📌 মামলায় বাদী ছিলেন নিশার ছোট ভাই মো. রাব্বি মিয়া।
📰 বিস্তারিত
হাইকোর্টের রায়ে নিশা হত্যাকাণ্ডের আসামি আব্দুর রহমানের মৃত্যুদণ্ড যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়েছে। বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রোববার (১ নভেম্বর) রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমীন সিদ্দিকী। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত আব্দুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামি আব্দুর রহমান আপিল করেন। উভয় আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, নিহত নিশা বেগমের স্বামী ছিলেন কাতারপ্রবাসী তাজুল ইসলাম। আসামি আব্দুর রহমান ছিলেন তাজুল ইসলামের ভগ্নিপতি, অর্থাৎ নিশার ননদের স্বামী। অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুর রহমান বিভিন্ন সময়ে নিশাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নবীগঞ্জ এলাকায় নিশাকে একা পেয়ে কুপ্রস্তাব দেন তিনি। একপর্যায়ে তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং বুকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। পরে নিশাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু তিনি মৃত ঘোষণা করা হয়।
"রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।"
এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের দুই দিন পর, ১০ ডিসেম্বর নিশার ছোট ভাই মো. রাব্বি মিয়া বাদী হয়ে বন্দর থানায় আব্দুর রহমানকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে বিচারিক আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই রায়ের ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিলের শুনানি শেষে এবার সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেন হাইকোর্ট।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুর রহমান, নিশা বেগম, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমীন সিদ্দিকী, বিচারপতি জাফর আহমেদ, বিচারপতি সাথিকা হোসেন, মো. রাব্বি মিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ হাজার টাকা জরিমানা, ১ নভেম্বর, ২০১৯, ৭ ফেব্রুয়ারি, ৮ ডিসেম্বর, ৭ টা সন্ধ্যা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!