📌 পাকিস্তানের স্বর্ণপদকজয়ী তরুণী লাইবা ইজাজ হার্ভার্ডে ভর্তির প্রতারণায় শিকার হন। তার বাবা রানা মুহাম্মদ ইজাজ জমি ও গয়না বিক্রি করে অর্থ দিয়েছিলেন। ৯ অক্টোবর তার মৃত্যুর পর প্রতারণাকারী নোমানকে গ্রেপ্তার করা হয়, কিন্তু তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে
পাকিস্তানের একটি স্বর্ণপদকজয়ী তরুণীর হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন প্রতারণার ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ২৪ বছর বয়সী লাইবা ইজাজের বাবা রানা মুহাম্মদ ইজাজ নিজের জমি ও পরিবারের গয়না বিক্রি করে মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগানোর চেষ্টা করলেও, প্রতারণাকারী মুহাম্মদ নোমানের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়ে শেষ পর্যন্ত তার প্রাণ হারান। গত ৯ অক্টোবর ইসলামাবাদে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লাইবা ইজাজ পাকিস্তানের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্বর্ণপদক লাভ করেন।
- 📌 তার বাবা রানা মুহাম্মদ ইজাজ জমি ও গয়না বিক্রি করে মোট ৯৪ লাখ টাকা (২২ লাখ + ৭২ লাখ) দেন প্রতারণাকারী মুহাম্মদ নোমানকে।
- 📌 নোমানের জাল কাগজপত্র ও ভিসা সাক্ষাৎকারের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েই লাইবার মৃত্যু ঘটে।
- 📌 ৬ অক্টোবর পরিবার নিশ্চিত হয় প্রতারণার শিকার হয়েছে। এর তিন দিন পর ৯ অক্টোবর লাইবার মৃত্যু হয়।
- 📌 নোমানকে ২০ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়, কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
- 📌 পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ২১ অক্টোবর লাইবার পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকার বেশি অর্থ তুলে দেন।
- 📌 পাকিস্তানে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেই বলে প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ছে।
📰 বিস্তারিত
পাকিস্তানের ইসলামাবাদ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্বর্ণপদক লাভকারী লাইবা ইজাজ যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছিলেন। সেই স্বপ্ন পূরণে তার বাবা রানা মুহাম্মদ ইজাজ নিজের জমি ও পরিবারের গয়না বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করেন। কিন্তু প্রতারণাকারী মুহাম্মদ নোমান তার পরিবারকে জাল কাগজপত্র ও ভিসা সাক্ষাৎকারের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা চালান।
নোমান নিজেকে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের কর্মচারী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি লাইবাকে হার্ভার্ডে ভর্তির ব্যবস্থা করতে পারবেন। পরিবার তার কথায় বিশ্বাস করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি বাবদ ২২ লাখ টাকা এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য ব্যাংকে ৭২ লাখ টাকা দেন। নোমানের কথায়, এই অর্থ ডলারে রূপান্তর করতে হবে। পরিবারকে হার্ভার্ডের ভর্তি ও বৃত্তির চিঠি, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ফরম, স্পনসরশিপের হলফনামা, দূতাবাসের নথি এবং বোস্টনগামী বিমানের টিকিটসহ বিভিন্ন জাল কাগজপত্র তুলে দেন তিনি।
অক্টোবরের শুরুতে পরিবার নিশ্চিত হয়, নোমানের কাগজপত্র জাল। ৬ অক্টোবর তারা একজন আইনজীবীকে নথিপত্র পরীক্ষা করতে বলেন। পরীক্ষা করে জানা যায়, পুরো নথিপত্রই ভুয়া। এর তিন দিন পর, ৯ অক্টোবর, লাইবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক পুলিশি তদন্তে আত্মহত্যার আশঙ্কা করা হলেও পরিবার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। বাবা ইজাজের অভিযোগ, নোমানের প্রতারণাই মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী।
লাইবার মৃত্যুর দুই দিন পর, ১১ অক্টোবর, নোমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু ২০ অক্টোবর পুলিশি হেফাজতে প্রমাণ উদ্ধারের সময় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পুলিশ জানিয়েছে, নোমানকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা থেকেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল।
"সে নিজে মারা যায়নি, নোমান তাকে হত্যা করেছে।"
— রানা মুহাম্মদ ইজাজ, লাইবার বাবা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসলামাবাদ, পাকিস্তান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লাইবা ইজাজ, রানা মুহাম্মদ ইজাজ, মুহাম্মদ নোমান, মহসিন নকভি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ বছর (লাইবার বয়স), ৯ অক্টোবর (মৃত্যু তারিখ), ২২ লাখ টাকা (প্রথম অর্থ), ৭২ লাখ টাকা (দ্বিতীয় অর্থ), ৫০ লাখ টাকা (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদত্ত অর্থ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!