📌 গভর্নমেন্ট চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই
গভর্নমেন্ট চাকরিতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির (১১ থেকে ২০তম গ্রেড) পদে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে গতকাল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই পরিবর্তন অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ বাড়াতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, কুমিল্লা ও নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ে।
- 📌 জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই। মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পরীক্ষা পদ্ধতির একীকরণের চিন্তা করা হচ্ছে।
- 📌 প্রস্তাবিত বিধিমালায় ১১-১২তম গ্রেডে মোট নম্বর ১৫০, লিখিত ১০০ ও মৌখিক ৫০ নম্বর থাকবে। ১৩-১৬তম গ্রেডে লিখিত ৬০ ও মৌখিক ৪০ নম্বর। ১৭-২০তম গ্রেডে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ২৫-২৫ নম্বর করে থাকবে।
- 📌 বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন আলী বলেছেন, ‘দেশের সব নাগরিকের চাকরিতে সমান অধিকার থাকতে হবে। দলপন্থী বা দলীয় গোষ্ঠীর লোকজন চাকরি পাবেন না।’
- 📌 শৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, র্যাবসহ সরকারি কর্ম কমিশনের আওতাধীন পদে এই বিধিমালা প্রযোজ্য হবে না।
📰 বিস্তারিত
গভর্নমেন্ট চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর ফলে ‘পছন্দের’ প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর দিয়ে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এই উদ্যোগের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির (১১ থেকে ২০তম গ্রেড) নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নেয়। এখনো সব পরীক্ষা একসঙ্গে করে একটি পদ্ধতিতে আনার চিন্তা করা হচ্ছে, তবে এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।
প্রস্তাবিত বিধিমালায় ১১-১২তম গ্রেডে মোট নম্বর হবে ১৫০। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় ১০০ নম্বর (বাংলায় ২৫, ইংরেজিতে ২৫, গণিতে ২৫ এবং প্রাসঙ্গিক জ্ঞানে ২৫) এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৫০ নম্বর থাকবে। লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৩৫ শতাংশ এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৪০ শতাংশ। ১৩-১৬তম গ্রেডে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মোট নম্বর হবে ১০০। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষায় ৬০ নম্বর (বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও প্রাসঙ্গিক জ্ঞানে ১৫-১৫ নম্বর করে) এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৪০ নম্বর থাকবে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাতেই পাস নম্বর ৪০ শতাংশ। ১৭-২০তম গ্রেডে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ২৫-২৫ নম্বর করে থাকবে, লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও প্রাসঙ্গিক জ্ঞানে ৫ নম্বর করে থাকবে। উভয় পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০ শতাংশ।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন আলী বলেন, ‘আমরা চাই, দেশের সব নাগরিকের চাকরিতে সমান অধিকার থাকবে। এখানে কোনো দলপন্থী বা দলীয় গোষ্ঠীর লোকজন চাকরি করবে, এমনটা হবে না। আমরা এসব মানি না।’
"আমরা চাই, দেশের সব নাগরিকের চাকরিতে সমান অধিকার থাকবে। এখানে কোনো দলপন্থী বা দলীয় গোষ্ঠীর লোকজন চাকরি করবে, এমনটা হবে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আব্দুল বারী (জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী), ইমন আলী (বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১-২০তম গ্রেড, ১৫০ (মোট নম্বর), ১০০ (লিখিত), ৫০ (মৌখিক), ৩৫ (লিখিত পাস শতাংশ), ৪০ (মৌখিক পাস শতাংশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!