📌 বাংলাদেশে ব্যাংকগুলোর উপশাখা থেকে জুনে আমানত বেড়েছে ৪ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা, কিন্তু ঋণ বিতরণে পিছিয়ে পড়েছে। গ্রামীণ এলাকায় ব্যাংকিং সেবা বিস্তারের এই নতুন মডেলের ফলে আমানত বৃদ্ধির হার গড় ব্যাংকিং খাতের চেয়ে প্রায় আড়াই গুণ বেশি হলেও ঋণ বিতরণে সাফল্য আসেনি।
বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতের গ্রামীণ বিস্তার প্রকল্পে নতুন মডেলের মাধ্যমে উপশাখাগুলো আমানত সংগ্রহে সফল হলেও ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলো পিছিয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উপশাখাগুলো থেকে জুন মাসের শেষে সংগৃহীত আমানত বেড়েছে ৪ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা। মার্চ মাসের তুলনায় এই বৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭ শতাংশ, যা পুরো ব্যাংকিং খাতের গড় বৃদ্ধির চেয়ে প্রায় আড়াই গুণ বেশি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **আমানত বৃদ্ধি**: মার্চে ৭৯ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা থেকে জুনে ৮৪ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা — ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি
- 📌 **গ্রাহক সংখ্যা**: উপশাখায় আমানতকারী গ্রাহক সংখ্যা ৮৪ লাখ ৭০ হাজার থেকে বেড়ে ৮৯ লাখ ৭০ হাজারে — ৫ লাখ নতুন গ্রাহক যুক্ত
- 📌 **গ্রামীণ এলাকার অংশ**: গ্রামীণ এলাকার আমানতের হার মার্চে ৩২ শতাংশ থেকে বেড়ে জুনে ৩৩ শতাংশ
- 📌 **নারীদের আমানত**: নারীদের আমানতের অংশ ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশে বৃদ্ধি
- 📌 **ঋণ বিতরণে পিছিয়ে**: উপশাখার ঋণ ও অগ্রিম মার্চে ২২ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা থেকে নেমে এসেছে ২০ হাজার ৬০২ কোটি টাকা — ৭ দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস
- 📌 **উপশাখা সংখ্যা**: মার্চে ৪ হাজার ৯৯২টি থেকে জুনে বেড়ে ৫ হাজার ৩৩টি — ৩০টি গ্রামীণ ও ১৯টি শহুরে নতুন উপশাখা চালু
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, খরচ কম হওয়ায় ব্যাংকগুলো উপশাখা মডেলে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এই মডেলের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তবে আমানত বৃদ্ধির বিপরীতে ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলো সফল হয়নি। উপশাখার ঋণ বিতরণের হার মোট ব্যাংক ঋণের মাত্র ১ শতাংশেরও কমে দাঁড়িয়েছে।
উপশাখাগুলো থেকে সংগৃহীত আমানতের মধ্যে গ্রামীণ এলাকার অংশ মার্চে ৩২ শতাংশ থেকে জুনে ৩৩ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। নারীদের আমানতের অংশও ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নতি হয়েছে। তবে এই সাফল্যের বিপরীতে ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলো পিছিয়ে পড়েছে। মার্চে উপশাখার ঋণ ও অগ্রিম ছিল ২২ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা, যা জুনে কমে ২০ হাজার ৬০২ কোটি টাকা হয়েছে।
ব্যাংকগুলো উপশাখা মডেলে ব্যাংকিং সেবা বিস্তারের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে উৎসাহিত করছে। তবে ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলো সফল না হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে এই আমানতের সুফল পৌঁছাতে পারছে না।
"খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় ব্যাংকগুলো উপশাখায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশের গ্রামীণ ও শহুরে উপশাখা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আরিফ হোসেন খান (বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা (আমানত বৃদ্ধি), ৭ দশমিক ৭ শতাংশ (ঋণ হ্রাস), ৫ হাজার ৩৩টি (উপশাখা সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!