📌 সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আবিষ্কার করেছে ৪টি প্যাকেজের কাজের কোনো অস্তিত্ব নেই। ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হলেও কোনো চুক্তি বা পরিমাপ বই পাওয়া যায়নি। দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন
সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি বড় আকারের অনিয়ম আবিষ্কার করেছে। প্রকল্পের মূল কাজ থেকে অনুমোদন ছাড়াই আটটি প্যাকেজে ভাগ করে ঠিকাদারদের প্রায় ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে, যেখানে চারটি প্যাকেজের কাজের কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন প্রকল্পে ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হলেও ৪টি প্যাকেজের কাজের কোনো ভৌত অস্তিত্ব নেই
- 📌 চারটি প্যাকেজের জন্য কোনো চুক্তি বা পরিমাপ বই পাওয়া যায়নি, অথচ বিল পরিশোধ করা হয়েছে
- 📌 দুদক সূত্রে জানা গেছে, ১ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্যাকেজের দরপত্র অনুমোদন নিয়মের বাইরে করা হয়েছিল
- 📌 তৎকালীন ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে প্রাথমিকভাবে দায়ী করা হয়েছে
- 📌 প্রকল্পের মোট ব্যয় ২ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে ডব্লিউ-১ প্যাকেজের মূল্য ১ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা
📰 বিস্তারিত
দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪ কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রকল্পের নথিপত্র সংগ্রহ করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রকল্পের মূল কাজকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আটটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে। এসব প্যাকেজের বিপরীতে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল দেওয়া হলেও কাজের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেকর্ড ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের মোট ব্যয় ২ হাজার ৭৯৫ কোটি ৮৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রকল্পের মূলধন ব্যয়ের ‘অনাবাসিক ভবন’ খাতে ডব্লিউ-১ প্যাকেজের কাজ কেন্দ্রীয় সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নিয়ে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে (এনডিইএল) দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর দেওয়া ওই কার্যাদেশের মূল্য ছিল ১ হাজার ৫৫৭ কোটি ৪ লাখ টাকা।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ডিপিপি, সংশোধিত ডিপিপি (আরডিপিপি) কিংবা ক্রয়কারী সংস্থার প্রধানের (হোপ) অনুমোদন ছাড়াই মূল কাজকে আটটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে। আইবাস প্লাস প্লাসের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্যাকেজে প্রায় ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। দুদকের হিসাবে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৬ কোটি ৩১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।
"আটটি প্যাকেজের মধ্যে রাশা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে দেওয়া প্যাকেজটির মূল্য ছিল ১ কোটি ৯৪ হাজার টাকা। অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের এই প্যাকেজটিই ছিল সর্বোচ্চ মূল্যের।"
দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়েছে ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর প্যাকেজে। এসব প্যাকেজের কাজের কোনো ভৌত অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কাজের পক্ষে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্র এবং পরিমাপ বইও পাওয়া যায়নি। অন্য চারটি প্যাকেজ-১, ২, ৩ ও ৮-এর ক্ষেত্রে কিছু কাজের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, তবে সেসব কাজ মূল ঠিকাদার এনডিইএলই করেছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাইদুর রহমান খান (দুদক সচিব), মো. সাইফুজ্জামান (তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা (বিল পরিশোধ), ৪টি প্যাকেজের কাজের অস্তিত্ব নেই, ২ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা (মোট প্রকল্প ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!