📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাড়ে ১৫ বছরের শিক্ষক নিয়োগ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনিয়ম শনাক্তের পাশাপাশি ভবিষ্যতের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগে দলীয় প্রভাব, অর্থ লেনদেন ও আত্মীয়তার অভিযোগ রয়েছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি সাড়ে ১৫ বছরের শিক্ষক নিয়োগ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পর্যালোচনার জন্য সহ-উপাচার্যকে (শিক্ষা) আহ্বায়ক করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের বর্তমান ডিন যুক্ত রয়েছেন। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত নিয়োগ পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে
- 📌 নিয়োগ পর্যালোচনার জন্য সহ-উপাচার্য (শিক্ষা)কে আহ্বায়ক করে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন
- 📌 কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের বর্তমান ডিন যুক্ত
- 📌 নিয়োগে দলীয় প্রভাব, অর্থ লেনদেন ও আত্মীয়তার অভিযোগ রয়েছে
- 📌 নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা প্রায় ক্ষেত্রেই সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ
📰 বিস্তারিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সম্প্রতি একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে ১৫ বছরে যেসব শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পর্যালোচনার জন্য সহ-উপাচার্যকে (শিক্ষা) আহ্বায়ক করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদের বর্তমান ডিন যুক্ত রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রায়ই অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে। বিভিন্ন সময়ে পত্রপত্রিকা ও গণমাধ্যমে এসব অনিয়মের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে নিয়োগ বোর্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বঞ্চিত প্রার্থীরা কখনো সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ তুললেও তা আর এগোয় না। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দুদক কিছু অনুসন্ধান চালালেও সেগুলোকে রাজনৈতিক আক্রোশমূলক বলেই মনে করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পর্যালোচনা ভবিষ্যতের নিয়োগকর্তাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ধরনের পর্যালোচনা সব বিশ্ববিদ্যালয়েই নিয়মিত হওয়া উচিত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ইউজিসির তত্ত্বাবধানে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরীক্ষা কমিটি থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব ধরনের নিয়োগপ্রক্রিয়াতেই স্বচ্ছতা আসবে বলে তারা মত দিয়েছেন।
"নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনের একটি অংশ রীতিমতো সিন্ডিকেটের মতো সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। বিশেষ করে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে এমনটি হয়ে থাকে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপকভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া যায়।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগে দলীয় প্রভাব, অর্থ লেনদেন ও আত্মীয়তার অভিযোগ রয়েছে। একই পরিবারের কয়েকজন সদস্য একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করতে দেখা যায়। উপাচার্য বা প্রশাসনিক কর্মকর্তা বদলের সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্ট জেলার লোকজনকে বেশি নিয়োগ পেতে দেখা যায়। ইউজিসির বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে বা নিয়োগ দিতে দেখা যায়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কথাও প্রার্থীরা জানিয়েছেন।
নিয়োগ বোর্ডে থাকা শিক্ষকের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়োগে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় নিয়েও নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রার্থীর দলীয় পরিচয় নিয়োগের সময় বিবেচনা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের উচ্চপদস্থ নেতাদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ তদবিরেও নিয়োগ পেতে দেখা গেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সহ-উপাচার্য (শিক্ষা), অনুষদীয় ডিনগণ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!