📌 নেপালের ভূমিধস ও বন্যায় মার্কিন নারী অঞ্জনা রাজা ও তাঁর স্বামী জীবন বাঁচাতে বাস থেকে দৌড়ে পালানোর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। ভূমিধসের সময় বাসের চালকসহ যাত্রীরা দৌড় শুরু করলে তাঁরা প্রাণপণে উঁচুতে ওঠেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে
নেপালের ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে জীবন বাঁচাতে প্রাণপণ দৌড়েছিলেন মার্কিন নারী অঞ্জনা রাজা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার দুই সন্তানের মা অঞ্জনা স্বামী পট্টবীরামন ভেঙ্কটেশনের সঙ্গে মাউন্ট কৈলাসের আধ্যাত্মিক যাত্রা শেষ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু চলতি মাসের ২৬ আগস্টের ভূমিধস ও বন্যায় তাঁদের সেই যাত্রা পরিণত হয় জীবন বাঁচানোর এক লড়াইয়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার দুই সন্তানের মা অঞ্জনা রাজা নেপালের ভূমিধস ও বন্যায় জীবন বাঁচাতে প্রাণপণ দৌড়েছিলেন
- 📌 ২৬ আগস্ট ভূমিধসের সময় বাসের চালক ও সামনের কয়েকজন যাত্রী হঠাৎ দৌড় শুরু করলে অঞ্জনা ও তাঁর স্বামী বাস থেকে নেমে পালান
- 📌 ভূমিধসের সময় কাদামাটির স্রোত ছিল প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ফুট উঁচু, যা তাঁদের দিকে ধেয়ে আসছিল
- 📌 অঞ্জনা বলেন, ‘পানি আর কাদামাটির মিশ্রণটি সাপের মতো দাঁড়িয়ে ছিল, মনে হচ্ছিল কোবরা ফণা তুলে তাকিয়ে আছে।’
- 📌 ভূমিধস ও বন্যায় নেপাল ও চীনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে এখন পর্যন্ত ৭৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে
📰 বিস্তারিত
কৈশোর থেকেই নেপালের মাউন্ট কৈলাসে আধ্যাত্মিক যাত্রার স্বপ্ন দেখতেন অঞ্জনা রাজা। চলতি মাসে স্বামীর সঙ্গে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে নেপালে যান তিনি। কিন্তু ২৬ আগস্টের ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় তাঁদের সেই যাত্রা পরিণত হয় জীবন বাঁচানোর এক লড়াইয়ে। মার্কিন গণমাধ্যম এবিসি নিউজকে অঞ্জনা জানান, সেদিন চীনা সীমান্তের দিকে একটি বাসে যাওয়ার সময় হঠাৎ চালক ও সামনের কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নেমে দৌড়াতে শুরু করেন।
এ সময় অঞ্জনা দেখেন, বিশাল এক কাদামাটির স্রোত তাঁদের বাসের দিকে ধেয়ে আসছে। তিনি বলেন, ‘পানি আর কাদামাটির মিশ্রণটি ছিল প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ফুট উঁচু। সাপের মতো দাঁড়িয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। মনে হচ্ছিল, কোবরা সাপ ফণা তুলে তাকিয়ে আছে।’ পরিস্থিতি বুঝতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি অঞ্জনা। তিনি স্বামীর কলার ধরে তাঁকে বাস থেকে বেরিয়ে দৌড়ানোর জন্য বলেন।
অঞ্জনা বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, এখনই বাস থেকে বের হও, না হলে আমরা মারা যাব।’ অঞ্জনা, তাঁর স্বামী ও অন্য যাত্রীরা বাসের পাশের একটি ক্যাম্পের দিকে ছুটে গিয়ে সেখান থেকে আরও উঁচু জায়গায় ওঠার চেষ্টা করেন। চারদিকে তখন কাদা-পানি। কোনো পথপ্রদর্শক ছিল না। পাথর পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় উঠতেও হচ্ছিল অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু প্রাণপণে দৌড়েছি। কোন দিকে যাচ্ছি, তা-ও জানতাম না।’
‘পাথরের ওপর দিয়ে উঠছিলাম, সবকিছু পিচ্ছিল ছিল। শুধু জীবন বাঁচানোর জন্য দৌড়েছি।’
ক্যাম্পের দ্বিতীয় স্তরে পৌঁছানোর পর অঞ্জনা দেখেন, বন্যার পানি তাঁদের বাসটিকেও ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তাঁরা ক্যাম্পের তৃতীয় স্তরে উঠে নিরাপদে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে তাঁরা দেখেন, প্রচণ্ড গর্জনে পানির স্রোত বাস, এসইউভি, বিভিন্ন বস্তু এমনকি মানুষকেও ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপালের মাউন্ট কৈলাস অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অঞ্জনা রাজা (মার্কিন নারী), পট্টবীরামন ভেঙ্কটেশ্বর (তাঁর স্বামী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: মৃত্যু ৭৫০ জন, ভূমিধসের উচ্চতা ৫০-৬০ ফুট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!