📌 বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহ সংকটের মূল কারণ স্বল্প উৎপাদন ও আমদানিনির্ভরতা। ২০১৬-১৭ সালে যেখানে উৎপাদন ছিল ২৭০ কোটি ঘনফুট, তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৫০ কোটি ঘনফুটে। নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে ব্যর্থতার কারণে সরকারকে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হচ্ছে।
বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে গ্যাস সরবরাহে স্বল্পতা চিহ্নিত করেছে বিশেষজ্ঞরা। এই ঘাটতি হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি; ২০১১-১২ সাল থেকেই পেট্রোবাংলা গ্যাস আমদানিনির্ভর পরিকল্পনা গ্রহণ করে আসছে। ২০১৬-১৭ সালে নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন ছিল ২৭০ কোটি ঘনফুট, যা এখন কমে প্রায় ১৫০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। এ অবস্থায় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১৬-১৭ সালে নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন ছিল ২৭০ কোটি ঘনফুট, যা এখন কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫০ কোটি ঘনফুটে
- 📌 বিগত আওয়ামী লীগ সরকার নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে গুরুত্ব না দিয়ে আমদানিনির্ভর হয়ে উঠেছিল
- 📌 মহেশখালীতে মাত্র দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থাকায় আমদানি সক্ষমতা সীমিত
- 📌 প্রতিবছরই ১০০ থেকে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন কমছে
- 📌 প্রতিদিন প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চুরি হচ্ছে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে
📰 বিস্তারিত
বিগত সরকারের আমদানিনির্ভর গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা এখন চরম সংকটের মুখোমুখি। নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদনে ব্যর্থতার কারণে সরকারকে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ও ল্যান্ড-বেজড রিগ্যাসিফিকেশন প্ল্যান্ট স্থাপনের মতো পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়েছিল। তবে মহেশখালীতে মাত্র দুটি এফএসআরইউ থাকায় অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, নিজস্ব উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগগুলোও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।
গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকার মূলত ‘বাপেক্স অনলি’ নীতি অনুসরণ করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিবছরই ১০০ থেকে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন কমছে। এই প্রবণতা রোধে আরও আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাপেক্সের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা ও কারিগরি বিশ্লেষণ যথেষ্ট নয়। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞ কোম্পানির পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরি।
এছাড়া শেভরনের মতো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে সফলতার সঙ্গে গ্যাস উৎপাদন করে আসছে। তাদের অভিজ্ঞতা ও অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের ফল পেতে ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে। ফলে বর্তমান সংকট মোকাবিলায় বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ বিবেচনা করতে হবে।
"গ্যাস চুরি বন্ধ করা সম্ভব হলে প্রকৃত ব্যবহারকারীদের সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো সম্ভব হবে। তবে সমস্যাটি এত ব্যাপক যে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো দ্রুত পুনঃসংযোগ করা হয়। তাই ধারাবাহিক নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে গ্যাস চুরি ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিশেষজ্ঞরা, সরকার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭০ কোটি ঘনফুট, ১৫০ কোটি ঘনফুট, ১০০-২০০ মিলিয়ন ঘনফুট, ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!