📌 চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বাসিন্দা আবদুল ছবুর বজ্রপাতে তার ছেলের বন্ধুর মৃত্যুর পর ২১ হাজার তালবীজ রোপণ করেছেন। তিনি বজ্রপাত কমাতে পরিবেশের পাশাপাশি জীবন রক্ষায় তালগাছের গুরুত্ব বুঝে নিজ উদ্যোগে এই কাজ শুরু করেছেন
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় রায়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল ছবুরের জীবনে একদিন বজ্রপাতের শিকার বন্ধুর মৃত্যু ঘটে। সেই দুঃখজনক ঘটনার পর তিনি বজ্রপাত কমাতে পরিবেশের পাশাপাশি জীবন রক্ষায় তালগাছের গুরুত্ব বুঝে নিজ উদ্যোগে ২১ হাজার তালবীজ রোপণ করেছেন। বর্তমানে তিনি ৩০ হাজার তালবীজ রোপণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২১ সালের ১৫ অক্টোবর বজ্রপাতে ছেলের বন্ধু মো. ফোরকান (১৯) মৃত্যুবরণ করেন আবদুল ছবুরের চোখের সামনে। তার ছেলে মো. আরিয়ান (১৯) বেঁচে গিয়েছিলেন।
- 📌 বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে তালগাছের কার্যকারিতা বুঝে আবদুল ছবুর নিজের টাকায় ২১ হাজার তালবীজ রোপণ করেছেন। লক্ষ্য ৩০ হাজার।
- 📌 গাজীপুর ও চট্টগ্রামের নার্সারি থেকে তিন থেকে পাঁচ টাকায় প্রতিটি বীজ কিনে তিনি রোপণ করছেন। গত বছর ১৩ হাজার বীজ লাগিয়েছিলেন, কিন্তু সঠিক পদ্ধতি না জানায় অর্ধেক বীজ থেকে চারা গজায়নি।
- 📌 আনোয়ারা উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সরওয়ার আলম বলেছেন, তালগাছ বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে কার্যকরী এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- 📌 আবদুল ছবুরের মোটর ওয়ার্কশপ রয়েছে চট্টগ্রাম নগরে। তিনি ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় এবং নিজের টাকায় এই উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
📰 বিস্তারিত
২০২১ সালের ১৫ অক্টোবর বিকেলে সমুদ্রসৈকতে ফুটবল খেলছিল একদল কিশোর। বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার কারণে আবদুল ছবুর তার ছেলেকে আনতে গেলেন। সেই সময় তার ছেলের বন্ধু মো. ফোরকান (১৯) বজ্রপাতে মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনা দেখে আবদুল ছবুর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এরপর তিনি বজ্রপাত কমাতে তালগাছের গুরুত্ব বুঝে নিজ উদ্যোগে তালবীজ রোপণের সিদ্ধান্ত নেন।
আবদুল ছবুরের বয়স প্রায় ৪০ বছর। তিনি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা এলাকার বাসিন্দা। বজ্রপাতের ঘটনা থেকে তিনি বজ্রপাত কমাতে তালগাছের কার্যকারিতা জানতে পারেন। তাই তিনি নিজের ইউনিয়নের প্রতিটি রাস্তায় তালবীজ রোপণের উদ্যোগ নেন। বর্তমানে তিনি ২১ হাজার তালবীজ রোপণ করেছেন এবং ৩০ হাজার বীজ রোপণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।
তিনি চট্টগ্রামের নগরের বিভিন্ন ফলের আড়ত ও গাজীপুর জেলার নার্সারি থেকে তিন থেকে পাঁচ টাকায় প্রতিটি বীজ কিনে রোপণ করছেন। গত বছর তিনি ১৩ হাজার বীজ কিনে লাগিয়েছিলেন, কিন্তু সঠিক পদ্ধতি না জানায় অর্ধেক বীজ থেকে চারা গজায়নি। এ বছর সঠিক নিয়মে বীজ লাগানোর চেষ্টা করছেন। তিনি নিজের টাকায় এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এলাকার আটজন স্বেচ্ছাসেবীর সহায়তায় কাজ করছেন।
আনোয়ারা উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সরওয়ার আলম বলেছেন, ‘তালগাছ বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে বিশেষভাবে কার্যকরী। এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’ অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক অলক পাল বলেছেন, ‘তালগাছ বজ্রপাত নিরোধে কার্যকরী—এটি বৈজ্ঞানিকভাবে খুব বেশি প্রমাণিত নয়। তবে তালগাছের উচ্চতা ও গঠনগত দিক থেকে এটিকে বজ্রপাত নিরোধে সহায়ক মনে করা হয়।’
"বৃষ্টি হওয়ায় আমি আমার ছেলেকে আনতে গিয়েছিলাম। আমার চোখের সামনে ফোরকানকে মরে যেতে দেখেছি। আমি ও আমার ছেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। এরপর বজ্রপাত কমাতে তালবীজ লাগানোর উদ্যোগ নিই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আনোয়ারা উপজেলা, চট্টগ্রাম; উপকূলীয় রায়পুর ইউনিয়ন, গহিরা এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুল ছবুর (৪০), মো. আরিয়ান (১৯), মো. ফোরকান (১৯), সরওয়ার আলম (উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা), অলক পাল (অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২১ হাজার (রোপিত তালবীজ), ৩০ হাজার (লক্ষ্য), ১৫ অক্টোবর ২০২১ (বজ্রপাতের ঘটনা), ১৩ হাজার (গত বছরের বীজ), ৩-৫ টাকা (প্রতি বীজের মূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!