📌 ফেরদৌসী রহমানের আত্মচরিত 'লোকে বলে প্রেম, আমি বলি জ্বালা' বাংলা সংগীতের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক দলিল। ৭০ বছরের শিল্পীজীবনের স্মৃতি, বিশ্বভ্রমণ, শিল্পী-সাহিত্যিকদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাগুলো এই বইয়ে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।
বাংলা সংগীতের অন্যতম জীবন্ত কিংবদন্তি ফেরদৌসী রহমানের আত্মচরিত ‘লোকে বলে প্রেম, আমি বলি জ্বালা’ বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই ২৫৬ পৃষ্ঠার গ্রন্থে লেখিকা প্রায় সাত দশক ধরে সংগীত ও শিল্পীজীবনের অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা এবং বিশ্বভ্রমণের স্মৃতি সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লেখিকা ফেরদৌসী রহমানের বাবা ছিলেন প্রখ্যাত লোকসংগীতশিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদ, কিন্তু মায়ের সেতারবাদন ও গানের অবদান তাঁর জীবনে বেশি প্রভাবশালী ছিল
- 📌 গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে শৈশবে কলের গান থেকে শুরু করে সিনেমা, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, ওস্তাদদের কাছে তালিম নেওয়া এবং পাকিস্তান-ভারতের শিল্পীদের সঙ্গে বন্ধুত্বের কাহিনি
- 📌 লেখিকা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে (লন্ডন, জাপান, কানাডা, মরিশাস) গান শেখান, পরিবেশন করেছেন এবং প্রতিটি দেশের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য অবলোকন করেছেন
- 📌 বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘এসো গান শিখি’ স্কুলের মাধ্যমে শিশুশিক্ষায় অবদান এবং শিল্পীজীবনের বিভিন্ন বিষাদ ও জ্বালার কাহিনি
- 📌 ‘লোকে বলে প্রেম, আমি বলি জ্বালা’ শিরোনামের মাধ্যমে লেখিকা শিল্পীদের আত্মকেন্দ্রিকতা ও তাদের অভিজ্ঞতাগুলোকে সার্থকভাবে তুলে ধরেছেন
📰 বিস্তারিত
ফেরদৌসী রহমানের আত্মচরিত ‘লোকে বলে প্রেম, আমি বলি জ্বালা’ বাংলা সংগীতের ইতিহাসের একটি অনন্য দলিল। এই গ্রন্থে লেখিকা তাঁর শৈশব থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, শিল্পীজীবনের বিভিন্ন পর্যায় এবং সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাগুলোকে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। বইটির সূচনায় তাঁর পরিবারের বন্ধন, শিল্পী হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণের কাহিনি এবং ঢাকার পুরোনো সংস্কৃতি যেমন বুড়িগঙ্গার তীরের জীবন, ঘোড়ার গাড়ি, পয়লা বৈশাখ ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।
লেখিকা তাঁর শৈশবে কলের গান শুনতে শুনতে বেড়ে ওঠেন। তাঁর বাবা আব্বাসউদ্দীন আহমদ হলেও মায়ের সেতারবাদন ও গানের প্রভাব তাঁর জীবনে বেশি ছিল। এই গ্রন্থে তিনি স্বীকার করেছেন, ‘বাবা থেকে মায়ের অবদানই আমার জীবনে বেশি’। তাঁর শিল্পীজীবনের শুরুতে কামরুল হাসানের কাছে ব্রতচারী নৃত্য এবং জ্ঞানেন চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন ওস্তাদের কাছে তালিম নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বভ্রমণের অভিজ্ঞতা এই বইয়ের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তরুণ বয়সেই শিল্পী হিসেবে খ্যাতি পেয়ে লাহোর ও করাচিতে রেকর্ডিং করতে গিয়ে পাকিস্তান ও ভারতের তৎকালীন শিল্পীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়। বাবার সঙ্গে রেঙ্গুনযাত্রা, ইউনেসকোর আমন্ত্রণে ওস্তাদ আমির খাঁর কাছে তালিমের সুযোগ হাতছাড়া হওয়া এবং লন্ডনের ট্রিনিটি কলেজে পাশ্চাত্য সংগীত বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণের কাহিনি এই গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাঁর গান শেখান ও পরিবেশনার অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্য। সিডনির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলার লোকসংগীত সম্পর্কে পাঠদান, জাপানের কিয়োটো শহরের স্মৃতি, মরিশাসের অনুপম শহর এবং কানাডার টরন্টোর আতিথেয়তা এই গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। প্রতিটি দেশের সামাজিক, নৃতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলো অবলোকন করে লেখিকা তাঁর অভিজ্ঞতাগুলোকে সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন।
"শিল্পীরা যে ভীষণ আত্মকেন্দ্রিক হয়, এটা আমরা সবাই জানি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, লন্ডন, লাহোর, করাচি, জাপান, কানাডা, মরিশাস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফেরদৌসী রহমান, আব্বাসউদ্দীন আহমদ, কামরুল হাসান, ওস্তাদ আমির খাঁ
- 📖 বইয়ের নাম: ‘লোকে বলে প্রেম, আমি বলি জ্বালা’
- 📖 পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!