📌 সিলেটে প্রায় তিন লাখ হেক্টর অনাবাদি জমিকে সেচের আওতায় আনতে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৭ হাজার হেক্টর জমি চাষের জন্য প্রস্তুত করা হবে এবং ৫০০টি ডিজেল পাম্প সৌরশক্তিতে রূপান্তরিত হবে। প্রকল্পের আওতায় খাল-নালা সংস্কার ও জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
সিলেট বিভাগে প্রায় তিন লাখ হেক্টর অনাবাদি জমিকে সেচের আওতায় আনতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) বড় উদ্যোগ নিচ্ছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার হেক্টর জমিকে ধাপে ধাপে চাষের জন্য প্রস্তুত করা হবে। পাশাপাশি বিভাগের ৫০০টি ডিজেলচালিত পাম্প সৌরশক্তিতে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিলেটে প্রায় তিন লাখ হেক্টর জমি বিভিন্ন মৌসুমে অনাবাদি থাকে, এর মধ্যে ১৭ হাজার হেক্টর জমিকে সেচের আওতায় আনতে হবে
- 📌 বর্ষার পানি সংরক্ষণ ও অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল-নালা ও পাহাড়ি ছড়া পুনঃখনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে
- 📌 খাল-নালা সংস্কারের মাধ্যমে বোরো মৌসুমে ৮ হাজার ১৫০ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে, যা অতিরিক্ত ২৪ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি করবে
- 📌 ৩৬৭ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণ ও ১৭৬ কিলোমিটার পুরাতন নালা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বোরো মৌসুমে আরো ৭ হাজার ৮৬৯ হেক্টর জমি আধুনিক সেচের আওতায় আসবে
- 📌 ৫০০টি ডিজেল পাম্প সৌরশক্তিতে রূপান্তরিত হলে বছরে প্রায় ২৬২ টন ডিজেল ও ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা জ্বালানি ব্যয় সাশ্রয় হবে
- 📌 হাওরাঞ্চলে পানি নিষ্কাশন ও বর্ষার পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যা শুষ্ক মৌসুমে সেচে ব্যবহার করা যাবে
- 📌 ক্ষুদ্র ও মধ্যমাকার সেচ অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে আরো ১ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা বাড়ানো হবে
- 📌 কৃষকদের উৎপাদন-পরবর্তী সুবিধা বাড়াতে ধান মাড়াই ও শুকানোর জন্য থ্রেসিং ফ্লোর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে
📰 বিস্তারিত
সিলেটের কৃষিতে পানি ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ। বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আবার শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সঙ্কটে অনেক জমি অনাবাদি থাকে। এই সমস্যা মোকাবেলায় বিএডিসির ‘সিলেট বিভাগে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি’ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন এলাকায় খাল, নালা ও পাহাড়ি ছড়া খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্ষার পানি সংরক্ষণ ও অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে সেচ চাহিদা মেটানো হবে।
বিএডিসির সেচ প্রকল্প পরিচালক প্রণজিত কুমার দেব জানান, “সিলেট বিভাগে বিভিন্ন মৌসুমে প্রায় তিন লাখ হেক্টর জমি অনাবাদি থাকে। এসব জমি চাষের আওতায় আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতোমধ্যে সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে বাকি জমিও সেচের আওতায় আনা হবে।”
খাল-নালা সংস্কারের মাধ্যমে বোরো মৌসুমে আট হাজার ১৫০ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে, যা অতিরিক্ত প্রায় ২৪ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি করবে। এছাড়া ৩৬৭ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণ ও ১৭৬ কিলোমিটার পুরাতন নালা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বোরো মৌসুমে আরো সাত হাজার ৮৬৯ হেক্টর জমি আধুনিক সেচের আওতায় আসবে। এতে অতিরিক্ত প্রায় ২৩ হাজার ৬০৮ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
"সিলেট বিভাগে বিভিন্ন মৌসুমে প্রায় তিন লাখ হেক্টর জমি অনাবাদি থাকে। এসব জমি চাষের আওতায় আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতোমধ্যে সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিলেট বিভাগ, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রণজিত কুমার দেব (বিএডিসি সেচ প্রকল্প পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ লাখ হেক্টর (অনাবাদি জমি), ১৭ হাজার হেক্টর (সেচের আওতায় আসবে), ৫০০টি (ডিজেল পাম্প), ২৬২ টন (ডিজেল সাশ্রয়), ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা (জ্বালানি সাশ্রয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!