📌 ভারতের আসাম হাইকোর্ট মমতাজ বেগমকে বিদেশি ঘোষণা করে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর ঘটনায় আসাম সরকারকে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে আদেশ দিয়েছে। আদালত আরও বলেছে, বাংলাদেশে নারীর খোঁজ খবর নেওয়া এবং ভারত ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে
ভারতের আসাম হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ মমতাজ বেগমকে বিদেশি ঘোষণা করে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর ঘটনায় আসাম সরকারকে ২ লাখ টাকা অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ধরনের ঘটনায় রাষ্ট্রের ওপর ক্ষতিপূরণ আরোপের এটাই প্রথম ঘটনা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আসাম হাইকোর্টের বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা ও সুস্মিতা ফুকন খান্ডের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ মমতাজ বেগমের স্বামী মুজাম্মেল হককে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে আদেশ দিয়েছেন।
- 📌 আদালত বাংলাদেশে মমতাজ বেগমের খোঁজ খবর নেওয়ার এবং ভারত ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
- 📌 আসামের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল মমতাজ বেগমকে বিদেশি ঘোষণা করে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর ঘটনায় আইনি বিদ্বেষের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে আদালত উল্লেখ করেছে।
- 📌 আদালত উল্লেখ করেছে, মমতাজ বেগমকে ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার অধিকার প্রয়োগে রাষ্ট্রযন্ত্র বাধা দিয়েছে।
- 📌 ট্রাইব্যুনালের কর্মকাণ্ডে ‘আইনের দৃষ্টিতে বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্যের’ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে বিচারকরা পর্যবেক্ষণ করেছেন।
📰 বিস্তারিত
৩ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটি হাইকোর্টের বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা ও সুস্মিতা ফুকন খান্ডের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ মমতাজ বেগমের স্বামী মুজাম্মেল হকের হেবিয়াস করপাস আবেদনের শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত নেন। মমতাজ বেগমকে বিদেশি ঘোষণা করে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর ঘটনায় এই আদেশটি আসাম সরকারের বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো ক্ষতিপূরণ আরোপের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
মমতাজ বেগমের মামলার নথি অনুযায়ী, আসামের নগাঁওয়ের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল গত ৩০ মে মমতাজ বেগমকে বিদেশি ঘোষণা করে। আদালত উল্লেখ করেছে যে, এই পদক্ষেপে স্পষ্ট ‘আইনি বিদ্বেষ’ প্রকাশ পেয়েছে। ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মমতাজের স্বামী মুজাম্মেল হক হেবিয়াস করপাস আবেদন করেন। তবে, আদালতে আবেদন করার সুযোগ পাওয়ার আগেই মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিচারপতিরা উল্লেখ করেছেন, মমতাজ বেগমের ক্ষেত্রে অনুসরণ করা প্রক্রিয়া বিদেশি নাগরিকদের বহিষ্কারসংক্রান্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরের (এসওপি) ‘সরাসরি লঙ্ঘন’। এসওপি অনুযায়ী, কাউকে বহিষ্কারের আগে তাঁর আইনি প্রতিকার পাওয়ার সব সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। আদালত বলেছে, রাষ্ট্রযন্ত্রই মমতাজ বেগমকে ট্রাইব্যুনালের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাওয়ার অধিকার প্রয়োগে বাধা দিয়েছে।
আদালত আরও উল্লেখ করেছে যে, এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ানি আদালতে আরও ক্ষতিপূরণ চাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর অধিকার খর্ব করবে না। এটি অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হবে। গত ৩০ মের ট্রাইব্যুনাল আদেশটি প্রস্তুত করার সময়সূচী সম্পর্কে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেছে, মতামতটি কখন লেখা হয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনাল সদস্যের কম্পিউটার জব্দ করা যেতে পারে।
জেলা পুলিশ সুপারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনো ঘোষিত বিদেশি নাগরিককে হেফাজতে নেওয়ার আগে তাঁকে ট্রাইব্যুনালের আদেশ সম্পর্কে জানাতে হবে। কাউকে জেলা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আগে তাঁর পরিবারের একজন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকেও বিষয়টি জানাতে হবে।
"মমতাজ বেগমের মামলায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। আদালত মামলায় নগাঁওয়ের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের কর্মকাণ্ডে ‘আইনের দৃষ্টিতে বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্যের’ ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আসামের নগাঁও, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মমতাজ বেগম, মুজাম্মেল হক, বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা, বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খান্ড
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ লাখ টাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ৩০ মে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!