📌 দেশে ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েলের প্রায় ৩০% নিম্নমানের ও নকল, যা যন্ত্রপাতির ক্ষতি, অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি বায়ুদূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করছে। সংলাপে বিশেষজ্ঞরা নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন
দেশে ব্যবহৃত ইঞ্জিন অয়েলের প্রায় ৩০ শতাংশই নিম্নমানের ও নকল, যা যন্ত্রপাতির দ্রুত ক্ষতি, অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এই সমস্যার সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞরা নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ‘নিম্নমানের ইঞ্জিন অয়েলের প্রভাব: ঝুঁকিতে ইঞ্জিন, অর্থনীতি ও পরিবেশ’ শীর্ষক সংলাপে এই তথ্য উঠে এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দেশে বার্ষিক ইঞ্জিন অয়েলের চাহিদা ১ লাখ ৮০ হাজার টন, এর মধ্যে ২৫-৩০ শতাংশ নিম্নমানের ও নকল
- 📌 নিম্নমানের অয়েল ব্যবহারে ইঞ্জিনের আয়ু কমে যায়, মেরামত খরচ বেড়ে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়
- 📌 বায়ুদূষণ বাড়ছে, মাটি ও পানি দূষিত হচ্ছে পরিত্যক্ত অয়েলের কারণে
- 📌 বিএসটিআই ও বিইআরসি নজরদারি সক্ষমতা সীমিত, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি
- 📌 ঢাকার ৩০-৪০টি ছোট কারখানায় নকল অয়েল তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
দেশে ইঞ্জিন অয়েলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন। এর মধ্যে বৈধ কোম্পানিগুলো সরবরাহ করে মাত্র ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজার টন। বাকি ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বাজারে অবৈধ উৎপাদিত বা নকল পণ্য হিসেবে প্রবেশ করে। এই নিম্নমানের পণ্যগুলো অনেক সময় নামী ব্র্যান্ডের মোড়কে বিক্রি হয়, যা ব্যবহারকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সংলাপে বক্তারা জানান, নিম্নমানের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারে ইঞ্জিনের আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে যানবাহন ও শিল্পের যন্ত্রপাতি ঘন ঘন মেরামতের প্রয়োজন পড়ে। শিল্পকারখানার জেনারেটর বা মেশিনারি হঠাৎ বিকল হয়ে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় উদ্যোক্তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
বায়ুদূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির দিক থেকেও এই সমস্যা মারাত্মক। নিম্নমানের তেলে জ্বালানি সঠিকভাবে না পোড়ায় ক্ষতিকর গ্যাস ও অতিক্ষুদ্র কণার নির্গমন বেড়ে যায়। পরিত্যক্ত ইঞ্জিন অয়েল যত্রতত্র ফেলা মাটি ও পানি দূষিত করছে।
"দেশে লুব্রিকেন্ট ও ইঞ্জিন অয়েলের ব্যবসা ও উৎপাদনের জন্য বিইআরসির লাইসেন্স নিতে হয়। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা ও জনবলের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।"
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সদস্য (পেট্রোলিয়াম) ও বুয়েটের অধ্যাপক সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া বলেন, শুধু অভিযান চালিয়ে বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব নয়। তিনি লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত কাজের দাবি তুলেছেন।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক বলেন, বিএসটিআই ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারি চালায়, তবে হাজার হাজার উৎপাদক ও বিক্রেতার ওপর নিয়মিত নজরদারি করা কঠিন। তিনি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ইঞ্জিন অয়েলের সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে নজরদারি প্রয়োজন। এটি শুধু একক সংস্থার দায়িত্ব নয়, সমন্বিত সরকারি উদ্যোগের প্রয়োজন।
এমজেএল বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুকুল হোসেন বলেন, ঢাকার আশপাশে ৩০ থেকে ৪০টি ছোট কারখানায় ব্যবহৃত তেল প্রক্রিয়াজাত করে নকল তেল তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছে। তিনি নির্ভরযোগ্য পরিবেশক বা দোকান থেকে কেনার পরামর্শ দিয়েছেন এবং পণ্যে নিরাপত্তা সিল ও কিউআর কোড যুক্ত করার প্রস্তাব করেছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, কারওয়ান বাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, কাজী ইমদাদুল হক, মো. জহিরুল ইসলাম, মো. মুকুল হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ শতাংশ (নিম্নমানের অয়েল), ১ লাখ ৮০ হাজার টন (বার্ষিক চাহিদা), ৩০-৪০টি (নকল অয়েল কারখানা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!