📌 ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় ক্রসফায়ারে নিহত হন টিপু হাওলাদার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর স্ত্রী সুমা আক্তার স্বামীর হত্যার পিছনের ঘটনাবলী ও মানসিক চাপের কথা প্রকাশ করেছেন
২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় ক্রসফায়ারে নিহত হন বিএনপির রাজনৈতিক কর্মী টিপু হাওলাদার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ মঙ্গলবার তাঁর স্ত্রী সুমা আক্তার স্বামীর হত্যার পিছনের ঘটনাবলী ও ক্রসফায়ারের পূর্বাভাসের কথা প্রকাশ করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালের আগৈলঝাড়ার বাড়ি ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন টিপু হাওলাদার, কিন্তু ২১ ফেব্রুয়ারি ক্রসফায়ারে নিহত হন তিনি ও জাসাসের সম্পাদক কবির মোল্লা।
- 📌 সুমা আক্তার জানান, স্বামী টিপু ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে তাঁকে বলেছিলেন, ‘বরিশালে ক্রসফায়ার হয়েছে, আমার যদি কিছু হয়ে যায় তোমার ও আমার সন্তানদের কী হবে?’
- 📌 টিপু হাওলাদারকে ২০ ফেব্রুয়ারি ডিবি পুলিশ কেরানীগঞ্জ থেকে তুলে নিয়ে যায়, কিন্তু পুলিশ জানায় গ্রেপ্তারের কোনো তথ্য তাদের নেই।
- 📌 সুমা আক্তার জানান, স্থানীয় নেতারা তাঁকে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন, কিন্তু সেখানে তাঁকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি।
- 📌 ২১ ফেব্রুয়ারি টেলিভিশনের খবরে দেখে সুমা আক্তার জানতে পারেন, স্বামী ও কবির মোল্লা ক্রসফায়ারে নিহত হন। লোকমুখে জানা যায়, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও তৎকালীন পুলিশ সুপার এহসান উল্লাহ এই হত্যার পিছনে ছিলেন।
- 📌 মামলার চার আসামির মধ্যে মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন বর্তমানে কারাগারে, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও এহসান উল্লাহ পলাতক।
📰 বিস্তারিত
২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। তিনি বিএনপির রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন এবং স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতেন। এ কারণে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে তাদের দলে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিত। টিপু হাওলাদার স্নাতকোত্তর পাস ছিলেন এবং একটি এনজিও পরিচালনা করতেন।
সুমা আক্তার জানান, স্বামী তাঁকে বলেছিলেন, তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ তাঁকে একটি সভায় দেখা করতে বলেছেন। এ নিয়ে তিনি মানসিক চাপের মধ্যে থাকতেন। এক রাতে তিনি স্ত্রীকে বলেছিলেন, ‘বরিশালে ক্রসফায়ার হয়েছে, আমার যদি কিছু হয়ে যায় তোমার ও আমার সন্তানদের কী হবে?’ সুমা আক্তার স্বামীর পরামর্শে তাঁকে ঢাকায় চাকরির সন্ধানে যেতে বলেন।
২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে সুমা আক্তারের মামি ও আরেক আত্মীয় তাঁকে ফোন করে বলেন, ডিবি পুলিশ তাঁর স্বামীকে তুলে নিয়ে গেছে। ভোরে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান মর্তুজা খান, আওয়ামী লীগ নেতা সালেহ মোহাম্মদ লিটন ও রইস সেরনিয়াবাতসহ স্থানীয় নেতাদের কাছে যান। তাঁরা তাঁকে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে বরিশালে তাঁর বাসভবনে গেলেও দারোয়ান তাঁকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি।
২০ ফেব্রুয়ারি সারা দিন স্বামীর কোনো খোঁজ পাননি সুমা আক্তার। পরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে টেলিভিশনের খবরে দেখেন, স্বামী টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা ক্রসফায়ারে নিহত হন। কিছুদিন পরে তিনি লোকমুখে জানতে পারেন, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও তৎকালীন পুলিশ সুপার এহসান উল্লাহর নির্দেশে উজিরপুর থানার মাহাবুল ও জসিম এই ক্রসফায়ার দিয়েছেন।
"বরিশালে ক্রসফায়ার হয়েছে, আমার যদি কিছু হয়ে যায় তোমার ও আমার সন্তানদের কী হবে?" — টিপু হাওলাদার
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা, ঢাকা (কেরানীগঞ্জ), বরিশালের বাসভবন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুমা আক্তার (টিপু হাওলাদারের স্ত্রী), টিপু হাওলাদার, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, মাহাবুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!