📌 জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের বৈঠকে নমিনির পেনশন বয়সসীমা ৭৫ থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করা হয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু এবং সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির কর্মীদের 'প্রগতি' স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘোষণা করা হয়েছে। পেনশনার মৃত্যুর পর নমিনির পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা ৭৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করা হয়েছে। এছাড়াও শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু এবং সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির কর্মীদের 'প্রগতি' স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন পাবেন নমিনি — আগের ৭৫ বছর বয়সসীমা বাড়িয়ে ৮০ বছর করা হয়েছে।
- 📌 শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু — এডিবি ও স্থানীয় পরামর্শকদের সহায়তায় কাঠামো নির্ধারণ করা হচ্ছে।
- 📌 গভর্নমেন্ট কোম্পানির কর্মীদের 'প্রগতি' স্কিমে অন্তর্ভুক্ত — বর্তমানে পেনশন পান না এমন কর্মীদের আওতায় আনা হবে।
- 📌 পেনশন শুরু বয়স ৫৫ বছর প্রস্তাব — বর্তমান ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর বয়সে পেনশন দেওয়ার আলোচনা চলছে।
- 📌 পেনশন তহবিল থেকে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া — অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণ শেষে বাস্তবায়ন হবে।
- 📌 নিবন্ধন ফি বাড়ানো — ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে।
- 📌 পেনশন তহবিলের স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ — সরকারি ও বেসরকারি নিরীক্ষা চালু করা হবে।
📰 বিস্তারিত
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানান, পেনশনার নিজে আজীবন পেনশন পাবেন। তাঁর মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীকে ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা দেওয়া হবে। আগের বয়সসীমা ছিল ৭৫ বছর।
মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য আলাদা পেনশন ও আনুতোষিকের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির কর্মীদের এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। এ কারণে 'প্রগতি' স্কিমে তাদের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের 'প্রবাস' স্কিম সম্পর্কে জানানো ও নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিমের কাঠামো ও পরিচালনপদ্ধতি নির্ধারণে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও স্থানীয় পরামর্শকদের কাজ চলছে। অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণ শেষে আলাদা বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে। পেনশন শুরু বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর বয়সে দেওয়ার প্রস্তাব আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বাংলাদেশেও মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে, তাই এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করা হবে।
পেনশন তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারীদের ঋণ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পেনশন কর্মসূচির সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা চালুর বিষয়টিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে মুনাফা দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
বৈঠকে পেনশন গ্রহণকারীদের জন্য কিছু সুবিধা বদল করার প্রস্তাব ছিল। যেমন, পাঁচ বছর অর্থ জমা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক কারণে অক্ষম হয়ে পড়লে পেনশনগ্রহীতাকে বিশেষ বিবেচনায় অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। তবে এই প্রস্তাব পাস হয়নি।
"পেনশনার নিজে আজীবন পেনশন পাবেন। তাঁর মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীকে ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন–সুবিধা দেওয়া হবে। আগে এ সুবিধার বয়সসীমা ছিল ৭৫ বছর।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সচিবালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (মন্ত্রী), মো. সুরাতুজ্জামান (পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ বছর, ৭৫ বছর, ৬০ বছর, ৫৫ বছর, ৬৬ বছর, ৬৭ বছর, ১৫ টাকা, ২৫ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!