📌 নারায়ণগঞ্জে গ্যাস সরবরাহের চাপ বাড়ার ফলে শিল্পকারখানা ও গণপরিবহন খাতে উৎপাদন ও চলাচল স্বস্তিতে ফিরেছে। গতকাল থেকে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন ৭০-৮০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তবে শতভাগ উৎপাদনের জন্য আরও বেশি চাপের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস সরবরাহের চাপ বাড়ার ফলে শিল্পকারখানা ও গণপরিবহন খাতে স্বস্তি ফিরে এসেছে। গতকাল বুধবার থেকে গ্যাসের চাপ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, শতভাগ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের চাপ আরও বাড়ানো এবং সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার প্রয়োজন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের চাপ বাড়ায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন ৭০-৮০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে
- 📌 ৫০ পিএসআই লাইনে গ্যাসের চাপ ছিল মাত্র ৩ থেকে ৪ পিএসআই, যা উৎপাদনকে অর্ধেকে নেমে দিয়েছিল
- 📌 ফতুল্লা ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং মিলসের প্রধান প্রকৌশলী ফজলুল হক তুষার বলেন, ৮ পিএসআই চাপে ১৩ টন কাপড় উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে
- 📌 পরিবহন খাতে গ্যাসের চাপ বাড়ায় চালকরা বেশি পরিমাণ গ্যাস নিতে পেরেছেন, ফলে স্বস্তিতে গাড়ি চালানো সম্ভব হয়েছে
- 📌 বিকেএমইএর পরিচালক মিনহাজুল হক বলেছেন, শতভাগ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের চাপ আরও বাড়ানো দরকার
- 📌 মুন্সিগঞ্জের চকো আইসক্রিম ফ্যাক্টরি ২০ হাজার টাকা জরিমানা পেয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি ও বৈধ লাইসেন্স ছাড়া লোগো ব্যবহারের জন্য
📰 বিস্তারিত
গত মাসের বেশি সময় ধরে গ্যাস সংকটে ভোগার পর নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের চাপ বাড়ায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত ৫০ পিএসআই লাইনে গ্যাসের চাপ ছিল মাত্র ৩ থেকে ৪ পিএসআই। এতে কারখানাগুলোর উৎপাদন অর্ধেকেরও কমে যেতে শুরু করেছিল। গ্যাসের চাপ কম থাকায় প্রতিষ্ঠান পরিচালকরা সব মেশিন চালাতে পারতেন না। ফলে শ্রমিকদের অলস বসিয়ে রেখেই কারখানার কার্যক্রম চালাতে হতো। এতে মালিকদের লোকসান বাড়তে থাকে। অনেক কারখানা শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল।
গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ফতুল্লা ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং মিলসের প্রধান প্রকৌশলী ফজলুল হক তুষার বলেন, ‘আমাদের এত দিন উৎপাদন হয়েছিল মাত্র ৫০ শতাংশ। গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ উৎপাদন করা যাচ্ছে। বর্তমানে আমরা মেইন লাইনে ৮ পিএসআই চাপের গ্যাস পাচ্ছি। যদি এটি ১৫ পিএসআই পর্যন্ত উন্নীত হয়, তাহলে শতভাগ উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হবে। আমাদের প্রতিদিন ১৮ টন কাপড় প্রস্তুত করার সক্ষমতা রয়েছে। এত দিন ৮ থেকে ৯ টন কাপড় প্রস্তুত হতো। আজ আমরা ১৩ টনের মতো কাপড় প্রস্তুত করতে পেরেছি।’
গ্যাসের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন খাতে স্বস্তি ফিরেছে। এত দিন পাম্পে গ্যাস থাকলেও চাপ কম থাকায় চালকরা পর্যাপ্ত গ্যাস নিতে পারতেন না। অল্প পরিমাণ গ্যাস নিয়ে বারবার রিফুয়েলিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হতো। ফলে সময় অপচয় হতো বেশি এবং ভাড়া খাটতে পারত কম। গতকাল সকাল থেকে গ্যাসের চাপ বাড়ায় চালকরা গাড়িতে বেশি পরিমাণ গ্যাস নিতে পেরেছেন। ফলে স্বস্তি নিয়ে গাড়ি চালাতে পেরেছেন তাঁরা।
বিকেএমইএর পরিচালক মিনহাজুল হক বলেন, ‘গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের কারখানাগুলোতে উৎপাদন বেড়েছে। তবে সেটা শতভাগ নয়। শতভাগ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের চাপ আরও বাড়ানো এবং এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ থাকবে সরকারের কাছে।’
অপরদিকে, মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুরে অবস্থিত চকো আইসক্রিম ফ্যাক্টরি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আইসক্রিম তৈরি এবং বৈধ লাইসেন্স ছাড়া মোড়কে বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহারের দায়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর থেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা পেয়েছে।
"আমাদের এত দিন উৎপাদন হয়েছিল মাত্র ৫০ শতাংশ। গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ উৎপাদন করা যাচ্ছে। বর্তমানে আমরা মেইন লাইনে ৮ পিএসআই চাপের গ্যাস পাচ্ছি। যদি এটি ১৫ পিএসআই পর্যন্ত উন্নীত হয়, তাহলে শতভাগ উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ (মুক্তারপুর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফজলুল হক তুষার (প্রধান প্রকৌশলী), মিনহাজুল হক (বিকেএমইএর পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ পিএসআই, ৩-৪ পিএসআই, ৫০%, ৭০-৮০%, ৮ পিএসআই, ১৫ পিএসআই, ১৮ টন, ৮-৯ টন, ১৩ টন, ২০ হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!