📌 মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ব্যবহার ও সরকারের কাছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকার সহায়তা চাইতে হয়েছে। বিপিসির ১০ বছরের মুনাফা ৫৫ হাজার কোটি টাকা হলেও তারল্যসংকট দেখা দিয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি সরকারের কাছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জাহাজ ভাড়া ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে
- 📌 বিপিসিকে গত চার মাসে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন হিসেবে ব্যবহার করতে হয়েছে
- 📌 বিপিসির বিভিন্ন ব্যাংকে গচ্ছিত আমানত কমেছে এবং সংস্থাটি সরকারের কাছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা চেয়েছে
- 📌 বিপিসির ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে মুনাফা হয়েছে ৫৫ হাজার কোটি টাকা
- 📌 বিপিসির মুনাফার ৩৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটির দাবি
📰 বিস্তারিত
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শুধু সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করেনি; বৈশ্বিক জ্বালানিবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতাও তৈরি করেছে। যুদ্ধের কারণে শুধু জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম বাড়েনি; জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জাহাজ ভাড়া, যুদ্ধঝুঁকির বিমা, পরিবহন ব্যয়সহ অন্যান্য খরচও বেড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারকে তেল ও বিদ্যুতের দাম এক দফা বাড়াতে হয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতিতে তার প্রভাবও পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও প্রলম্বিত হলে জ্বালানির জন্য বাংলাদেশের ওপর আরও বড় চাপ তৈরি হবে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে বিপিসির নগদ অর্থের সংকটে পড়ার খবর উদ্বেগজনক। গত চার মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটিকে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন হিসেবে ব্যবহার করতে হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন ব্যাংকে গচ্ছিত বিপিসির আমানতও কমেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিপিসি এখন সরকারের কাছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা চেয়েছে। আর্থিক সংকটে জ্বালানি তেল আমদানি যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে জন্য সরকারকে আগেভাগেই যৌক্তিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
"সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি থাকলে কত বড় সংকট তৈরি হয়, সেটা আমরা মার্চ-এপ্রিল মাসে দেখেছি। ঢাকাসহ সারা দেশে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে হয়েছে। কৃষকেরা ঠিকমতো তেল না পাওয়ায় বোরো ধানের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়; লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন হয় কম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, মধ্যপ্রাচ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিপিসি কর্তৃপক্ষ, সরকার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ হাজার কোটি টাকা, ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা, ৫৫ হাজার কোটি টাকা, ৩৪ হাজার কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!