📌 জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান দুর্নীতির বৃদ্ধি ও চাঁদাবাজির কারণে জনজীবনের কষ্টের কথা উল্লেখ করে সরকারকে সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ না হলে কোনো সরকারি পরিকল্পনাই সফল হবে না
জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান দুর্নীতির মাত্রা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে সরকারকে সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘দোষী পালায়, অপরাধী পালায়, চোর পালায়, লুটেরা পালায়। কোনো সৎ মানুষ পালায় না। সৎ মানুষ দেশে থাকে’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দুর্নীতির বৃদ্ধি: জামায়াত আমির বলেন, দেশে দুর্নীতির মাত্রা আগের চেয়ে বেড়েছে এবং মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
- 📌 শিল্প উৎপাদন ৫০% কমেছে: জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প কারখানার উৎপাদন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নেমে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
- 📌 ব্যাংক ঋণ ও কর্মসংস্থান চ্যালেঞ্জ: জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পের উৎপাদন কমতে থাকলে মালিকদের ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখা কঠিন হবে।
- 📌 রাষ্ট্রপতি ফখরুলের সতর্কতা: শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে বলেছিলেন, চার-পাঁচ মাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি বরং দুর্নীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
- 📌 ভারত সম্পর্কে সতর্কতা: তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাইলে ভারতকে সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে হবে। সামনে পানি চুক্তি নবায়নের সময় আসছে, তাই শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে আলোচনা করতে হবে।
- 📌 শেখ হাসিনার সমালোচনা: তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যদি দেশের জনগণকে ভালোবাসতেন, তাহলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতেন না।
📰 বিস্তারিত
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান দুর্নীতির মাত্রা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে সরকারকে সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘দেশে দুর্নীতির মাত্রা আগের চেয়ে বেড়েছে এবং মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে’।
জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প কারখানার উৎপাদন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নেমে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পের উৎপাদন আরও কমতে থাকলে মালিকদের পক্ষে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ, কারখানা চালু রাখা এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে’।
প্রয়োজনে অন্য খাত থেকে কাটছাঁট করে শিল্প খাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ’। চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারকে আহ্বান জানান তিনি।
দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিতে লাগাম টানা না গেলে সরকারের কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না’। তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ আমাদের কাছে বলে, আপনাদের (সরকারের কাছে) কাছেও নিশ্চয় বলে- দুর্নীতির মাত্রা আগের থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা যদি আমরা লাগাম টেনে ধরতে না পারি, তাহলে যত পরিকল্পনাই আমরা নিই, কোনো পরিকল্পনাই আসলে সফলতার মুখ দেখবে না’।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেছিলেন, চার-পাঁচ মাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি; বরং দুর্নীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে’। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমার কথা নয়, এটা মহামান্য প্রেসিডেন্ট জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেবের কথা’।
বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাইলে ভারতকেও সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে হবে বলে তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতের অবদান অস্বীকার করি না। কিন্তু খুনিদের শুধু আশ্রয় দেওয়া নয়, তাদের রাজনৈতিক অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়ায় আমরা ব্যথিত ও দুঃখিত’। তিনি আরও বলেন, ‘সামনে পানি চুক্তি নবায়নের সময় আসছে। তাই এখন থেকেই শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে’। তিনি বলেন, ‘এখানে আলোচনা হবে, লড়াই হবে সমানে সমান’।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং দেশে ফেরার ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনা সত্যিই যদি দেশের জনগণকে ভালোবাসতেন, তাহলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতেন না। তিনি যদি বিশ্বাস করেন যে, এই দেশকে ভালোবাসেন, তাহলে মাটি কামড়ে থাকতেন। অপরাধ করলে অপরাধের শাস্তি নিতেন, না করলে নিজেকে পরিষ্কার করতেন’। তিনি বলেন, ‘দোষী পালায়, অপরাধী পালায়, চোর পালায়, লুটেরা পালায়। কোনো সৎ মানুষ পালায় না। সৎ মানুষ দেশে থাকে’।
"দোষী পালায়, অপরাধী পালায়, চোর পালায়, লুটেরা পালায়। কোনো সৎ মানুষ পালায় না। সৎ মানুষ দেশে থাকে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. শফিকুর রহমান (জামায়াত আমির)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ শতাংশ (শিল্প উৎপাদন কমে গেছে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!