📌 চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ট্রেজারি সিকিউরিটিজ থেকে মোট ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে পরিশোধ করা হয়েছে সাড়ে ৪৮ হাজার কোটি টাকা। ফলে সরকারের নিট ব্যাংকঋণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আগের ঋণের বিপরীতে সাড়ে ৪৮ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করেছে সরকার। ফলে সরকারের নিট ব্যাংকঋণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জুলাইয়ে সরকারি ট্রেজারি বিলের চারটি নিলামে মোট ৪৪ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ, যা আগের মাসের তুলনায় ৬ হাজার কোটি টাকা বেশি
- 📌 ট্রেজারি বিল থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা
- 📌 ট্রেজারি বন্ডের তিনটি নিলামে সরকার নিয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা, পরিশোধ করেছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা
- 📌 বন্ডে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা
- 📌 চলতি অর্থবছরে সরকারের সুদ পরিশোধের ব্যয় হতে পারে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে সরকারি ট্রেজারি বিলের চারটি নিলামের মাধ্যমে মোট ৪৪ হাজার কোটি টাকা তোলা হয়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় ৬ হাজার কোটি টাকা বা ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি। বিপরীতে একই মেয়াদি বিলের বিপরীতে ৩৯ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে ট্রেজারি বিল থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে ২ থেকে ২০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের তিনটি নিলামের মাধ্যমে সরকার জুলাইয়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। একই সময়ে পরিশোধ করেছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এতে বন্ডে নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বিল ও বন্ড মিলিয়ে মোট নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সরকারের আয়ের সক্ষমতার তুলনায় ব্যয় অনেক বেশি বলেই বেশি ঋণ নিতে হচ্ছে। আবার নতুন বেতনকাঠামোও চলতি অর্থবছরে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। যদিও রাজস্ব আদায় বাড়ানোর তেমন পদক্ষেপ নেই। ফলে সামনে সরকারের ব্যয় আরও বাড়বে। উচ্চ সুদহারের কারণে ঋণের ব্যয়ও বাড়ছে।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ না বাড়িয়ে শুধু সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ বাড়ানো অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য ইতিবাচক নয়। ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত। চাহিদা বাড়লেই ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, সরকারের চাহিদা অনুযায়ী ট্রেজারি বিল-বন্ডের মাধ্যমে ঋণের জোগান দেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব। তবে এ ঋণ কীভাবে পরিশোধ করা হবে, সেটি সরকারকেই ভাবতে হবে। রাজস্ব প্রত্যাশা অনুযায়ী না আসায় ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে বলেও জানান তিনি।
"সরকারের চাহিদা অনুযায়ী ট্রেজারি বিল-বন্ডের মাধ্যমে ঋণের জোগান দেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব। তবে এ ঋণ কীভাবে পরিশোধ করা হবে, সেটি সরকারকেই ভাবতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ড. জাহিদ হোসেন, সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, আরিফ হোসেন খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৬ হাজার কোটি টাকা, ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ, ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!