📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটের তিন তরুণ উদ্যোক্তা আমের খোসা থেকে তৈরি করছেন ‘ম্যাংগো পিল টি’ চা। কেজিপ্রতি চার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে এই চা, যা বর্জ্য থেকে মূল্যবান পণ্যে রূপান্তর করে কৃষকদের আর্থিক সুবিধা আনতে সাহায্য করছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় বর্জ্য আমের খোসা থেকে তৈরি হচ্ছে একটি অভিনব চা ‘ম্যাংগো পিল টি’। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিন তরুণ উদ্যোক্তা কৃষিপণ্যের অপচয় রোধের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের পথ খুলে দিচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভোলাহাটের ‘সবুজ খামার’ প্রতিষ্ঠান থেকে কেজিপ্রতি চার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে ‘ম্যাংগো পিল টি’ চা
- 📌 আমের খোসা থেকে তৈরি এই চায়ের স্বাদে চায়ের স্বাভাবিক গন্ধের পাশাপাশি আমের চমৎকার ঘ্রাণ পাওয়া যায়
- 📌 উদ্যোক্তা মো. মইনুল ইসলাম, মো. মিঠু এবং মাসুম পান্না বলেছেন, খোসা থেকে চা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির সমাধান করতে
- 📌 চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার আমচাষি রনি মিঞা বলেছেন, এই উদ্যোগ কৃষকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে
- 📌 স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আজিজের মতে, চায়ের বাজারে এই চার দারুণ চাহিদা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে
📰 বিস্তারিত
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার বজরাটেক এলাকায় ‘সবুজ খামার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেছেন উদ্যোক্তা মো. মইনুল ইসলাম, মো. মিঠু এবং মাসুম পান্না। এই প্রতিষ্ঠানে ড্রাই ম্যাংগো সহ আমের বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরি করা হয়। তবে আগে এই প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন আমের খোসাগুলো বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হতো।
মো. মইনুল ইসলাম জানান, খোসাগুলোকে কাজে লাগিয়ে মূল্যবান পণ্য তৈরি করার চিন্তা থেকে ‘ম্যাংগো পিল টি’ চা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি বলেন, “উচ্ছিষ্ট খোসাগুলোকে মূল্যবান পণ্যে রূপান্তর করে আমরা কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির সমাধান করতে চাইছি।”
আমচাষি পরিবারের সন্তান মো. মিঠু বলেন, “কৃষকরা আমের কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমের খোসা থেকে নতুন কিছু তৈরি করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছি। শুরুতে কিছু সংশয় ছিল, কিন্তু ক্রেতাদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার আমচাষি রনি মিঞা বলেন, “মৌসুমে আমের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় আমরা প্রায়ই লোকসান করি। তবে এই উদ্যোগ আমাদের আশাবাদী করছে। বাণিজ্যিকভাবে এটি সম্প্রসারিত হলে আমের খোসারও একটি বাজার তৈরি হবে, যা আমাদের বাড়তি আয়ের সুযোগ দেবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, “আমি নিজে এই চা পান করে দেখেছি। এতে চায়ের স্বাভাবিক স্বাদের পাশাপাশি আমের চমৎকার ঘ্রাণ পাওয়া যায়। চায়ের বাজারে এর দারুণ চাহিদা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
"আমের অপচয় কমানোর পাশাপাশি কৃষকদের জন্য বিকল্প আয়ের পথ খুলতে পারে এই উদ্যোগ। তবে এটিকে টেকসই ও বাণিজ্যিকভাবে বৃহৎ পরিসরে নিতে হলে উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।"
— চাঁপাইনবাবগঞ্জ এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পল্লী উন্নয়ন বিভাগের গবেষক শারজানা আক্তার সাবা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভোলাহাট উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. মইনুল ইসলাম, মো. মিঠু, মাসুম পান্না, রনি মিঞা, আব্দুল আজিজ, শারজানা আক্তার সাবা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: কেজিপ্রতি চার হাজার টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!