📌 বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ৬০% স্নাতক অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার মাত্র ২.৭% থাকায় ২০৫০ সালের মধ্যে শ্রমের জোগান কর্মসংস্থানের চেয়ে ১ কোটি ৩০ লাখ বেশি হতে পারে। তরুণ জনগোষ্ঠীর সুবিধা কাজে লাগানোর সময় মাত্র ১৯ বছর বাকি
বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সতর্ক সত্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৬০% স্নাতক বা উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাচ্ছেন না। অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থানের হার ৮৪% এবং আনুষ্ঠানিক খাতের তুলনায় মজুরি কমে ৪৫ থেকে ৮৪%। এছাড়াও, ২০৫০ সালের মধ্যে শ্রমের জোগান কর্মসংস্থানের চেয়ে ১ কোটি ৩০ লাখ বেশি হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৬০% স্নাতক অনানুষ্ঠানিক খাতে জড়িয়ে**: বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ৬০% স্নাতক বা উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন, যেখানে তাদের আয় আনুষ্ঠানিক খাতের তুলনায় ৪৫ থেকে ৮৪% কম।
- 📌 **অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মসংস্থান ৮৪%**: দেশের মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪% (৫ কোটি ৮০ লাখ) অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন, যেখানে নিয়োগপত্র, নির্ধারিত মজুরি বা চাকরির নিরাপত্তা নেই।
- 📌 **কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার মাত্র ২.৭%**: আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার মাত্র ২.৭% — বিশ্বের ৮২টি উদীয়মান অর্থনীতির গড় হার ৫.৪%।
- 📌 **২০৫০ সালের মধ্যে শ্রমের জোগান ১ কোটি ৩০ লাখ বেশি**: ২০৫০ সালের মধ্যে শ্রমের জোগান কর্মসংস্থানের চেয়ে ১ কোটি ৩০ লাখ বেশি হতে পারে।
- 📌 **ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সময় মাত্র ১৯ বছর**: বাংলাদেশের হাতে তরুণ জনগোষ্ঠীর সুবিধা কাজে লাগানোর সময় মাত্র ১৯ বছর বাকি।
- 📌 **শহর-গ্রামের স্বাস্থ্য বৈষম্য**: দেশের ৭০% মানুষ গ্রামে বাস করলেও স্বাস্থ্যকর্মীদের মাত্র ২০% সেখানে কর্মরত। শহরে চিকিৎসকের ঘনত্ব গ্রামের তুলনায় ১৮ গুণ বেশি।
📰 বিস্তারিত
বিশ্বব্যাংকের ‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের অনুষ্ঠানে বলা হয়, বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর আধিক্য (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) কাজে লাগানোর সময় খুব বেশি নেই। ২০৪৫ সালের পর বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করবে। কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দ্রুত অগ্রগতি না হলে, প্রবীণ জনগোষ্ঠীর দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রকে।
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের রিজিওনাল প্র্যাকটিস ডিরেক্টর জেম মেতে, এশিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রান্সিসকা লিজেলোটে ওনসর্গ এবং বাংলাদেশ ও ভুটানের অপারেশনস ম্যানেজার গেইল মার্টিন। পরে অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এবং সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ।
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শ্রমবাজারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো মানসম্মত কর্মসংস্থানের অভাব। অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান শুধু ক্ষুদ্র ব্যবসায়েই সীমাবদ্ধ নয় — মাঝারি ও বড় প্রতিষ্ঠানেও মোট কর্মসংস্থানের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক। বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বিকল্প বা নিয়মিত চাকরি না পেয়ে তারা ব্যবসা বা নিজস্ব উদ্যোগ শুরু করেছেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে ২০৫১ সালের মধ্যে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা বেড়ে মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তখন বাংলাদেশ বয়স্ক সমাজে পরিণত হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় হাতে সময় অনেকটা বেশি থাকলেও, কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
"বাংলাদেশের হাতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর আধিক্যের সুবিধা কাজে লাগানোর সময় খুব বেশি নেই। ২০৪৫ সালের পর বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করবে। কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দ্রুত অগ্রগতি না হলে, প্রবীণ জনগোষ্ঠীর দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রকে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সোনারগাঁও, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেম মেতে, ফ্রান্সিসকা লিজেলোটে ওনসর্গ, গেইল মার্টিন, আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, ড. নাজনীন আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০% (স্নাতক অনানুষ্ঠানিক খাতে), ৮৪% (অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান), ২.৭% (অনুষ্ঠানিক খাতের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার), ১ কোটি ৩০ লাখ (শ্রমের জোগান কর্মসংস্থানের চেয়ে বেশি), ১৯ বছর (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!