📌 পেরু সরকার মার্কিন নেতৃত্বাধীন 'আমেরিকার প্রতিরক্ষা মণ্ডল' (Shield of the Americas) জোটে যোগ দিয়েছে। এই জোটের লক্ষ্য হলো ড্রাগ কার্টেলের বিরুদ্ধে সামরিক সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে আলোচনার পর এই ঘোষণা দেন পেরুর নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী কেইকো ফুজিমোরি। চীন-বিরোধী নীতি ও মার্কিন নিরাপত্তা জোটের অংশ হিসেবে পেরুর এই পদক্ষেপে স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে
পেরু সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন 'আমেরিকার প্রতিরক্ষা মণ্ডল' (Shield of the Americas) জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে। এই নিরাপত্তা জোটের মূল উদ্দেশ্য হলো ড্রাগ কার্টেল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময় বৃদ্ধি করা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে আলোচনার পর পেরুর নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী কেইকো ফুজিমোরি এই ঘোষণা দেন। মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থিত এই নীতি পেরুকে চীন-বিরোধী নীতি গ্রহণে প্ররোচিত করেছে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনকে পেরুর প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে প্রতিস্থাপন করতে চায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **পেরু 'আমেরিকার প্রতিরক্ষা মণ্ডল' জোটে যোগ দিয়েছে** — মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই নিরাপত্তা জোটের লক্ষ্য হলো ড্রাগ কার্টেল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময় বৃদ্ধি করা।
- 📌 **কেইকো ফুজিমোরি ঘোষণা দেন** — পেরুর নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে আলোচনার পর এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, "আমরা আগে টেররিজমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, এখন অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করা কতটা কঠিন তা আমরা জানি।"
- 📌 **মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩টি দেশে ৩ দিনের সফর** — রুবিও পেরুসহ দক্ষিণ আমেরিকার তিনটি দেশে সফর করেছেন। এই সফরের উদ্দেশ্য ছিলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ আমেরিকার সংরক্ষিত বামপন্থী নেতাদের সাথে সম্পর্ক মজবুত করা।
- 📌 **চীন-বিরোধী নীতি জোরদার** — মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনকে পেরুর প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে প্রতিস্থাপন করতে চায়। ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন সরকার পেরুর চাঁসায় বন্দর নির্মাণে চীনের অংশগ্রহণকে সমালোচনা করেছিলো, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'স্বাধীনতা' ও 'স্বাধীন বাণিজ্য' নীতি লঙ্ঘন হিসেবে দেখানো হয়েছিলো।
- 📌 **প্রতিবাদ ও সার্বভৌমত্বের উদ্বেগ** — পেরুর রাজধানী লিমায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর সাথে কেইকো ফুজিমোরির আলোচনার সময় স্থানীয় জনগণ প্রতিবাদ করে। তারা দাবি করেন, "পেরু কোনো দেশের উপনিবেশ নয়, এটি বিশ্বের কোনো দেশের বাগান নয়।"
- 📌 **মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা তহবিল বৃদ্ধি** — মার্কিন সরকার একুয়েডোরকে নিরাপত্তা তহবিল হিসেবে ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করেছে, যার মধ্যে নতুন নৌযানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
পেরু সরকারের এই পদক্ষেপের পিছনে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ড্রাগ কার্টেল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই। পেরু বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কোকেইন উৎপাদক দেশ, কলম্বিয়ার পরে। এই অঞ্চলে অপরাধের হার বৃদ্ধির সাথে সাথে সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পেরুর এই পদক্ষেপকে প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন, "এটি স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে হুমকির প্রতিরোধের জন্য একটি প্রতিরক্ষা মণ্ডল।"
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের পিছনে চীনকে প্রতিস্থাপন করার লক্ষ্য রয়েছে। চীন বর্তমানে পেরুর প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কম। পেরুর লিমা থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে চীন একটি বড় বন্দর নির্মাণ করেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও এই বিষয়ে বলেছেন, "আমরা শুধুমাত্র তোমাদের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করব, কিন্তু তোমাদের চেয়ে বেশি কিছু করব না।"
পেরুর প্রধানমন্ত্রী কেইকো ফুজিমোরি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওকে পেরুর সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান 'সূর্যের অর্ডার' প্রদান করেছেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পেরুর নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রতিবাদও দেখা দিয়েছে। তারা দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ পেরুর সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে।
"আমরা আগে টেররিজমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, এখন অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করা কতটা কঠিন তা আমরা জানি।"
"এটি স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে হুমকির প্রতিরোধের জন্য একটি প্রতিরক্ষা মণ্ডল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লিমা (পেরু), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কেইকো ফুজিমোরি (পেরুর প্রধানমন্ত্রী), মার্কো রুবিও (মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী), টেরেসা বো (আল জাজিরা করেসপন্ডেন্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ কিলোমিটার (চীনের বন্দর থেকে লিমার দূরত্ব), ৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (মার্কিন নিরাপত্তা তহবিল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!