📌 সাবেক অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, অতীতের ব্যাংক নিয়মের অতিরিক্ত শিথিলতার কারণে বর্তমানে অর্থনীতিতে শ্লথতা এবং ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেছেন, সংকট উত্তরণে নিয়ম কিছুটা শিথিল করা যেতে পারে কিন্তু সেফগার্ড নিশ্চিত করতে হবে
ব্যাংক খাতের বর্তমান সংকটের মূল কারণ অতীতের শিথিল নীতিই: সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বুধবার (২৮ অক্টোবর) এই দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান অর্থনীতির শ্লথ গতি এবং ব্যাংক ও শিল্প খাতের তারল্য সংকটের মূল কারণ অতীতের বিধি-বিধানের অতিরিক্ত শিথিলতা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অতীতের শিথিল নীতিই বর্তমান সংকটের মূল কারণ: ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকের উদারীকরণ এবং বেসরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংক খাতের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে।
- 📌 সেফগার্ড ছাড়া নিয়ম শিথিল করলে লুটপাটের সুযোগ: তিনি বলেছেন, সংকট উত্তরণে নিয়ম কিছুটা শিথিল করা যেতে পারে, কিন্তু সেফগার্ড নিশ্চিত না করলে পুনরায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হবে।
- 📌 রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো অন্যায় সুযোগ বিতরণের কেন্দ্র: ড. ওয়াহিদউদ্দিন বলেছেন, রাজনৈতিক সরকারগুলোর পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- 📌 ব্যাংকিং খাতের সংস্কার শুধু আইন নয়, নৈতিকতার উপর নির্ভরশীল: তিনি বলেছেন, শুধু আইন বা রেগুলেশন দিয়ে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়, ন্যূনতম নৈতিকতা থাকা আবশ্যক।
- 📌 ব্যাংক খাতের উত্থান-পতনের ইতিহাসে দু'বার সংস্কার ব্যর্থ: প্রথমবার ঋণ খেলাপির মাধ্যমে এবং দ্বিতীয়বার ব্যাংক লুটপাটের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের সংস্কৃতি নষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
📰 বিস্তারিত
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার মিরপুরে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)-এর ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের সমাধানে অনেকেই নিয়ম-কানুন শিথিল করার কথা বলছেন। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, শিথিল নীতিই বর্তমান সংকটের মূল কারণ। তিনি বলেছেন, “অসাধারণ পরিস্থিতিতে অসাধারণ পদক্ষেপ নিতে হয়। তবে সেফগার্ড ছাড়া নিয়ম শিথিল করলে পুনরায় লুটপাট বা অনিয়মের সুযোগ তৈরি হবে।”
ড. ওয়াহিদউদ্দিন বলেছেন, বেসরকারি খাতের ব্যাংক অনুমোদন দিতে গিয়ে নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ছাড়াই আমরা ভুলপথে যাত্রা শুরু করেছিলাম। তিনি উল্লেখ করেছেন, ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকের উদারীকরণ এবং বেসরকারি খাতের ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই আমরা নানা বিতর্ক ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেছেন, “অতীতে কোন ভুলগুলো করা হয়েছিল এবং এর পরিণতি কী হয়েছিল, তা বর্তমান নীতিনির্ধারকদের মনে রাখতে হবে।”
অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রেসক্রিপশন অন্ধভাবে অনুকরণ না করে দেশের নিজস্ব বাস্তবতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যাংকিং খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে। তিনি বলেছেন, “প্রথমবার দেশের ব্যাংখাতের সংস্কৃতি নষ্ট হয়েছে ঋণ খেলাপির মাধ্যমে। দ্বিতীয়বার নষ্ট হয়েছে ব্যাংক লুটপাটের মাধ্যমে। এটি আরো বেশি মারাত্মক।”
ড. ওয়াহিদউদ্দিন আরও বলেছেন, নব্বইয়ের দশকের সংস্কারের পর বেসরকারি খাতের বেশ কয়েকটি ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানের উন্নতি পেয়েছিল। কিন্তু ২০১০ সালের পর যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেয়ায় আবারও খাতের অবনতি ঘটে। তিনি বলেছেন, “শুধু নীতিমালা তৈরির মাধ্যমে ব্যাংখাতে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়। ব্যাংকিং, করপোরেট ও শিল্প খাতের সবার মধ্যে ন্যূনতম নৈতিকতা থাকা আবশ্যক।”
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর দীর্ঘমেয়াদী সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, “অতীতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অবস্থার উন্নতি হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার বারবার ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক সরকারগুলোর ‘পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি’ বা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো অন্যায় সুযোগ বিতরণের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থনীতির হৃদপিণ্ডতুল্য এই আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাব ও পৃষ্ঠপোষকতার বাইরে রাখতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিকল্প নেই।”
"নির্ধিষ্ট নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ছাড়া বেসরকারি খাতের ব্যাংক অনুমোদন দিয়েই আমরা ভুলপথে যাত্রা শুরু করেছিলাম। অতীতে কোন ভুলগুলো করা হয়েছিল এবং এর পরিণতি কী হয়েছিল, তা বর্তমান নীতিনির্ধারকদের মনে রাখতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, মিরপুর (বিআইবিএম অডিটোরিয়াম)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ (সাবেক অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন (২৮ অক্টোবর, ২০২৬)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!