📌 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মোটরযান উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতা, রেলপথ ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে জাপানের বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন
টোকিওতে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। আজ স্থানীয় সময় বিকেলে জেট্রো হলে অনুষ্ঠিত এই ফোরামে তিনি বলেছেন, পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে ভবিষ্যতের সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির জন্য জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাত বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **মোটরযান উৎপাদন**কে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেছেন, টয়োটা বাংলাদেশে একটি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে, যা ২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু করবে।
- 📌 **জ্বালানি খাতে** জাপানি কোম্পানিগুলোকে এলএনজি অবকাঠামো, দক্ষ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
- 📌 **প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতা**তে বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্কের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা হবে।
- 📌 **রেলপথ ও সরবরাহ ব্যবস্থা**তে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালসহ প্রধান শহরগুলোর উন্নয়নে জাপানের অংশীদারিত্বের আহ্বান জানানো হয়েছে।
- 📌 **কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্প**কে পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতের অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
- 📌 **বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ)** স্বাক্ষরিত হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।
- 📌 বর্তমানে বাংলাদেশে **৩৫০টি জাপানি কোম্পানি** কাজ করছে, কিন্তু জাপানের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ **৫০ কোটি মার্কিন ডলারের কম**।
- 📌 **১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বাজার** এবং **২৭ বছরের মধ্যম বয়সের উদ্যমী তরুণ শ্রমশক্তি** বাংলাদেশের বড় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টোকিওতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের পাঁচটি অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে ভবিষ্যতের সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির জন্য আমি জাপানি কোম্পানিগুলোকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাত বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় **৩৫০টি জাপানি কোম্পানির কার্যক্রম** চলছে, তবে জাপানের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ এখনো **৫০ কোটি মার্কিন ডলারের কম**। সর্বশেষ অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল **১৩৬ কোটি মার্কিন ডলার**, অন্যদিকে জাপান থেকে বাংলাদেশ **২১৬ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য** আমদানি করেছে।
মোটরযান উৎপাদনকে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেছেন, টয়োটা বাংলাদেশে একটি যানবাহন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করেছে। তিনি বলেন, ‘২০২৯ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’ তিনি টয়োটাকে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
জ্বালানি খাতে তিনি জাপানি কোম্পানিগুলোকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সামগ্রিক জ্বালানি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। জাপানি কোম্পানিগুলো এসব পরিকল্পনার আওতায় বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করতে পারে।’
প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। এতে জাপানি কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ততায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকেন্দ্রিক একটি উদ্ভাবনমুখী তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘মহাকাশ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ তার মহাকাশবিষয়ক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে চায়।’
রেলপথ ও সরবরাহব্যবস্থাকে আরেকটি অগ্রাধিকার খাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালসহ দেশের প্রধান শহরগুলোর উন্নয়নে জাপানের অংশীদারিত্বের আহ্বান জানাচ্ছি।’ তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের **৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য** জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।
"আমি আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা নিয়ে কথা বলতে চাই। দু’দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে বলছি, ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর একটি ছিল জাপান।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টোকিও (জাপান), ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল (বাংলাদেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি, ৫০ কোটি মার্কিন ডলার, ১৩৬ কোটি মার্কিন ডলার রপ্তানি, ২১৬ কোটি মার্কিন ডলার আমদানি, ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য, ১৮ কোটি মানুষের বাজার, ২৭ বছরের মধ্যম বয়সের শ্রমশক্তি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!