📌 রাজশাহী ও ঝিনাইদহের ৫৫৬টি পরিবারের জরিপে দেখা গেছে, গত দশ বছরে ৮৭% লাইফলাইন গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়েছে, কিন্তু ৬৯% পরিবারের বিলের চাপও বেড়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবহার জীবনমান উন্নত করেছে, কিন্তু আয়ের তুলনায় বিলের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে
রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভার ৫৫৬টি পরিবারের জরিপে দেখা গেছে, গত দশ বছরে লাইফলাইন গ্রাহকদের ৮৭ শতাংশের বিদ্যুৎ ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে এই বৃদ্ধির সাথে সাথে ৬৯ শতাংশ পরিবারের জন্য বিদ্যুৎ বিলের আর্থিক চাপও বেড়েছে। জরিপে উঠে এসেছে যে, বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষা, যোগাযোগ ও জীবনমানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু আয়ের তুলনায় বিলের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৮৭ শতাংশ লাইফলাইন গ্রাহকের** বিদ্যুৎ ব্যবহার গত দশ বছরে বেড়েছে, কিন্তু **৬৯ শতাংশের** বিলের আর্থিক চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে
- 📌 **৭৭ শতাংশ পরিবারের** গৃহস্থালি বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্রপাতির সংখ্যা ও বৈচিত্র্য বেড়েছে
- 📌 **৭৬ শতাংশ পরিবার** মনে করে, বিদ্যুতের কারণে ঘরে পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত হয়েছে
- 📌 **৪৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পরিবারের** দৈনিক এক ঘণ্টার বেশি পড়াশোনার হার বেড়েছে
- 📌 **৮৯ শতাংশ পরিবার** মনে করে, বিদ্যুৎ তাদের জীবনমান উন্নত করেছে
- 📌 **৮২ শতাংশ পরিবার** জানিয়েছে, রাতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে
📰 বিস্তারিত
রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভার ৫৫৬টি পরিবারের ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, গত দশ বছরে লাইফলাইন গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া পরিবারের ৮৭ শতাংশ জানিয়েছে, তাদের মাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়েছে। অন্যদিকে, ৬৯ শতাংশ পরিবারের জন্য বিলের আর্থিক চাপও বেড়েছে, যা তাদের আয়ের তুলনায় বেশি হয়ে উঠেছে।
জরিপে দেখা গেছে, আগে মূলত আলোর জন্য বিদ্যুতের সংযোগ নেওয়া হলেও বর্তমানে গৃহস্থালি কাজ, বিনোদন, শিক্ষা, যোগাযোগ ও ডিজিটাল সেবায় এর ব্যবহার বেড়েছে। টেলিভিশনের মালিকানা ৩৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৮ শতাংশ, ফ্রিজের মালিকানা ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশ এবং কম্পিউটার বা ল্যাপটপের মালিকানা ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ শতাংশ হয়েছে। মোবাইল ফোনের চার্জার ব্যবহারের হারও ৬৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৮ শতাংশ হয়েছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৭৬ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, বিদ্যুতের কারণে ঘরে পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত হয়েছে। ৪৮ শতাংশ পরিবার অনলাইন শিক্ষা এবং ৬৫ শতাংশ পরিবার ঘরে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। শিক্ষার্থী থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে দৈনিক এক ঘণ্টার বেশি পড়াশোনার হার ৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৯ শতাংশ হয়েছে।
জরিপে অংশ নেওয়া পরিবারগুলোর আয়ের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র পাওয়া গেছে। মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার কম এমন পরিবারের হার ৪১ শতাংশ থেকে কমে ২১ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে, মাসিক আয় ২০ হাজার টাকার বেশি এমন পরিবারের হার ৩১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৩ শতাংশ হয়েছে। তবে বিদ্যুতের সহায়তায় নতুন আয়ের কাজ বা ব্যবসা শুরু করেছে মাত্র ১০ শতাংশ পরিবার।
"আগে মূলত ঘরে আলোর জন্য বিদ্যুতের সংযোগ নেওয়া হলেও বর্তমানে গৃহস্থালি কাজ, বিনোদন, শিক্ষা, যোগাযোগ ও ডিজিটাল সেবায় এর ব্যবহার বেড়েছে।"
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ক্যাব যুব সংসদের আয়োজিত গণসংলাপে জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়। ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম. শামসুল আলম বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুফল জীবনমান ও গৃহস্থালি সুবিধায় বেশি দৃশ্যমান হলেও উৎপাদনশীল কাজে এর ব্যবহার এখনো সীমিত।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক এম. শামসুল আলম (ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫৬টি পরিবার জরিপে অংশ নেয়, ৮৭% বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়েছে, ৬৯% বিলের চাপ বৃদ্ধি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!