📌 বাংলাদেশ সরকার প্রায় ৫৫ বছর ধরে অনুসরণ করা জুলাই-জুন অর্থবছর পরিবর্তন করে এপ্রিল-মার্চ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য বর্ষাকালকে অর্থবছরের শেষ থেকে সরিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বৃদ্ধি করা হলেও অর্থনীতিবিদরা প্রশ্ন তুলছেন এর কার্যকারিতা নিয়ে
বাংলাদেশ সরকার প্রায় ৫৫ বছর ধরে অনুসরণ করা অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত অর্থবছর চালু থাকলেও সরকার সম্প্রতি তা এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত করার ঘোষণা দেয়। এই পরিবর্তন ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রায় ৫৫ বছর ধরে বাংলাদেশে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত অর্থবছর চালু ছিল
- 📌 সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অর্থবছর শুরু হবে ১ এপ্রিল এবং শেষ হবে ৩১ মার্চ
- 📌 পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হিসেবে সরকার উল্লেখ করেছে বর্ষাকালকে অর্থবছরের শেষ থেকে সরিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মান ও গতি বৃদ্ধি
- 📌 অর্থনীতিবিদরা বলছেন, অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করলেই প্রকৃত উন্নতি হবে না যদি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি না কমে
- 📌 সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, "বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন না এনে কেবল অর্থবছরের সময়কালে পরিবর্তন আনলে কোনো গুণগত পরিবর্তন হবে না।"
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ সরকার প্রায় ৫৫ বছর ধরে অনুসরণ করা অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত অর্থবছর চালু থাকলেও সরকার সম্প্রতি তা এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত করার ঘোষণা দেয়। এই পরিবর্তন ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে। অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের ফলে সরকারি আয়-ব্যয়, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও আর্থিক হিসাবনিকাশের পুরো ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের মূল কারণ হলো বর্ষাকালকে অর্থবছরের শেষ থেকে সরিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মান ও গতি বৃদ্ধি করা। বর্তমান ব্যবস্থায় জুন মাসে অর্থবছর শেষ হওয়ার কারণে প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাড়াহুড়ো দেখা যায়। নতুন ব্যবস্থায় মার্চ মাসের মধ্যে প্রকল্প শেষ করে বর্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা এই পরিবর্তনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তারা বলছেন, অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করলেই প্রকৃত উন্নতি হবে না যদি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি না কমে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, "বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন না এনে কেবল অর্থবছরের সময়কালে পরিবর্তন আনলে কোনো গুণগত পরিবর্তন হবে না।"
উল্লেখ্য, অর্থবছরের সময়কাল বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন। যেমন ভারত, যুক্তরাজ্য ও জাপানের অর্থবছর এপ্রিল-মার্চ, চীন ও ব্রাজিলের জানুয়ারি-ডিসেম্বর, আর যুক্তরাষ্ট্রের অক্টোবর-সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশের মতো পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও মিশর জুলাই-জুন অর্থবছর অনুসরণ করে।
"আন্তর্জাতিক নিয়ম বলে কোনো কিছু নেই। প্রতিটি দেশ তার নিজস্ব আবহাওয়া, কৃষি ও রাজনৈতিক চক্র অনুযায়ী অর্থবছর নির্ধারণ করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম (সিপিডির গবেষণা পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৫ বছর, ১ এপ্রিল, ৩১ মার্চ, ২০২৮-২৯ অর্থবছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!