📌 ব্যাংকিং খাতের ঋণপ্রবাহ সরকারমুখী হয়ে পড়েছে, যা বেসরকারি খাতকে ঋণবঞ্চিত করছে। অন্যদিকে, অলস অর্থের পরিমাণ ৪ ট্রিলিয়ন টাকার বেশি ছাড়িয়ে গেছে। অর্থনীতিবিদরা রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল সুশাসনের দায় দিয়েছেন এই সংকটের পেছনে
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত দ্বিমুখী সংকটের মধ্যে পড়েছে। একদিকে সরকারমুখী ঋণপ্রবাহ বেসরকারি খাতকে অর্থায়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে, অন্যদিকে অলস অর্থের পরিমাণ রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল সুশাসন ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণই এই সংকটের মূল কারণ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্যাংকিং খাতে অলস অর্থের পরিমাণ ৪ ট্রিলিয়ন টাকার বেশি ছাড়িয়ে গেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে
- 📌 সরকারমুখী ঋণপ্রবাহ বেসরকারি খাতকে ঋণবঞ্চিত করছে, যা শিল্প ও ব্যবসায়ের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে
- 📌 অর্থ পাচার ও অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও ২.৫ থেকে ৩ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে
- 📌 ব্যাংক খাতের সংস্কার শুধু আর্থিক নীতিমালায় সীমাবদ্ধ নয়, রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ব্যাংক খাতের পুনর্গঠন’ প্রতিপাদ্যে দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের শেষ দিনের অধিবেশনে ব্যাংক খাতের সংকটের বিভিন্ন দিক আলোচিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক বরকত-এ-খোদা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি ব্যাংক খাতের বিপরীতমুখী পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, কিছু দুর্বল ব্যাংক তীব্র তারল্যসংকটে রয়েছে, কিন্তু পুরো খাতে অলস অর্থের পরিমাণ ৪ ট্রিলিয়ন টাকার বেশি হয়েছে।
জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ ব্যাংক খাতের আস্থার সংকটের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর মনোযোগ কমে যাওয়ায় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, দেশের ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত দুর্বল ও ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে। অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, যদি বাজারের নিয়ম পুরোপুরি অনুসরণ করা হতো, তাহলে অনেক দুর্বল ব্যাংক এত দিন টিকে থাকতে পারত না।
অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ আরও উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় সুবিধা বণ্টনে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা বড় বাধা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি শোষণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের পরিবর্তে সুবিধা পেয়েছে প্রভাবশালী গোষ্ঠী। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে এসব গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
"ব্যাংক খাতের সংস্কার শুধু আর্থিক নীতিমালায় সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না, সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।"
অধ্যাপক বরকত-এ-খোদা অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণের পেছনে তিনটি কারণ চিহ্নিত করেন: রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল সুশাসন, নমনীয় নীতিমালা এবং বারবার ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া। তিনি উল্লেখ করেন, অর্থ পাচার ও অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠী আড়াই থেকে ৩ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, মিরপুরে (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বরকত-এ-খোদা (অধ্যাপক), মাহবুব উল্লাহ (জাতীয় অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ ট্রিলিয়ন টাকা (অলস অর্থ), ৩৯ শতাংশ (বৃদ্ধি), ৫ লাখ কোটি টাকা (আত্মসাৎ), ২.৫-৩ লাখ কোটি টাকা (পাচার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!