📌 সুন্দরবনের পরিবেশ প্লাস্টিক দূষণের কারণে বিপন্ন। গবেষণা থেকে জানা যায়, প্লাস্টিক বর্জ্য শ্বাসমূল, নতুন চারার বৃদ্ধি ও জলজ প্রাণীদের জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি প্রাণীদের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে
সুন্দরবনের পরিবেশ প্লাস্টিক দূষণের কারণে মারাত্মকভাবে বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বনজীবীরা জানিয়েছেন, পরিত্যক্ত পলিথিন, নাইলন জাল ও অন্যান্য প্লাস্টিক বর্জ্য শ্বাসমূল, নতুন চারার বৃদ্ধি ও জলজ প্রাণীদের জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। গবেষণা থেকে জানা যায়, মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি প্রাণীদের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে এবং বনের বাস্তুতন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ঘটাতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সুন্দরবনের কটকা, কচিখালী, ডিমের চর ও আন্ধারমানিক এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্যে ঢেকে যাচ্ছে শ্বাসমূল ও মাটি
- 📌 পরিত্যক্ত মাছ ধরার জাল ও পলিথিন নতুন চারার বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করছে
- 📌 গবেষণা থেকে জানা যায়, প্রতি লিটার পানিতে গড়ে ২.২২টি এবং প্রতি কেজি মাটিতে ৭৩৪টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া যাচ্ছে
- 📌 সুন্দরবনের জলজ খাদ্যশৃঙ্খলের প্রাণীদের দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে
- 📌 বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্লাস্টিক বর্জ্য সরাসরি বনের বাস্তুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে
📰 বিস্তারিত
সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্য জমে যাচ্ছে। বাগেরহাটের শরণখোলা ও বরগুনার পাথরঘাটার বনজীবীরা জানিয়েছেন, কটকা, কচিখালী ও ডিমের চর এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্য বেশি জমে থাকা স্থানে কাঁকড়া, শামুকসহ জলজ প্রাণীদের বিচরণ কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিত্যক্ত জাল ও প্লাস্টিকের দড়ি নতুন চারার সঙ্গে জড়িয়ে স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করছে। গাছের শ্বাসমূলে পলিথিন জমে থাকায় প্রাকৃতিকভাবে নতুন চারা জন্মানোর হার ও গাছপালার ঘনত্ব কমে যাচ্ছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ও গবেষক শেখ তারেক আরাফাত বলেছেন, বড় প্লাস্টিক বর্জ্য ধীরে ধীরে ক্ষুদ্র কণায় ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক কাঁকড়া, শামুকসহ বিভিন্ন প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করতে পারে এবং তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও প্রজননক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
২০২২ সালের গবেষণায় সুন্দরবনের জলজ খাদ্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরের প্রাণীদের দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক ভোক্তা প্রাণীতে গড়ে প্রতি প্রাণীতে ০.৫৬টি এবং খাদ্যজালের চতুর্থ স্তরের ভোক্তা প্রাণীতে গড়ে ৪.১৭টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়। অন্যদিকে, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় প্রতি লিটার পানিতে গড়ে ২.২২টি এবং প্রতি কেজি মাটিতে ৭৩৪টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়।
২০২৩ সালের আরেকটি গবেষণায় সুন্দরবন ও বাংলাদেশের পশ্চিম উপকূলের নদী-খাল থেকে সংগৃহীত আট প্রজাতির ৬৪টি মাছের প্রতিটির পরিপাকতন্ত্রে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়। প্রতি মাছে গড়ে ৭.১টি কণা পাওয়া যায়। তলদেশে বসবাসকারী মাছের ক্ষেত্রে গড় কণার সংখ্যা ছিল ৭.৭৮টি, আর ওপরের পানিতে বিচরণকারী মাছের ক্ষেত্রে ৫.৯২টি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক ড. গওসিয়া ওয়াহিদুন্নেসা চৌধুরী বলেছেন, প্লাস্টিকদূষণের প্রভাব সরাসরি বনের বাস্তুতন্ত্রের ওপর পড়তে পারে। তিনি বলেন, ‘সুন্দরবন তো একটাই। এটি নষ্ট হলে বিকল্প কোনো অপশন নেই আমাদের।’
"সুন্দরবনের জলজ খাদ্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরের প্রাণীর দেহে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার বিষয়টি গবেষণায় উঠে এসেছে। খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে এসব ক্ষুদ্র কণা বিভিন্ন প্রাণীর দেহে প্রবেশ করতে পারে। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি নির্ধারণে আরও সুনির্দিষ্ট গবেষণা প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুন্দরবনের কটকা, কচিখালী, ডিমের চর, আন্ধারমানিক, শরণখোলা, বরগুনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেখ তারেক আরাফাত, ড. গওসিয়া ওয়াহিদুন্নেসা চৌধুরী, বনজীবীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ০.৫৬টি, ৪.১৭টি, ২.২২টি, ৭৩৪টি, ৬৪টি, ৭.১টি, ৭.৭৮টি, ৫.৯২টি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!