📌 সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম বাবলীদহের মানুষ এখন পরিচিত ‘ফকিরপাড়া’ নামে। প্রায় দুই হাজার মানুষের এই গ্রামে পাঁচ শতাধিক মানুষ ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত। যোগাযোগের অসুবিধা ও কর্মসংস্থানের অভাব তাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম বাবলীদহ। সরকারি দলিলে ও মানচিত্রে নাম থাকলেও স্থানীয় মানুষের মুখে এখন গ্রামটির পরিচিতি ‘ফকিরপাড়া’ নামে। প্রায় দুই হাজার ১৮ জন মানুষের বসবাস এই গ্রামে। স্থানীয়দের দাবি, তাদের মধ্যে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ কোনো না কোনোভাবে ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত। অভাবের কারণে গ্রামটির নামই যেন পাল্টে গেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের গ্রাম বাবলীদহের মানুষ এখন পরিচিত ‘ফকিরপাড়া’ নামে
- 📌 গ্রামটিতে প্রায় দুই হাজার ১৮ জন মানুষের বসবাস, যার মধ্যে পাঁচ শতাধিক মানুষ ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত
- 📌 স্থানীয়দের মধ্যে অনেকে অসুস্থ, কর্মক্ষম নয় অথবা জমিজমা না থাকায় ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য হচ্ছেন
- 📌 যোগাযোগ ব্যবস্থার অসুবিধা ও কর্মসংস্থানের অভাব গ্রামবাসীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে
- 📌 স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সমাজসেবা কর্মকর্তারা গ্রামবাসীর পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
সরকারি দলিলে ও মানচিত্রে গ্রামটির নাম থাকলেও স্থানীয় মানুষের মুখে এখন গ্রামটির পরিচিতি ‘ফকিরপাড়া’ নামে। প্রায় দুই হাজার ১৮ জন মানুষের বসবাস এই গ্রামে। স্থানীয়দের দাবি, তাদের মধ্যে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ কোনো না কোনোভাবে ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত। কারও বয়সের ভার, কারও অসুস্থ শরীর, কারও স্বামী নেই এবং কারও জমিজমা নেই। আবার কেউ কর্মক্ষম হয়েও কাজের অভাবে মানুষের দুয়ারে হাত পাততে বাধ্য হন।
গ্রামের বাসিন্দা নুরনবী সরদার (৪৫)। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছেন তিনি। ভারী কাজ করার সামর্থ্য নেই। নিজের কোনো জমিজমাও নেই। সরকারি খাস জায়গায় ছোট্ট একটি ঘর তুলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তার সংসার। বহু বছরের ক্লান্তি নিয়ে তিনি বলেন, ‘দাদা ভিক্ষা করতেন, বাবাও ভিক্ষা করেছেন। আমিও এখন ভিক্ষা করি। আমি কিডনি রোগী। ভারী কাজ করতে পারি না। জায়গা-জমিও নেই। তাই ভিক্ষা করেই সংসার চালাই।’
আলফা বেগম (৪৫) নামের আরেক গ্রামবাসী। ১০ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছেন তিনি। দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তার সংসার। আয়ের কোনো স্থায়ী পথ নেই। মানুষের সাহায্য আর ভিক্ষার ওপর নির্ভর করেই চলছে জীবন। ভাঙা ঘরের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে। যে ঘরে থাকি, সেটিও ভেঙে গেছে। ভিক্ষা করে সংসারই চলে না, মেয়ের বিয়ে দেব কীভাবে?’
স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. হাফিজুল ইসলাম বলেন, গ্রামের অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভরশীল। বর্ষায় কেউ মাছ ধরে সংসার চালান। কিন্তু শুকনো মৌসুমে কাজের সুযোগ প্রায় থাকে না। অনেকে কাজের সন্ধানে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় চলে যান। ভিক্ষা এখানে সবার পছন্দের পেশা নয়। অনেকের জন্য এটি অভাবের কাছে হেরে যাওয়া মানুষের শেষ আশ্রয়।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়ন, বাবলীদহ গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলফা বেগম, নুরনবী সরদার, মাওলানা মো. হাফিজুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: দুই হাজার ১৮ জন, পাঁচ শতাধিক মানুষ, ৪৫ বছর, ১০ বছর, ৭৫ বছর, ৬৫ বছর, ৫০ বছর, ৯ নম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!