📌 পলিনেট ও মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের কৃষকরা আঙুর, টমেটো, স্ট্রবেরি, তরমুজসহ উচ্চমূল্যের ফসল ও ফুল চাষে সফলতা পাচ্ছেন। রাজশাহীতে ১০২টি পলিনেট হাউস বিতরণের মাধ্যমে সরকার কৃষি উন্নয়নকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে
বাংলাদেশের কৃষি পদ্ধতিতে বিপ্লব ঘটাচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির দুটি নবীন কৌশল — পলিনেট ও মালচিং। রাজশাহী বিভাগের কৃষকরা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আঙুর, টমেটো, স্ট্রবেরি, তরমুজসহ উচ্চমূল্যের ফসল ও ফুল চাষে সফলতা পেয়েছেন। এ প্রযুক্তি দেশের জলবায়ু ও মাটির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কৃষিকাজকে আরও লাভজনক ও নিরাপদ করে তুলছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজশাহীর দুর্গাপুরের কৃষক মোখলেছুর রহমান ২০ শতক জমিতে পলিনেট পদ্ধতিতে আঙুর চাষ করে বছরে দুবার ৪ লাখ টাকা আয় করছেন
- 📌 রাজশাহী চারঘাটের মনিরুল ইসলাম পলিনেটে ৩ বছরে ২৭ লাখ টাকা আয় করেছেন ক্যাপসিকাম, টমেটো, ব্রকলি, স্ট্রবেরি, গোলাপ ও জারবেরার চারা বিক্রি করে
- 📌 কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রাজশাহীতে বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে ১০২টি পলিনেট হাউস — ৩৭টিতে সবজি চারা, ২৫টিতে আঙুর, ৯টিতে ফুল উৎপাদন হচ্ছে
- 📌 মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে সফল রাজশাহীর মজিবুল হাসান রকি ৮ কাঠা জমি থেকে ৯২ হাজার টাকা আয় করেছেন
- 📌 পলিনেট হাউস ৬০% সূর্যালোক প্রতিরোধ করে — বিষমুক্ত নিরাপদ ফসল উৎপাদনে সহায়তা করে
📰 বিস্তারিত
রাজশাহী বিভাগের কৃষকরা পলিনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে আঙুরসহ বিভিন্ন ফসল ও ফুল চাষে সফলতা পাচ্ছেন। এই প্রযুক্তি শীতপ্রধান দেশের গ্রিনহাউস পদ্ধতির মতো কাঠামো তৈরি করে সূর্যের আলো, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে। পলিনেট পদ্ধতিতে মোখলেছুর রহমান ২০ শতক জমিতে আঙুর চাষ করে বছরে দুবার ৪ লাখ টাকা আয় করছেন। তিনি বলেছেন, ‘পলিনেট ছাড়া তত ভালো ফলন আসে না’।
রাজশাহী চারঘাটের মনিরুল ইসলাম পলিনেটে উচ্চমূল্যের ফসল ও ফুলের চারা উৎপাদন করে ৩ বছরে ২৭ লাখ টাকা আয় করেছেন। তিনি ক্যাপসিকাম, টমেটো, ব্রকলি, স্কোয়াশ, স্ট্রবেরি, মেলন, শসা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রাসেলস স্প্রাউট, লেটুস, চীনাশাক এবং গোলাপ ও জারবেরার চারা উৎপাদন করেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় রাজশাহীতে ১০২টি পলিনেট হাউস বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এসব হাউসের মধ্যে ৩৭টিতে সবজি ও ফলের চারা, ২৫টিতে আঙুর, ৯টিতে জারবেরা ও চন্দ্রমল্লিকা, ৭টিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো এবং ১৫টিতে বিভিন্ন সবজি উৎপাদন হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক এস এম হাসানুজ্জামান বলেছেন, পলিনেট হাউসে চাষাবাদকারী কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং ফসলের বীজ, সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হয়।
মালচিং পদ্ধতিও কৃষিকাজে বিপ্লব ঘটাচ্ছে। রাজশাহীর চারঘাটের মজিবুল হাসান রকি মালচিং পদ্ধতিতে অসময়ের তরমুজ চাষ করে ৮ কাঠা জমি থেকে ৯২ হাজার টাকা আয় করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তরমুজ গাছের গোড়ায় সরাসরি রোদ পড়লে গাছ মরে যায়। মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে গাছ মরে না’। তার বাবা ওয়াহাব আলী গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও বেগুনের চাষেও জড়িয়েছেন।
"পলিনেটে আঙুর চাষ করলে বছরে দুবারই ভালো ফলন পাওয়া যায়। পলিনেট ছাড়া তত ভালো ফলন আসে না।"
"মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে গাছ মরে না। কোনো ধরনের রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার না করে জৈব বালাইনাশকে গুরুত্ব দিয়েছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী (দুর্গাপুর, চারঘাট উপজেলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোখলেছুর রহমান, মনিরুল ইসলাম, মজিবুল হাসান রকি, ওয়াহাব আলী, এস এম হাসানুজ্জামান, মো. অনিক মেহফুজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ শতক জমি, ৪ লাখ টাকা, ২৭ লাখ টাকা, ১০২টি পলিনেট হাউস, ৩৭টি সবজি চারা উৎপাদন, ২৫টি আঙুর উৎপাদন, ৮ কাঠা জমি, ৯২ হাজার টাকা, ৬০%
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!