📌 পাবনা ও সিরাজগঞ্জে নকল দুধের রমরমা কারবার চলছে। গরুর দুধ ছাড়াই পানি ও রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে দুধের মতো সাদা তরল, যা চিলিং সেন্টার ও বাজারে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় খামারিরা দাবি করছেন, এই ভেজাল কারবার তাদের বাজার নষ্ট করছে।
পাবনা ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় নকল দুধের রমরমা কারবার চলছে। স্থানীয় খামার ও চিলিং সেন্টারের আড়ালে গরুর দুধ ছাড়াই পানি ও বিভিন্ন রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে দুধের মতো সাদা তরল। এই ভেজাল দুধের কারবারিরা প্রতিদিন প্রায় ৪০ লিটার পানিতে ৪৫০ টাকা খরচ করে রাসায়নিক মিশিয়ে কথিত উচ্চফ্যাটযুক্ত দুধ তৈরি করে, যা প্রায় ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। প্রতিটি ৪০ লিটার নকল দুধের কারবারিতে প্রায় ১ হাজার ৭৫০ টাকা লাভ হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পাবনার ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর ও সাঁথিয়া উপজেলায় ৯২টি স্বনামধন্য কোম্পানির পাশাপাশি ৯টি ব্যক্তিমালিকানাধীন চিলিং সেন্টার রয়েছে, যেখানে নকল দুধের কারবার চলছে।
- 📌 সয়াবিন তেল, গ্লুকোজ, ইউরিয়া, ডিটারজেন্ট পাউডার ও কস্টিক সোডাসহ বিভিন্ন রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে দুধের মতো সাদা তরল।
- 📌 ৪০ লিটার পানিতে ৪৫০ টাকা খরচ করে রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি করা নকল দুধ প্রায় ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়, প্রতি ৪০ লিটারে ১ হাজার ৭৫০ টাকা লাভ হয়।
- 📌 গত ২৮ সেপ্টেম্বর বেড়ার পেচাকোলা ঘাট এলাকায় উত্তম ঘোষ ও পলি ঘোষ দম্পতিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
- 📌 পাবনা ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার লাখ লিটার দুধের চাহিদা রয়েছে, কিন্তু উৎপাদন হয় প্রায় সাড়ে তিন লাখ লিটার।
📰 বিস্তারিত
পাবনার বিভিন্ন উপজেলায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য চিলিং সেন্টার, যেখানে নকল দুধের কারবার চলছে। ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও ফরিদপুর উপজেলায় ৯২টি স্বনামধন্য কোম্পানির পাশাপাশি ৯টি ব্যক্তিমালিকানাধীন চিলিং সেন্টার রয়েছে। বাঘাবাড়ী ঘাটকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই অঞ্চল দেশের দুধ উৎপাদন, সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের অন্যতম বড় কেন্দ্র। তবে বেড়া, সাঁথিয়া, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে নকল দুধ তৈরির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভোর থেকে সকাল ৯টা এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে চলে এসব কার্যক্রম। সয়াবিন তেল, গ্লুকোজ, স্যাকারিন, ইউরিয়া, ডিটারজেন্ট পাউডার, কস্টিক সোডাসহ বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করে তৈরি করা হয় দুধের মতো সাদা তরল। এতে রং, ঘনত্ব ও চর্বির মাত্রা এমনভাবে তৈরি করা হয় যে সাধারণভাবে দেখে তা বোঝার উপায় থাকে না। কিছু ব্যবসায়ী বাজার থেকে আসল দুধ কিনে ছানা বা ক্রিম আলাদা করার পর অবশিষ্ট তরল ফেলে না দিয়ে তাতে বিভিন্ন রাসায়নিক মিশিয়ে নকল দুধ তৈরি করেন।
ভেজাল কারবারিরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাসায়নিক অনলাইনে অর্ডার বা ফোনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা যায়। কুরিয়ার বা সরবরাহকারীর মাধ্যমে সেগুলো পৌঁছে যায় কথিত কারখানায়। তাদের অভিযোগ, চিলিং সেন্টারে নকল দুধ সরবরাহের ক্ষেত্রেও অনৈতিক লেনদেনের সুযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিলিং সেন্টার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে।
"৪০ লিটার ননিবিহীন সাদা পানিতে প্রায় ৪৫০ টাকার রাসায়নিক মিশিয়ে কথিত উচ্চফ্যাটযুক্ত দুধ তৈরি করা যায়। পরে ওই পরিমাণ তরল প্রায় ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। এতে প্রতি ৪০ লিটারে প্রায় ১ হাজার ৭৫০ টাকা লাভ হয়।"
গত ২৮ সেপ্টেম্বর বেড়ার পেচাকোলা ঘাট এলাকায় উত্তম ঘোষ ও পলি ঘোষ দম্পতিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর সাঁথিয়ার নাগডেমড়া এলাকায় জুঁই ডেইরি ফার্মের মালিককে বিভিন্ন অভিযোগে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ফরিদপুরের কেয়া ডেইরি, আমিনা ডেইরি, প্রিমিয়াম ফুড, বেড়ার জয়দেব ঘোষ ও ভাঙ্গুড়ার সিংগাড়ি গ্রামের আশরাফুল আলীকেও বিভিন্ন সময়ে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
অসাধু ব্যবসায়ীরা কম দামে নকল দুধ বিক্রি করায় প্রকৃত খামারিদের বাজার নষ্ট হচ্ছে। বাওইখোলা গ্রামের খামারি আশরাফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা লিটার দরে দুধ বিক্রি করে উৎপাদন খরচও উঠছে না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ অঞ্চলের দুগ্ধশিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পাবনা (ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর, বেড়া, সাঁথিয়া, বাঘাবাড়ী), সিরাজগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উত্তম ঘোষ, পলি ঘোষ, জুঁই ডেইরি ফার্মের মালিক, আশরাফুল ইসলাম, শাকিল হোসেন, আবদুল লতিফ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯২টি চিলিং সেন্টার, ৪৫০ টাকা রাসায়নিক খরচ, ২ হাজার টাকা বিক্রয় মূল্য, ১ হাজার ৭৫০ টাকা লাভ, ১ লাখ টাকা জরিমানা, ২ লাখ টাকা জরিমানা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!