📌 জাপানের হোক্কাইদো দ্বীপে প্রকৃতির খাঁটি উপাদান থেকে প্রসাধনী তৈরির বিপ্লব ঘটছে। স্যামন মাছের অংশ থেকে সেরাম, বিটরুট থেকে স্ক্রাব পর্যন্ত তৈরি পণ্যগুলি স্থানীয় অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে
জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় হোক্কাইদো দ্বীপে প্রকৃতির অদ্ভুত সৌন্দর্য ও অর্থনৈতিক বিপ্লবের গল্প চলছে। এই দ্বীপের সবুজ প্রান্তর, বরফগলা হ্রদ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। কিন্তু হোক্কাইদোর সবচেয়ে বড় বিপ্লব হলো প্রকৃতির খাঁটি উপাদান থেকে প্রসাধনী তৈরির নতুন যুগ। স্যামন মাছের পাতলা অংশ, বিটরুট, অ্যাসপারাগাস এবং বিরচগাছের রস — এসব থেকে তৈরি হচ্ছে ত্বক পরিচর্যার বিভিন্ন পণ্য। এই উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হোক্কাইদোতে ১৩টি প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে প্রসাধনী তৈরির বিপ্লব ঘটছে, যার মধ্যে রয়েছে স্যামন মাছের নাকের তরুণাস্থি, বিটরুট এবং অ্যাসপারাগাস
- 📌 সাপ্পোরো শহরের ‘অ্যাবিসাল জাপান’ প্রতিষ্ঠানটি সুগার বিটের দানা দিয়ে তৈরি বডি স্ক্রাব তৈরি করেছে, যা সংবেদনশীল ত্বক ও অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিসে আক্রান্তদের জন্য কার্যকর
- 📌 স্থানীয় ব্র্যান্ড ‘শিরো’ ২০২৩ সালে সুনাগাওয়া শহরে একটি বিশাল কারখানা খুলেছে, যেখানে ৮ লাখ পর্যটক ‘ফ্যাক্টরি ট্যুরিজম’ করে কারখানাটি দেখতে আসেন
- 📌 টোকিওভিত্তিক ‘ন্যাচারাল সায়েন্স’ প্রতিষ্ঠানটি একটি বন্ধ স্কুলকে কারখানায় রূপান্তর করেছে, যেখানে কুত্তারা হ্রদের পানি এবং ক্যালেন্ডুলা ফুল দিয়ে বিউটি অয়েল তৈরি হয়
- 📌 ‘কোসে করপোরেশন’ বিরচগাছের রস সংগ্রহের পাশাপাশি বন রক্ষা ও নতুন বিরচগাছ রোপণের খরচ বহন করছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে টেকসইভাবে উন্নত করছে
- 📌 হোক্কাইদোতে প্রসাধনী শিল্পের মাধ্যমে ৯৪ জন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮০ শতাংশ স্থানীয় অধিবাসী
📰 বিস্তারিত
হোক্কাইদো সরকারি কার্যালয়ে সম্প্রতি একটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় রূপচর্চা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃতির উপাদান থেকে তৈরি পণ্য নিয়ে অংশ নেয়। সাপ্পোরো শহরের ‘অ্যাবিসাল জাপান’ প্রতিষ্ঠানটি সুগার বিটের দানা দিয়ে তৈরি বডি স্ক্রাবের প্রদর্শনী দেয়। এই স্ক্রাব সংবেদনশীল ত্বক এবং অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিসে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্কদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। প্রদর্শনীতে আরও নজর কাড়ে স্যামন মাছের নাকের তরুণাস্থি থেকে তৈরি ময়শ্চারাইজিং সেরাম এবং জাপানি পুদিনা দিয়ে তৈরি সানস্ক্রিন। এসব প্রসাধনী ব্যবহারে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকায় ক্রেতাদের ভরসা দিন দিন বাড়ছে।
১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় ব্র্যান্ড ‘শিরো’ ২০২৩ সালে সাপ্পোরো থেকে এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত সুনাগাওয়া শহরে একটি বিশাল কারখানা খুলে। এই কারখানায় তারা হোক্কাইদোর প্রায় ১৩টি প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে প্রসাধন তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক কোহেই তাকেদার বলেন, ‘সেরা কাঁচামালের খোঁজে আমরা গোটা পৃথিবী ঘুরেছি, কিন্তু শেষমেশ দেখতে পেয়েছি সেরা উপাদানগুলো আমাদের নিজস্ব মাটিতে লুকিয়ে রয়েছে।’
প্রাকৃতিক উপাদান থেকে প্রসাধনী তৈরির এই উদ্যোগের ফলে গড়ে উঠেছে ‘ফ্যাক্টরি ট্যুরিজম’ বা কারখানা পর্যটন। জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ৮ লাখ পর্যটক এই কারখানায় ভিড় করেছেন। টোকিওভিত্তিক ‘ন্যাচারাল সায়েন্স’ প্রতিষ্ঠানটি একটি বন্ধ স্কুলকে কারখানায় রূপান্তর করেছে। তারা কুত্তারা হ্রদের পানি এবং নিজস্ব আঙিনায় চাষ করা ক্যালেন্ডুলা ফুল দিয়ে বিভিন্ন বিউটি অয়েল ও বডি ক্রিম তৈরি করছে। বছরে প্রায় ৮০ হাজার দর্শনার্থী এই প্রাঙ্গণ দেখতে আসেন।
জাপানের নামকরা প্রসাধন প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘কোসে করপোরেশন’ বিফুকা শহরের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি করে সাদা বিরচগাছের রস সংগ্রহ করছে। তারা শুধু রস সংগ্রহই নয়, অবহেলিত বন রক্ষা এবং নতুন বিরচগাছ রোপণের পুরো খরচও বহন করছে। এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় অর্থনীতি উন্নত হচ্ছে এবং বিফুকা শহর কাঁচামালের টেকসই হাব হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাচ্ছে।
"সেরা কাঁচামালের খোঁজে আমরা গোটা পৃথিবী ঘুরেছি, কিন্তু শেষমেশ দেখতে পেয়েছি সেরা উপাদানগুলো আমাদের নিজস্ব মাটিতে লুকিয়ে রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হোক্কাইদো দ্বীপ, জাপান (সাপ্পোরো, সুনাগাওয়া, বিফুকা শহর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কোহেই তাকেদার (শিরো প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩টি প্রাকৃতিক উপাদান, ৮ লাখ পর্যটক, ৮০ হাজার দর্শনার্থী, ৯৪ জন কর্মী, ৮০ শতাংশ স্থানীয় কর্মী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!