📌 রাজধানীর একটি মাদ্রাসার শৌচাগার থেকে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় শিক্ষক হাফেজ মো. জাকারিয়াকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। ঘটনার তদন্তে আরও তথ্য উঠে এসেছে
রাজধানীর রায়েরবাগের জোড়াখাম্বা এলাকার একটি মাদ্রাসার শৌচাগার থেকে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার শিক্ষক হাফেজ মো. জাকারিয়াকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। ঘটনার তদন্তে আরও নানা তথ্য উঠে এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজধানীর জোড়াখাম্বা এলাকার মাদ্রাসার শৌচাগার থেকে ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার
- 📌 শিক্ষক হাফেজ মো. জাকারিয়া (৩৫) ও অপর এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ
- 📌 আদালত জাকারিয়াকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন
- 📌 অপর শিক্ষকের বয়স মামলার এজাহারে ২০ বছর উল্লেখ থাকলেও আদালতে তাঁকে শিশু বিবেচনায় শিশু আদালতে পাঠানোর আদেশ
- 📌 ঘটনার দিন অর্থাৎ ৩ আগস্ট বেলা দেড়টার দিকে লাশ উদ্ধার
- 📌 নিহত শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন
📰 বিস্তারিত
রাজধানীর রায়েরবাগের জোড়াখাম্বা এলাকার একটি মাদ্রাসার তৃতীয় তলার শৌচাগার থেকে ৩ আগস্ট বেলা দেড়টার দিকে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মো. জাকারিয়া (৩৫) ও অপর এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী হারুনর রশীদ খান জানান, নিহত শিক্ষার্থী ও তার ছোট ভাই ওই মাদ্রাসায় পড়ত। বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষকেরা ওই শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতন চালাতেন। বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর মা তাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে আসতে চান, কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীটি আর মাদ্রাসায় পড়বে না বলে জানালে শিক্ষকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারধর করেন এবং বেলা একটা থেকে আড়াইটার মধ্যে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী হারুনর রশীদ খান বলেন, ১৩ বছরের একটি শিশুকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। অথচ আসামিপক্ষ এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করছে, যা অগ্রহণযোগ্য। তিনি আরও বলেন, নিহত শিক্ষার্থীটি পড়াশোনায় ভালো ও শান্ত স্বভাবের ছিল। মূলত গোপন রহস্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়েই তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আসামিদের রিমান্ড প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাদ্রাসার অন্য ছাত্রদেরও কোনো অভিযোগ নেই। সেখানে ধর্ষণ বা হত্যার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।
আদালত শিক্ষক জাকারিয়াকে মাদ্রাসায় সিসিটিভি ফুটেজ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ নেই, অনেক আগেই হার্ডডিস্ক নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া ওই শিক্ষার্থী এর আগেও কয়েকটি মাদ্রাসা থেকে পালিয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। আদালত প্রশ্ন করেন, ‘এই ডিজিটাল যুগে আপনাদের সিসিটিভি ফুটেজ নেই কেন?’
শুনানির একপর্যায়ে আদালত নিহত শিক্ষার্থীর ছোট ভাইকে ডেকে কথা বলেন। শিশুটি জানায়, ‘আমাদের অনেক মারধর করা হতো। ভাইয়ের সাথে বেশি খারাপ ব্যবহার করা হতো।’ কেমন খারাপ ব্যবহার করা হতো জানতে চাইলে শিশুটি আর কোনো উত্তর দেয়নি।
“আমরা হাফেজ মানুষ, আমরা মারিনি। ঘটনার দিন ওই ছেলে পড়া না পারায় তাকে কিছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। জোহরের নামাজের আগে সে বাথরুমে যায়। নামাজ শেষে খোঁজ নিয়ে জানা যায় সে ফেরেনি। পরে বাথরুমের দরজা ভেঙে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। আমাদের ছাত্ররা এর সাক্ষী।”
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত শিক্ষক জাকারিয়ার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং অপর শিক্ষককে শিশু আদালতে রিমান্ড শুনানির জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত প্রাঙ্গণে স্বজনদের বিক্ষোভ দেখা দেয়। আসামিদের আদালত থেকে নামানোর সময় উত্তেজিত স্বজনরা তাঁদের মারধর করতে উদ্যত হন। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানীর রায়েরবাগ, জোড়াখাম্বা এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হাফেজ মো. জাকারিয়া (৩৫), নিহত শিক্ষার্থী (১৩ বছর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ দিন রিমান্ড, ১৩ বছর বয়স, ৩৫ বছর বয়স, ২০ বছর বয়স
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!