📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে ৬৭ শিক্ষার্থী ও ৬ শিক্ষককে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এতে ২৮ জন বিবিএ ও ৩৯ জন এমবিএ শিক্ষার্থীকে সম্মানিত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যরা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের দায়িত্ব ও সাফল্যের ওপর জোর দেন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক দিন গড়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ৬৭ জন শিক্ষার্থী ও ৬ জন শিক্ষককে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এতে বিবিএ (ব্যাচেলর ইন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) বিভাগের ২৮ জন এবং এমবিএ (মাস্টার ইন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) বিভাগের ৩৯ জন শিক্ষার্থীকে সম্মানিত করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে ৬৭ শিক্ষার্থী ও ৬ শিক্ষককে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়
- 📌 বিবিএ বিভাগে ২৮ জন শিক্ষার্থী ও এমবিএ বিভাগে ৩৯ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়
- 📌 শিক্ষকদের মধ্যে ৩টি ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়
- 📌 অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ গবেষণা পরিবেশ উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার কথা বলেন
- 📌 ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'আমার বাবা-মা শিক্ষিত নন, কিন্তু তাদের উৎসাহ আমাকে এগিয়ে নিয়ে আসে'
- 📌 উপাচার্য ড. ফরিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষার আহ্বান জানান
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে অ্যাকাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ৪ জন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৩ জন, মার্কেটিং বিভাগের ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের শিক্ষার্থীদের মোট ১৪ জন, ফাইন্যান্স বিভাগের ১ জন এবং ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৬ জন। এমবিএ বিভাগে অ্যাকাউন্ট এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ৯ জন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৬ জন, মার্কেটিং বিভাগের ১২ জন, ফাইন্যান্স বিভাগের ১ জন, ব্যাংকিং এন্ড ইনসুরেন্স বিভাগের ৬ জন এবং ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৫ জন শিক্ষার্থীকে সম্মানিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন হলেন মোস্তাফিজুর রহমান, যিনি বর্তমানে শিক্ষক এবং সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, 'আমার গ্রামে ২০০৮ সালে বিদ্যুৎ আসে, কিন্তু শিক্ষা ও অবকাঠামো এখনও পিছিয়ে। আমার বাবা-মা শিক্ষিত নন, কিন্তু তাদের শিক্ষার প্রতি অসীম উৎসাহ আমাকে এগিয়ে নিয়ে আসে। এই পুরস্কার আমার জন্য পরিবারের গর্বের বিষয়।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার পরিবেশ উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার কাজ করছে। ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা করে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আবাসন, চিকিৎসাসেবা ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'এই পুরস্কার শুধু একাডেমিক অর্জনের স্বীকৃতি নয়, বরং ভবিষ্যত জীবনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।'
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. আব্দুল আলিম বলেন, 'শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ অনুশীলন ও মেধার স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এখন তাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে তারা ভবিষ্যতে কাজ করবেন এবং তাদের কর্ম ও সাফল্যের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নির্ভর করবে।'
উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'এ পুরস্কার শুধু সম্মাননা নয়, বরং তাদের জন্য একটি বড় দায়িত্ব। পরিবার, সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে ভালো মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। তিনি শিক্ষকদের জন্যও ডিনস অ্যাওয়ার্ড চালু করার কথা উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে প্রতিবছর এই আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
"আমার বাবা-মা শিক্ষিত নন, কিন্তু তাদের উৎসাহ আমাকে এগিয়ে নিয়ে আসে। এই পুরস্কার আমার জন্য পরিবারের গর্বের বিষয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, সিনেট ভবন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোস্তাফিজুর রহমান, অধ্যাপক মামুনুর রশীদ, ড. আব্দুল আলিম, ড. ফরিদুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৭ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, ২৮ বিবিএ শিক্ষার্থী, ৩৯ এমবিএ শিক্ষার্থী, ৬ শিক্ষক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!