📌 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে উপাচার্য ও কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে। পরে ছাত্রলীগ নেতারা তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করেন। নতুন পরিচালক নিয়োগের বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের পটভূমিতে ঘটনা ঘটে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট (আইসিএলসি) পরিচালক নিয়োগের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করেন। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী বিকেল সাড়ে চারটায় প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
- 📌 উপাচার্য নূরুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সিন্ডিকেট সভা শেষে বের হয়ে তালা দেখে অবাক হন।
- 📌 ছাত্রলীগ নেতারা তালা ভাঙে উপাচার্য ও কর্মকর্তাদের উদ্ধার করেন এবং স্লোগান দেন।
- 📌 তুলনামূলক সাহিত্য ইনস্টিটিউটের শিক্ষক মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম নতুন পরিচালক নিয়োগকে বিধিমালার বিরুদ্ধে আখ্যা দেন।
- 📌 শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, তাদের বিভাগের শিক্ষকদের মধ্য থেকে পরিচালক নিয়োগের দাবি পূরণ না হলে তালা ঝুলিয়ে দেবেন।
- 📌 উপাচার্য নূরুল ইসলাম বলেছেন, শিক্ষার্থীদের তালা দেওয়ার এখতিয়ার নেই এবং আইনবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
📰 বিস্তারিত
গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে এই নিয়োগের বিরুদ্ধে ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম এই নিয়োগকে বিধিমালার পরিপন্থী বলে আপত্তি জানান। অন্যদিকে, ছাত্রলীগ নেতারা ফেসবুকে পোস্ট করে হামীমকে "স্বৈরাচারের দোসর" আখ্যা দেন।
বিকেল চারটার দিকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। সিন্ডিকেট সভা চলাকালীন উপাচার্য বের হয়ে তালা দেখে অবাক হন। এরপর ছাত্রলীগ নেতারা মিছিল নিয়ে এসে তালা ভাঙে এবং উপাচার্য ও কর্মকর্তাদের উদ্ধার করেন। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, তাদের বিভাগের শিক্ষকদের মধ্য থেকে পরিচালক নিয়োগের দাবি পূরণ না হলে তারা তালা ঝুলিয়ে দেবেন। তবে ছাত্রলীগ নেতারা দাবি করেন, তারা তালা ভাঙেননি, সাধারণ শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা তালা ভাঙিনি, সাধারণ শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙেছেন। আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হলে তারা তার সঙ্গে দেখা করতে পারে, কিন্তু তালা দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।
"বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক। শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হলে তারা আমার সঙ্গে দেখা করবে, কথা বলবে। কিন্তু রেজিস্ট্রার ভবনে তালা দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।"
উপাচার্য নূরুল ইসলাম আরও বলেন, যাঁরা তালা দিয়েছেন এবং এর পেছনে যেসব শিক্ষক রয়েছেন, তাঁদের সবাইকে খুঁজে বের করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশাসনিক ভবন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উপাচার্য মো. নূরুল ইসলাম, শিক্ষক মোহাম্মদ কামরুল হক হামীম, ছাত্রলীগ নেতা জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!