📅 ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

আবুল কাসেম ফজলুল হক: গণতান্ত্রিক সমাজের স্বপ্নের বুদ্ধিজীবী—বাংলা একাডেমিতে শ্রদ্ধা সভা

আবুল কাসেম ফজলুল হক: গণতান্ত্রিক সমাজের স্বপ্নের বুদ্ধিজীবী—বাংলা একাডেমিতে শ্রদ্ধা সভা

📷 ছবি: দেশজোগ

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 ৫ জুলাই প্রয়াত বাংলা একাডেমি সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের শ্রদ্ধা সভায় প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী (তাঁর ছাত্র)। সভাপ্রধান ভাষাবিদ মনসুর মুসা (সহপাঠী)। বক্তা: মোরশেদ শফিউল হাসান, সৈয়দ আজিজুল হক, মাহবুব বোরহান, আফজালুল বাসার, কন্যা শুচিতা শরমিন, মোহাম্মদ আজম।

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক জনগণের গণতান্ত্রিক সমাজের স্বপ্ন দেখতেন—তিনি ছিলেন আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে, কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের পক্ষে। ৫ জুলাই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যাওয়া এই বাংলা একাডেমি সভাপতি, প্রাবন্ধিক ও বুদ্ধিজীবীর প্রয়াণ-উত্তর শ্রদ্ধা নিবেদন ও পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী—যিনি ছিলেন ফজলুল হকের ছাত্র। মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপ্রধান ছিলেন ভাষাবিদ অধ্যাপক মনসুর মুসা—ফজলুল হকের বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী ও সহকর্মী।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ৫ জুলাই ২০২৬ পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যান—তিনি ছিলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি, প্রাবন্ধিক ও বুদ্ধিজীবী।
  • মঙ্গলবার বাংলা একাডেমি কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে 'প্রয়াণ-উত্তর শ্রদ্ধা নিবেদন ও পর্যালোচনা সভা'—প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী (ফজলুল হকের ছাত্র)।
  • সভাপ্রধান ছিলেন ভাষাবিদ অধ্যাপক মনসুর মুসা—ফজলুল হকের বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী ও সহকর্মী।
  • সংস্কৃতিমন্ত্রী উদ্ধৃতি দিয়েছেন: 'কোনো কোনো মৃত্যু পালকের মতো হালকা আর কোনো মৃত্যু থাই পাহাড়ের চেয়ে ভারী'—তাঁর কাছে শিক্ষকের মৃত্যু 'হিমালয় পর্বতের মতো ভারী'।
  • ফজলুল হকের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল উদারনৈতিক, মানবতাবাদী, অসাম্প্রদায়িক—আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে এবং কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের পক্ষে।
  • অনুষ্ঠানে বক্তা: অধ্যাপক মোরশেদ শফিউল হাসান, অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক, অধ্যাপক মাহবুব বোরহান, প্রাবন্ধিক আফজালুল বাসার, কন্যা অধ্যাপক শুচিতা শরমিন এবং বাংলা একাডেমি মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
  • মনসুর মুসা ফজলুল হকের সব রচনা পাঠকের কাছে সহজলভ্য করার জন্য রচনাবলি প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

'পর্বতের মতো ভারী' মৃত্যু—নিতাই রায় চৌধুরী

অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল আবুল কাসেম ফজলুল হকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে। বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী স্মৃতিচারণা করে বলেন, শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা ছাড়াও রাজনীতি ও জীবনের শিক্ষা পেয়েছেন তাঁর কাছে। প্রথমবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রিয় শিক্ষকের কাছে গিয়েছিলেন তাঁর আশীর্বাদের জন্য।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, আবুল কাশেম ফজলুল হক ভাবতেন, রাষ্ট্র হবে জনগণের রাষ্ট্র। জনগণই হবে রাষ্ট্রের চালিকা শক্তি। আর এই রাষ্ট্রের চরিত্র হবে কল্যাণকর। তিনি একটি বিখ্যাত উক্তি উল্লেখ করে বলেন, 'কোনো কোনো মৃত্যু পালকের মতো হালকা আর কোনো মৃত্যু থাই পাহাড়ের চেয়ে ভারী।' আমার কাছে স্যারের মৃত্যু হিমালয় পর্বতের মতো ভারী। সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কাসেম ফজলুল হকের ছাত্র—শিক্ষকের মৃত্যু তাঁর কাছে 'পর্বতের মতো ভারী' বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

স্মৃতির আলোয় ফিরে দেখা

আলোচকদের প্রায় সবাই ছিলেন আবুল কাসেম ফজলুল হকের সরাসরি ছাত্র বা ছাত্রসম। আর সভাপ্রধান ভাষাবিদ অধ্যাপক মনসুর মুসা ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী ও সহকর্মী। ফলে আলোচকদের স্মৃতির আলোয় উঠে এসেছিল তাঁর শিক্ষকতার বৈশিষ্ট্য থেকে শুরু করে তাঁর রচনা, চিন্তা, আদর্শ, কর্ম ও জীবনযাপনের বিবিধ প্রসঙ্গ।

মোরশেদ শফিউল হাসান: 'সার্বক্ষণিক শিক্ষক'

অধ্যাপক ও প্রাবন্ধিক মোরশেদ শফিউল হাসান বলেন, শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক নন, তিনি ছিলেন সার্বক্ষণিক শিক্ষক। গ্রিক দার্শনিকেরা যেমন হাটবাজারে, জনসমাগম স্থানে মানুষকে শিক্ষা দিতেন, তিনিও ছিলেন অনেকটা তেমন। এই তুলনা ফজলুল হকের শিক্ষকতার পরিধি কতটা বিস্তৃত ছিল তা বোঝায়—শ্রেণিকক্ষের বাইরেও তিনি সমাজের সর্বত্র জ্ঞান বিতরণ করতেন।

সৈয়দ আজিজুল হক: 'পরমত সহিষ্ণুতা'

অধ্যাপক ও গবেষক সৈয়দ আজিজুল হক বলেন, আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন বাংলাদেশপন্থী বুদ্ধিজীবী। পরমত সহিষ্ণুতা ছিল তাঁর চরিত্রের বিশেষ গুণ। অন্যের মত যদি তাঁর সঙ্গে না-ও মিলত, তবু তিনি বিরোধী মতের যুক্তি অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে শুনতেন। ছিলেন নির্বিরোধ স্বভাবের মানুষ। চিন্তার জায়গায় তিনি ছিলেন উদার, অসাম্প্রদায়িক, সমকালীনতার পক্ষে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো একজন প্রকৃত গণতান্ত্রিক বুদ্ধিজীবীর পরিচয় বহন করে।

মাহবুব বোরহান: 'অহিংসবাদী অটল মানুষ'

অধ্যাপক মাহবুব বোরহান বলেন, আবুল কাসেম ফজলুল হক যা বিশ্বাস করেছেন, সত্য বলে মনে করেছেন, তা বলেছেন, লিখেছেন। প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছেন। কে কী মনে করল বা করল না এসব নিয়ে ভাবেননি। তিনি ছিলেন অহিংসবাদী। তাঁর ধ্যান, জ্ঞান, সাধনার বিষয় ছিল দেশ, দেশের মানুষ। এই অটলতা এবং অহিংসবাদ তাঁকে সমসাময়িক অনেকের থেকে আলাদা করেছে—তিনি জনপ্রিয়তার চেয়ে সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে বেশি আগ্রহী ছিলেন।

আফজালুল বাসার: আহমদ শরিফের তুলনীয় পাণ্ডিত্য

প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক আফজালুল বাসার বলেন, বাংলার ১৯ শতকের জাগরণ, সাহিত্য ও ইতিহাস ছিল তাঁর হাতের তালুর মতো পরিষ্কার। এ বিষয়ে পাণ্ডিত্যের ক্ষেত্রে অধ্যাপক আহমদ শরিফ ছাড়া তাঁর সঙ্গে তুলনীয় আর কেউ নেই। এই তুলনা ফজলুল হকের পাণ্ডিত্যের মাত্রা প্রকাশ করে—বাংলা সাহিত্য ও ইতিহাসে তিনি ছিলেন অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় গবেষক।

কন্যা শুচিতা শরমিন: 'অনাড়ম্বর জীবনযাপন'

পরিবারের পক্ষে তাঁর মেয়ে অধ্যাপক শুচিতা শরমিন বলেন, শৈশব থেকে তিনি দেখেছেন তাঁর বাবা সারা রাত ধরে পড়ালেখা করতেন। খুব অনাড়ম্বর সহজ জীবন যাপন করতেন। কোনো পদের লোভ ছিল না। এই সহজ সরল জীবনযাপন ফজলুল হকের চরিত্রের একটি বিশেষ দিক প্রকাশ করে—তিনি পদ বা প্রতিপত্তির চেয়ে জ্ঞান ও আদর্শকে বেশি গুরুত্ব দিতেন।

'রচনাবলি প্রকাশের উদ্যোগ প্রয়োজন'—মনসুর মুসা

স্বাগত বক্তব্যে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, যথার্থভাবেই আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন অন্যতম প্রধান বুদ্ধিজীবী। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল উদারনৈতিক ও মানবতাবাদী। শেষ দিন পর্যন্ত তিনি তাঁর চিন্তা ও বিশ্বাসের প্রতি অটল ছিলেন।

সভাপ্রধানের বক্তব্যে অধ্যাপক মনসুর মুসা তাঁর সহপাঠীকে হারানোর জন্য ব্যক্তিগত গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, আবুল কাসেম ফজলুল হকের সব রচনা পাঠকের কাছে সহজলভ্য করার জন্য রচনাবলি প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এই আহ্বান বাংলা সাহিত্যে ফজলুল হকের রচনাগুলো সংরক্ষণ ও প্রচারের গুরুত্ব তুলে ধরে—যাতে আগামী প্রজন্ম তাঁর চিন্তাধারা থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারে।

'কোনো কোনো মৃত্যু পালকের মতো হালকা আর কোনো মৃত্যু থাই পাহাড়ের চেয়ে ভারী। আমার কাছে স্যারের মৃত্যু হিমালয় পর্বতের মতো ভারী।'—সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শ্রদ্ধা নিবেদন সভায় তাঁর শিক্ষক আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রতি
যাচাই অবস্থা: ✓ যাচাইকৃত (নির্ভরতা স্কোর: 80%)

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖