📌 গাজার ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে ভোটাররা কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও পুনরুদ্ধারকে প্রধান দাবি হিসেবে তুলে ধরেছেন। ৮০ শতাংশ বেকারত্ব ও ৭৪ হাজার মৃতের পরিস্থিতিতে নির্বাচনকে জীবনযাপনের উন্নতির প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখছেন তারা
গাজা পটভূমিতে নির্বাচনের আগে জনগণের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আলোচনা চলছে। ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া প্যালেস্টাইন লেজিসলেটিভ নির্বাচনে গাজার ভোটাররা প্রধানত কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি চাইছেন। গাজা উপত্যকার অর্থনৈতিক ধ্বংসাবশেষ ও ৮০ শতাংশ বেকারত্বের পরিস্থিতিতে এই নির্বাচনকে তারা জীবনযাপনের উন্নতির প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **আহমদ মোহসেন (২৪)** বলেছেন, “আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি এবং আমার কাজের বেতনও পাওয়ার কথা ছিল না, তাই আমি আরো একটি কাজ খুঁজতে বাধ্য হয়েছি যা আমাকে অন্তত কিছু আয় দিতে পারে।”
- 📌 গাজায় বেকারত্বের হার **৮০ শতাংশ**। গত তিন বছরে ইসরায়েলের যুদ্ধে **৭৪ হাজার প্যালেস্টাইনির মৃত্যু** হয়েছে এবং অর্থনীতির ধ্বংসের পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত রয়েছে।
- 📌 **গাসান মারওয়ান (৫৩)** বলেছেন, “আমার ঘর ও কারখানা যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন আমি শুধু পুনরুদ্ধার, শান্তি ও দেশে নিরাপত্তা চাই।”
- 📌 **২০০৬ সালের নির্বাচন** ছিল গাজার সর্বশেষ লেজিসলেটিভ নির্বাচন। সেই সময় **মুস্তাফা বারঘৌটি**-এর নেতৃত্বে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দিয়েছিলেন গাসান মারওয়ান। তিনি সে সময়ের নির্বাচনকে “সরাসরি ও নিরপেক্ষ” বলে বর্ণনা করেছেন।
- 📌 **আহমদ মোহসেন** বলেছেন, “একজন প্রার্থীকে জনগণের অবস্থান থেকে কথা বলতে হবে, তাদের আওয়াজে কথা বলতে হবে। আমরা ২০ বছর ধরে যুদ্ধ ও ধ্বংসের শিকার। এখন অবসান দিতে হবে এই অবস্থার।”
📰 বিস্তারিত
গাজার দের এল-বালাহে অবস্থিত একটি ইন্টারনেট প্রি-পেইড কার্ড বিক্রয় দোকানে বসে আছেন আহমদ মোহসেন। তিন বছর আগে, ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে, তিনি নার্সিং ডিগ্রি লাভ করেছিলেন এবং পেশাগত লাইসেন্স পেতে প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। তার স্বপ্ন ছিল হাসপাতালে কাজ করা, মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করা বা বিশেষায়িত কোর্সে অংশ নেওয়া। কিন্তু যুদ্ধ তাকে আরো একটি পথে নিয়ে গেছে।
যুদ্ধের প্রথম মাসগুলিতে, তিনি আল-আকসা শাহিদ হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছিলেন। কিন্তু বেতন না পাওয়ার কারণে তিনি আরো একটি কাজ খুঁজতে বাধ্য হন। তিনি বলেছেন, “আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি এবং আমার কাজের বেতনও পাওয়ার কথা ছিল না, তাই আমি আরো একটি কাজ খুঁজতে বাধ্য হয়েছি যা আমাকে অন্তত কিছু আয় দিতে পারে।”
২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া প্যালেস্টাইন লেজিসলেটিভ নির্বাচন হবে তার প্রথম জাতীয় ভোট। তিনি বলেছেন, “প্রথমত আমি চাই একটি স্থায়ী কর্মসংস্থান যা আমাকে একটি ভাল বেতন দিয়ে আমার পরিবারকে সমর্থন করতে পারে। দ্বিতীয়ত, আমি চাই নিরাপত্তা।” গাজায় বেকারত্বের হার **৮০ শতাংশ** এবং অর্থনীতির ধ্বংসাবশেষ এখনও অব্যাহত রয়েছে।
গাসান মারওয়ান, ৫৩ বছর বয়সী, তার জীবনের স্মৃতি নিয়ে কথা বলছেন। তিনি ২০০৬ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন, যখন হামাস জয়লাভ করেছিল। তিনি একটি স্বতন্ত্র রাজনীতিবিদ মুস্তাফা বারঘৌটির তালিকায় ভোট দিয়েছিলেন। তিনি সে সময়ের নির্বাচনকে “সরাসরি ও নিরপেক্ষ” বলে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ২০ বছর পর, তার জীবন সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, “আমার ঘর ও কারখানা যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন আমি শুধু পুনরুদ্ধার, শান্তি ও দেশে নিরাপত্তা চাই।”
গাসান মারওয়ান আরও বলেছেন, “আমার সন্তানরা টেন্টে বসবাস করছে, যা আমি তাদের জন্য একটি স্থায়ী বাড়ি দিতে চেয়েছিলাম। যুদ্ধের কারণে আমি আবারও দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হয়েছি, যা আমি কখনো ভাবতাম না।”
"আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি এবং আমার কাজের বেতনও পাওয়ার কথা ছিল না, তাই আমি আরো একটি কাজ খুঁজতে বাধ্য হয়েছি যা আমাকে অন্তত কিছু আয় দিতে পারে।"
"প্রথমত আমি চাই একটি স্থায়ী কর্মসংস্থান যা আমাকে একটি ভাল বেতন দিয়ে আমার পরিবারকে সমর্থন করতে পারে। দ্বিতীয়ত, আমি চাই নিরাপত্তা।"
"একজন প্রার্থীকে জনগণের অবস্থান থেকে কথা বলতে হবে, তাদের আওয়াজে কথা বলতে হবে। আমরা ২০ বছর ধরে যুদ্ধ ও ধ্বংসের শিকার। এখন অবসান দিতে হবে এই অবস্থার।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা উপত্যকা (দের এল-বালাহ, নুসাইরাত), প্যালেস্টাইন
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: আহমদ মোহসেন (২৪), গাসান মারওয়ান (৫৩), মুস্তাফা বারঘৌতি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০ শতাংশ বেকারত্ব, ৭৪ হাজার মৃত্যু, ২০ বছর ধ্বংসাবস্থা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!