📌 বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৪ কোটি টেনিস বল ব্যবহারের পর বাতিল হয়ে যায়। এর মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ পুনর্ব্যবহৃত হয়। এবার সেই পরিত্যক্ত টেনিস বল থেকেই তৈরি হচ্ছে টেকসই জুতা। রয়্যাল কলেজ অব আর্ট ও ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ডিজাইনার সোরুশ রিয়াজি ইসফাহানি উদ্ভাবন করেছেন এমন অভিনব প্রকল্প।
বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৪ কোটি টেনিস বল তৈরি করা হয়। ব্যবহারের পর এসব বলের অধিকাংশই পরিত্যক্ত হয়ে যায়। পুনর্ব্যবহারের হারও খুবই কম—মাত্র ১ শতাংশ। তবে এবার সেই পরিত্যক্ত টেনিস বলই জায়গা করে নিচ্ছে ফ্যাশনের নতুন ক্ষেত্রে। রয়্যাল কলেজ অব আর্ট ও ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ডিজাইনার সোরুশ রিয়াজি ইসফাহানি এমনই অভিনব একটি প্রকল্প তৈরি করেছেন। তাঁর উদ্ভাবিত ‘স্লাইস’ (SLICE) নামের এই প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যবহৃত টেনিস বল থেকে জুতা তৈরি করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪ কোটি টেনিস বল তৈরি হয়
- 📌 ব্যবহৃত টেনিস বলের মাত্র ১ শতাংশ পুনর্ব্যবহৃত হয়
- 📌 রয়্যাল কলেজ অব আর্ট ও ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ডিজাইনার সোরুশ রিয়াজি ইসফাহানি উদ্ভাবন করেছেন ‘স্লাইস’ প্রকল্প
- 📌 ‘স্লাইস’ প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জেমস ডাইসন অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়েছে
- 📌 ব্যবহৃত টেনিস বলকে গুঁড়া না করে বিশেষ কাটিং পদ্ধতিতে জুতার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
টেনিস বলের পুনর্ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে কাজ করেছেন রয়্যাল কলেজ অব আর্ট ও ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ডিজাইনার সোরুশ রিয়াজি ইসফাহানি। তাঁর উদ্ভাবিত ‘স্লাইস’ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যবহৃত টেনিস বল থেকে জুতা তৈরি করা হচ্ছে। এই প্রকল্পটি ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। কারণ, প্রচলিত পুনর্ব্যবহার পদ্ধতি থেকে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাধারণত পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়ায় উপাদানকে গুঁড়া বা ভেঙে কাঁচামালে পরিণত করা হয়। পরে সেই কাঁচামাল দিয়ে নতুন পণ্য তৈরি করা হয়। কিন্তু ‘স্লাইস’ প্রকল্পে টেনিস বলকে গুঁড়া না করে বিশেষ কাটিং পদ্ধতিতে জুতার বিভিন্ন অংশে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে বলের রাবার ও ফেল্ট স্তর যতটা সম্ভব অক্ষত রাখা সম্ভব হচ্ছে।
সোরুশ রিয়াজি ইসফাহানি শুরুতে ব্যবহৃত টেনিস বল গুঁড়া করে প্রাকৃতিক রাবারের সঙ্গে মিশিয়ে জুতার আউটসোল তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে পরে তিনি সেই ভাবনা থেকে সরে আসেন। কারণ, বল গুঁড়া করলে এর স্থিতিস্থাপকতা, স্তরবিন্যাস এবং বাইরের ফেল্টের বিশেষ স্পর্শ হারিয়ে যায়। অন্যদিকে কেটে ব্যবহার করলে এসব বৈশিষ্ট্য অনেকটাই অক্ষত থাকে। ফলে পরিত্যক্ত উপাদানটির নিজস্ব পরিচয়কেও গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
টেনিস বলের রাবার টেকসই এবং বাইরের ফেল্টে ভালো গ্রিপ রয়েছে। টেনিস কোর্টে বলটিকে কার্যকর রাখে যে বৈশিষ্ট্যগুলো, সেগুলো জুতার ক্ষেত্রেও কাজে লাগানো সম্ভব। এই ধারণাটিকেই কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ‘স্লাইস’ প্রকল্প। প্রকল্পটির মাধ্যমে পরিত্যক্ত টেনিস বলকে শুধু পুনর্ব্যবহৃত উপাদান হিসেবে না দেখে, তার ভেতরে থাকা সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
"পরিবেশবান্ধব হওয়ার বিষয়টি এখানে আলাদা কোনো সংযোজন নয়; পুরো নকশার কেন্দ্রেই রয়েছে পুনর্ব্যবহার। টেনিস বলই এই জুতার মূল উপাদান, আবার পুরো ধারণার ভিত্তিও সেই টেনিস বল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: লন্ডন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সোরুশ রিয়াজি ইসফাহানি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ কোটি, ১ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!