📌 বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গ্রামাঞ্চলে মুঠোফোন নেটওয়ার্কের মান উন্নত করতে ই-জিএসএম তরঙ্গের নিলামের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু বাংলালিংক নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব চাইছে। রবি অপারেটর দ্রুত নিলামের দাবি জানিয়েছে
বাংলাদেশে গ্রামাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকায় মুঠোফোন নেটওয়ার্কের মান উন্নত করতে ই-জিএসএম তরঙ্গের নিলামে বিলম্ব সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) রবি ও বাংলালিংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই তরঙ্গের নিলামের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু বাংলালিংক নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব চাইছে। অন্যদিকে রবি দাবি করেছে, গ্রাহকের সেবার মান উন্নত করতে দ্রুতই নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলালিংক টেলিযোগাযোগ নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ই-জিএসএম তরঙ্গের নিলাম বিলম্ব চাইছে, কারণ নতুন নীতিতে স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগের দিকনির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
- 📌 রবি দাবি করেছে, গ্রাহকের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে দ্রুতই ই-জিএসএম তরঙ্গের বরাদ্দ করা প্রয়োজন। তারা বলেছে, টেলিযোগাযোগ নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে এই তরঙ্গের নিলামের সরাসরি সম্পর্ক নেই।
- 📌 বিটিআরসি গত জুন মাসে ৮৮০-৮৮৮.৪ মেগাহার্টজ ও ৯২৫-৯৩৩.৪ মেগাহার্টজ রেঞ্জের ইজিএসএম ব্যান্ডের বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কিন্তু তরঙ্গের মূল্য নির্ধারণে সরকারের সিদ্ধান্ত অপেক্ষায় রয়েছে।
- 📌 বাংলাদেশে মুঠোফোন গ্রাহকের সংখ্যা ১৯ কোটিরও বেশি, যেখানে লোয়ার-ব্যান্ড তরঙ্গের সুবিধা হলো দূরত্বে সিগন্যালের মান বজায় রাখা এবং ভবনের ভেতরেও ভালোভাবে প্রবেশ করা।
📰 বিস্তারিত
মুঠোফোন নেটওয়ার্কের সিগন্যালের কাজ বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির তরঙ্গ দ্রুতগতির ইন্টারনেট দিতে সক্ষম হলেও দেয়াল বা ছাদের বাধা সহজে ভেদ করতে পারে না। ফলে টাওয়ারের কাছাকাছি থাকলেও ঘরের ভেতরে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যায়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ‘লোয়ার-ব্যান্ড’ তরঙ্গের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশে গ্রামীণ কভারেজ উন্নত করতে এই ধরনের তরঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেছেন, কভারেজ ও গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নত করতে ইজিএসএম স্পেকট্রামের কার্যকর ব্যবহারের পক্ষে তারা। তবে নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে তরঙ্গের বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ভবিষ্যতের নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্য সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, আগামী নভেম্বর মাসে তরঙ্গ নবায়ন ও নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে স্পেকট্রাম ভাগাভাগি ও এমভিএনওসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বিপরীতে, রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেছেন, তরঙ্গের চাহিদা অপারেটরভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে রবির গ্রাহকদের জন্য সেবার মান উন্নত করতে তরঙ্গের চাহিদা রয়েছে। তারা বিটিআরসিকে অনুরোধ করেছে, দ্রুতই ই-জিএসএম তরঙ্গের বরাদ্দ করা হোক। তিনি আরও বলেছেন, টেলিযোগাযোগ নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে এই তরঙ্গের নিলামের সরাসরি সম্পর্ক নেই।
"টেলিযোগাযোগ নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত স্পেকট্রাম বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ভবিষ্যতের নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্য সৃষ্টি হতে পারে।" — তাইমুর রহমান, বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (গ্রামাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকা)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: এমদাদ উল বারী (বিটিআরসি চেয়ারম্যান), তাইমুর রহমান (বাংলালিংক), সাহেদ আলম (রবি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮৮০-৮৮৮.৪ মেগাহার্টজ, ৯২৫-৯৩৩.৪ মেগাহার্টজ, ১৯ কোটি (মুঠোফোন গ্রাহক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!