📌 ১৯৬৯ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হন রকিবুল হাসান। তাঁর জীবনের বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা ও ক্রিকেটের প্রথম আন্তর্জাতিক তারকা হওয়ার গল্প তুলে ধরেছেন তিনি
ক্রিকেট ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়ের সাক্ষী ছিলেন রকিবুল হাসান। ১৯৬৯ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। তাঁর জীবনের এই অসাধারণ অভিজ্ঞতা ও ক্রিকেটের প্রথম আন্তর্জাতিক তারকা হওয়ার গল্প উন্মোচন করেছেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৬৯ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হন রকিবুল হাসান
- 📌 সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুলের ছাত্র ছিলেন তিনি, যেখানে ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলার সুযোগ ছিল
- 📌 তাঁর বাবা সালেহ উদ্দিন আহমেদ ছিলেন পুলিশ সুপার, যিনি পরিবারের লেখাপড়ার স্বার্থে বারবার বদলির চাকরি সত্ত্বেও সন্তানদের সেন্ট গ্রেগরী স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে দিয়েছিলেন
- 📌 রকিবুল হাসান সহ চার ভাই ছিলেন, যাদের মধ্যে তাঁর ভাই রফিকুল হাসানও ক্রিকেটার ছিলেন
- 📌 সেন্ট গ্রেগরী স্কুলে ‘পেনম্যানশিপ’ নামে একটি বিষয় ছিল, যেখানে সুন্দর হাতের লেখা শেখানো হতো
📰 বিস্তারিত
ক্রিকেট ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়ের সাক্ষী ছিলেন রকিবুল হাসান। ১৯৬৯ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। তাঁর জীবনের এই অসাধারণ অভিজ্ঞতা ও ক্রিকেটের প্রথম আন্তর্জাতিক তারকা হওয়ার গল্প উন্মোচন করেছেন তিনি।
রকিবুল হাসান তাঁর শৈশবের কথা স্মরণ করে বলেন, "আমি যখন প্রথম ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেট খেলি—পাকিস্তানে যেটি ‘কায়েদে আজম ট্রফি’ নামে পরিচিত—তখন আমি সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুলে ক্লাস টেনে পড়ি। সেন্ট গ্রেগরীতে।" তিনি আরও জানান, "ওই সময় আমি ইস্ট পাকিস্তান টিমে চান্স পাই। তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান। এই আজকের বাংলাদেশ। ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে সুযোগ পেলেও আমি নিজেই শিওর ছিলাম না যে দলে থাকতে পারব। কারণ, ওপেনারের জায়গার জন্য আমরা চারজন ট্রায়াল দিচ্ছিলাম। শামিম ভাই ছিলেন, জুয়েল ছিল, বকুল ভাই ছিলেন—আর চতুর্থ ওপেনার হিসেবে ছিলাম আমি।"
তিনি আরও বলেন, "মরহুম রইস ভাই, যিনি ইস্ট পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশনের (ইপিএসএফ) সেক্রেটারি ছিলেন, আমাকে খবর পাঠালেন, ‘তুই প্র্যাকটিসে আয়, থাকবি।’ মাঝখানে কী হয়েছে, আমি জানি না। কীভাবে বা কোন বিবেচনায় সেই সুযোগটা এল, সেটা আজও আমি জানি না।"
"আমাদের ‘পেনম্যানশিপ’ নামে একটি আলাদা বিষয় ছিল। সেখানে বিশেষভাবে সুন্দর হাতের লেখা শেখানো হতো।"
রকিবুল হাসান তাঁর পরিবারের কথা উল্লেখ করে বলেন, "আমাদের চার ভাইয়ের লেখাপড়ার স্বার্থে বাবা অনেক স্যাক্রিফাইস করেছিলেন। চাকরিতে বদলি হলেও তিনি নিশ্চিত করেছিলেন, আমরা যেন সবাই সেন্ট গ্রেগরী স্কুলেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারি। চার ভাই।" তাঁর ভাইদের মধ্যে রফিকুল হাসানও ক্রিকেটার ছিলেন। অন্য ভাই রওফুল হাসান ছিলেন আবু জাব্বার স্পোর্টসের কর্ণধার এবং বিবিসির লোকাল করেসপনডেন্ট। তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
তিনি আরও জানান, "সেন্ট গ্রেগরী স্কুল ছিল একেবারে অন্য রকম একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেখানে পাদরিরা পড়াতেন। তাঁদের একটি দর্শন ছিল—‘দে মেক আ ম্যান আউট অব আ বয়’ অর্থাৎ, একটি শিশুকে শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। তাঁরা আমাদের এমনভাবে গড়ে তুলতেন, যাতে আমরা অলরাউন্ড হিসেবে বিকশিত হই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রকিবুল হাসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!