📌 ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পর্তুগালের জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে অদ্যাবধি বিদায় নেন। নরওয়ের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০ বছরের ফুটবল ক্যারিয়ার জুড়ে রোনালদো তার বিতর্কিত ও নাটকীয় ঘটনাগুলোর স্মৃতি ফিরিয়ে দিচ্ছেন।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পর্তুগালের জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে অদ্যাবধি বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্তে ফুটবল বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের এই পদক্ষেপের পিছনে রহস্য মোড়ানো রয়েছে। নরওয়ের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচে রোনালদোকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কোচ জর্জ জেসুসের সাথে কোনো সমস্যা নেই বলে জানান তিনি, তবে এই ঘটনার পিছনে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে তা আড়াল করা যায়নি। রোনালদো বলেছেন, ‘সত্য বলবো পর্তুগালের মানুষের কাছে, কিন্তু সঠিক সময়ে’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রোনালদো পর্তুগালের জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে অদ্যাবধি বিদায় নেন, নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার প্রতিবাদ হিসেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে
- 📌 কোচ জর্জ জেসুস বলেছেন, রোনালদোর সাথে তাঁর কোনো সমস্যা নেই, তবে এই পদক্ষেপের পিছনে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে
- 📌 রোনালদো ২০ বছরের ফুটবল ক্যারিয়ারে বহুবার বিতর্কিত ঘটনা ঘটিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার সময়ের ‘আধুনিক দাসত্ব’ বিতর্ক
- 📌 ২০০৮ সালে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের মাঝপথে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা এবং ২০০৯ সালে ম্যানচেস্টার ডার্বিতে বদলিতে অসন্তোষ প্রকাশের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য
- 📌 ২০১২ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যোগদানের তিন বছর পর গ্রানাডার বিপক্ষে ম্যাচের পর রোনালদো বলেছিলেন, ‘আমি পেশাগত কারণে দুঃখী’
- 📌 ২০২১ সালে জুভেন্টাস ছেড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফিরে আসার সময়ও তিনি বেঞ্চে থাকার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন
📰 বিস্তারিত
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ২০ বছরের ফুটবল ক্যারিয়ারে বহুবার বিতর্কিত ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন। তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও ক্লাব কর্তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের শিকার ছিলেন। ২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার সময় তিনি ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারের সাথে সুর মিলিয়ে বলেছিলেন, ‘আমাকে জোর করে আটকে রাখা হচ্ছে, যা ‘আধুনিক দাসত্বের’ মতো’। এই বিতর্কের কারণে তিনি আরেক বছর অপেক্ষা করতে বাধ্য হন।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের মাঝপথে রোনালদো হঠাৎ মাঠ ছেড়ে যান। দলের সংখ্যা হ্রাস পায় ১০ জনে। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের দাবি ছিল, রোনালদোর নিতম্বে আঘাত লেগেছে। তবে এই ঘটনায় তার নিজের ইচ্ছা ও স্বাধীনতার প্রতি আস্থা প্রকাশ পায়।
২০০৯ সালের মে মাসে ম্যানচেস্টার ডার্বিতে একটি গোল করার পরও ফার্গুসন রোনালদোকে বদলি হিসেবে পল স্কোলসের বদলে নামিয়ে আনেন। এই সিদ্ধান্তে রোনালদো অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ডাগআউটে বসে বিরক্তি প্রকাশ করেন। এই ঘটনাটি ছিল রোনালদো ও ইউনাইটেডের মধ্যে দূরত্বের সূচনা।
২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রিয়াল মাদ্রিদে যোগদানের তিন বছর পর গ্রানাডার বিপক্ষে জোড়া গোল করার পরও রোনালদো বিষণ্ন ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি পেশাগত কারণে দুঃখী, আর ক্লাব তা জানে’। এই অসন্তোষের কারণে এক বছর পর তিনি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
২০১৩ সালের জুন মাসে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জোসে মরিনিওর সাথে রোনালদোর দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কোপা দেল রে ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে ঝামেলা এবং মৌসুমের শেষ কয়েকটি ম্যাচে রোনালদোকে বসিয়ে রাখার কারণে এই দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়। মরিনিও পরে বলেছিলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো মনে করে সে সব জানে’।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে রিয়াল মাদ্রিদে কার্লো আনচেলোত্তির স্থলাভিষিক্ত হওয়া রাফা বেনিতেজের সাথে রোনালদোর সম্পর্কও খারাপ ছিল। বেনিতেজের ট্যাকটিক্যাল অ্যাপ্রোচ নিয়ে রোনালদোর অসন্তোষের গুঞ্জন ছিল। তিনি আনচেলোত্তিকে ‘অবিশ্বাস্য মানুষ’ ও ‘ফ্যান্টাস্টিক কোচ’ বলে প্রশংসা করেছিলেন, যা বেনিতেজের বিদায় ঘণ্টা দ্রুত বাজিয়ে দিয়েছিল।
২০২১ সালের আগস্টে তুরিনে তিন বছর কাটানোর পর রোনালদো উদিনেসের বিপক্ষে লিগ মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে স্কোয়াডে নাম না থাকায় বাতাসে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তিনি রিয়াল মাদ্রিদে ফেরার গুঞ্জনকে ‘অসম্মানজনক’ বলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফিরে আসেন।
২০২২ সালের জানুয়ারিতে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ম্যাচে কোচ রালফ রাংনিক রোনালদোকে বদলে হ্যারি ম্যাগুয়ারকে নামিয়ে ডিফেন্স শক্ত করতে চাইলে রোনালদো সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি। মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সময় জামা ছুড়ে ফেলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে ম্যাচ শেষে ইউনাইটেড ৩-১ ব্যবধানে জয় পাওয়ায় কোচের কৌশলই সঠিক প্রমাণিত হয়।
"আমি পর্তুগালের মানুষের কাছে সত্য বলবো, কিন্তু সঠিক সময়ে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পর্তুগাল (জাতীয় দলের ক্যাম্প)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, জর্জ জেসুস, সেপ ব্লাটার, স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন, জোসে মরিনিও, রাফা বেনিতেজ, রালফ রাংনিক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ বছর (ক্যারিয়ার), ১০ জন (দলের সংখ্যা), ১২ বছর (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে গোল করার সময়কাল), ৩ বছর (রিয়াল মাদ্রিদে অসন্তোষের সময়কাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!