📅 ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

পেট ভরা হলেও কেন ডেজার্টের প্রতি আকর্ষণ কমে না? বিজ্ঞানীরা প্রকাশ করেন রহস্য

পেট ভরা হলেও কেন ডেজার্টের প্রতি আকর্ষণ কমে না? বিজ্ঞানীরা প্রকাশ করেন রহস্য

📷 ছবি: প্রথম আলো

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 পেট ভরা থাকা সত্ত্বেও ডেজার্ট বা নতুন স্বাদের খাবারের প্রতি মানুষের আকর্ষণ কেন বাড়ে? নিউইয়র্কের বিজ্ঞানীরা 'সেন্সরি-স্পেসিফিক স্যাটিটি' নামের মনস্তাত্ত্বিক ঘটনাটিকে দায়ী করেছেন। একই স্বাদের খাবার খাওয়ার একঘেয়েমি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য মানুষ নতুন স্বাদের খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ে

পেট ভরে খেয়ে ফেললেও নতুন স্বাদের খাবার বা ডেজার্টের সামনে আসলে কেন মানুষের আকর্ষণ কমে না? বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাটিকে 'সেন্সরি-স্পেসিফিক স্যাটিটি' বা সংবেদন নির্দিষ্ট তৃপ্তি বলে ব্যাখ্যা করেছেন। একই স্বাদের খাবার বারবার খাওয়ার ফলে মানুষের একঘেয়েমি বোধ হয়, কিন্তু নতুন স্বাদের খাবার সামনে আসলে সেই অনুভূতি মস্তিষ্ক খুব সহজেই ভুলে যায়।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 নিউইয়র্কের বিজ্ঞানী লেন এপস্টাইন বলেছেন, খাবারের বৈচিত্র্য মানুষের আকর্ষণ বাড়ায়। একই স্বাদের খাবার খাওয়ার একঘেয়েমি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য মানুষ নতুন স্বাদের খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়ে।
  • 📌 ২০১১ সালের গবেষণায় ৩২ জন নারীকে ম্যাকরনি অ্যান্ড চিজ খাওয়ার পর দেখা গেল, প্রতিদিন একই খাবার খাওয়ানো দলের মানুষের খাওয়ার পরিমাণ কমে যায়। একঘেয়ে খাবারের কারণে আগ্রহ কমে যায়।
  • 📌 ২০১৩ সালের গবেষণায় ৩১ জন শিশুকে তিনটি দলে ভাগ করে খাওয়ানো হয়। খাবারের বৈচিত্র্য বেশি থাকা দলের শিশুরা একঘেয়ে খাবার খাওয়ানো শিশুদের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলেছে।
  • 📌 মস্তিষ্কের রাসায়নিক ডোপামিন মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ায়। ভারী খাবারের পর মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করলে মস্তিষ্ক আগে থেকেই মিষ্টির জন্য জায়গা তৈরি করে দেয়।
  • 📌 পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বারবারা রোলস সতর্ক করেছেন, আধুনিক যুগে অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবারের অভাব নেই। ফলে পেট ভরা থাকা সত্ত্বেও মানুষ বেশি খেয়ে ফেলে, যা স্থূলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

📰 বিস্তারিত

নিউইয়র্কের বাফেলো ইউনিভার্সিটির বিহেভিয়ারাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক লেন এপস্টাইনের মতে, মানুষের খাবারের প্রতি আগ্রহের পেছনে একটি মনস্তাত্ত্বিক কারণ কাজ করে। তিনি বলেন, কোনো নির্দিষ্ট খাবার বারবার খাওয়ার ফলে মানুষের একঘেয়েমি বোধ হয়। কিন্তু নতুন স্বাদের খাবার সামনে আসলে সেই অনুভূতি মস্তিষ্ক খুব সহজেই ভুলে যায়। বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাটিকে 'সেন্সরি-স্পেসিফিক স্যাটিটি' বা সংবেদন নির্দিষ্ট তৃপ্তি বলে অভিহিত করেছেন।

২০১১ সালের একটি গবেষণায় অধ্যাপক লেন এপস্টাইন ৩২ জন নারীকে দুটি দলে ভাগ করে ম্যাকরনি অ্যান্ড চিজ খেতে দেন। এক দলকে প্রতিদিন একই খাবার দেওয়া হয়, আর অন্য দলকে সপ্তাহে মাত্র একদিন। দেখা গেল, প্রতিদিন একই খাবার খাওয়ানো দলের নারীদের খাওয়ার পরিমাণ ধীরে ধীরে কমে যায়। একঘেয়ে খাবারের কারণে তাদের আগ্রহ কমে যায়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের আরেকটি গবেষণায় ৩১ জন শিশুকে তিনটি দলে ভাগ করা হয়। প্রথম দলকে প্রতিদিন একই ব্র্যান্ডের ম্যাকরনি অ্যান্ড চিজ দেওয়া হয়, দ্বিতীয় দলকে ভিন্ন ভিন্ন ব্র্যান্ডের একই খাবার, আর তৃতীয় দলকে চিকেন নাগেট ও চিজবার্গারের মতো নানা পদের খাবার দেওয়া হয়। ফলাফলে দেখা যায়, খাবারের বৈচিত্র্য বেশি থাকা দলের শিশুরা একঘেয়ে খাবার খাওয়ানো শিশুদের চেয়ে অনেক বেশি খেয়ে ফেলেছে।

অধ্যাপক লেন এপস্টাইনের মতে, নোনতা বা ভারী খাবারের পর মিষ্টি ডেজার্ট দেখলে বা বুফেতে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার পেছনে এই একই মনস্তাত্ত্বিক কারণ কাজ করে। মানুষের সামনে নতুন নতুন স্বাদের খাবার দিলে পেট ভরে যাওয়ার পরও মানুষ খেতেই থাকে। আর প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার খাওয়ার পেছনেও এটিই একটি বড় কারণ। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, নানা পদের খাবারের প্রতি এই টান আসলে শরীরকে সুস্থ রাখার এক দারুণ প্রাকৃতিক উপায়। কারণ, বেঁচে থাকার জন্য আমাদের ভিটামিন, মিনারেল ও প্রোটিনের মতো অনেক পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন হয়। কেবল একধরনের খাবার খেলে তো সব পুষ্টি পাওয়া সম্ভব নয়।

"নতুন স্বাদের খাবার দেখলে পেট ভরা থাকা সত্ত্বেও মানুষ খেতেই থাকে। এই মনস্তাত্ত্বিক কারণেই প্রায়ই আমরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলি।"

তবে পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বারবারা রোলস সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, আধুনিক যুগে অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবারের অভাব নেই। ফলে বিভিন্ন স্বাদের খাবার দেখে পেট ভরা থাকা সত্ত্বেও মানুষ বেশি খেয়ে ফেলে। এতে ধীরে ধীরে শরীর ভারী করে ফেলে ও স্থূলতার কারণ হয়। তিনি আরও বলেন, মিষ্টিজাতীয় খাবার খেলে আমাদের মস্তিষ্কে 'ডোপামিন' নামের একধরনের রাসায়নিক নিঃসৃত হয়, যা আনন্দ অনুভব করায়। প্রতিদিন ভারী খাবারের পর মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করলে মস্তিষ্ক আগে থেকেই ধরে নেয় যে একটু পরেই মিষ্টি কিছু আসছে। ফলে খাবার শেষ হতে না হতেই পেটে জায়গা না থাকলেও মস্তিষ্ক মিষ্টির জন্য জায়গা আছে এমন অনুভূতি দেয়।

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: নিউইয়র্ক, বাফেলো ইউনিভার্সিটি
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক লেন এপস্টাইন, অধ্যাপক বারবারা রোলস
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২ জন নারী, ৩১ জন শিশু

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖