📌 গেঁটেবাতের সঙ্গে ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা যৌন অক্ষমতার মধ্যে গভীর সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেছে। গবেষণা দেখায়, ইউরেটের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে ইরেকটাইল ফাংশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে গেঁটেবাতের প্রকোপ ৯০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে, যা যৌন স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলছে।
গেঁটেবাত বা গাউট, যা একসময় ‘রাজাদের রোগ’ হিসেবে পরিচিত ছিল, আধুনিক যুগে তরুণদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ফিরে আসছে। গবেষণা থেকে জানা যায়, এই প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিসের রোগীরা প্রায়ই ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা যৌন অক্ষমতার সমস্যায় ভুগছেন। গেঁটেবাতের সঙ্গে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের মধ্যে গভীর সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা শুধু যৌনজীবনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং হৃদয় ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যারও কারণ হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গেঁটেবাতের সঙ্গে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের মধ্যে ২.৫ গুণ বেশি ঝুঁকি রয়েছে, যেখানে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা প্রতি ১০০ মাইক্রোমোল/লিটার বাড়লে সম্ভাবনা বেড়ে যায়
- 📌 ১৯৯০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পুরুষদের মধ্যে গেঁটেবাতের প্রকোপ ৯০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে
- 📌 গেঁটেবাতের রোগীরা প্রায়ই ইরেকটাইল ডিসফাংশনও ভোগেন, যা হৃদয়রোগের ঝুঁকি বাড়ায়
- 📌 ইউরেটের মাত্রা কমানোর চিকিৎসা ইরেকটাইল ফাংশন পুনরুদ্ধারে সম্ভাব্য ভূমিকা রাখতে পারে, তবে মানুষের ক্ষেত্রে এখনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই
- 📌 যুক্তরাজ্যে মাত্র ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ রোগীই ইউরেটের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছেন
📰 বিস্তারিত
গেঁটেবাতের সঙ্গে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের মধ্যে সম্পর্কের গবেষণা এখনো সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয়, তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় এমন একটি যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়া গেছে। গেঁটেবাতের রোগীরা সাধারণত ইউরেটের মাত্রা বেশি থাকায়, যা তাদের যৌনাঙ্গের স্বাভাবিক ফাংশনকে প্রভাবিত করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ইউরেটের মাত্রা কমানোর চিকিৎসা ইরেকটাইল ফাংশন পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে। তবে এখনো মানুষের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
২০২১ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, গেঁটেবাত ও ইরেকটাইল ডিসফাংশনে আক্রান্ত রোগীদের রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকে। গবেষকরা ধারণা করেন, ইউরেটের মাত্রা কমানোর মাধ্যমে ইরেকটাইল ডিসফাংশনও সম্ভবত চিকিৎসা করা যেতে পারে। ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, ২৪ থেকে ৪৯ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা প্রতি ১০০ মাইক্রোমোল/লিটার বাড়লে ইরেকটাইল ডিসফাংশনের সম্ভাবনা ২ দশমিক ৫ গুণেরও বেশি বেড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে গেঁটেবাতের চিকিৎসায় ইউরেটের মাত্রা কমানোর চিকিৎসা দেওয়া হয়, কিন্তু মাত্র এক-তৃতীয়াংশ রোগীই এই চিকিৎসা পায়। যুক্তরাজ্যের একটি জাতীয় নিরীক্ষায় দেখা গেছে, নতুন করে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার এক বছর পর মাত্র ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ রোগীই ইউরেটের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছেন।
"পুরুষেরা সাধারণত যৌন সমস্যা নিয়ে নিজেরা থেকে কথা বলেন না। আমাদের গবেষণায় অংশ নেওয়া গেঁটেবাত রোগীরা খুব খুশি ছিলেন যে শেষ পর্যন্ত কেউ তাদের ইরেকটাইল ডিসফাংশন নিয়ে প্রশ্ন করেছেন।"
— রিউমাটোলজিস্ট নাওমি শ্লেসিঙ্গার
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (গবেষণা কেন্দ্র)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিজ্ঞানীরা, রিউমাটোলজিস্ট নাওমি শ্লেসিঙ্গার, গেঁটেবাত রোগীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯০ শতাংশ, ২৪-৪৯ বছর, ১০০ মাইক্রোমোল/লিটার, ২.৫ গুণ, ২৫-৪৫ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!