📌 কলকাতায় হোটেল বন্ধের কারণে চিকিৎসা নিতে আসা বাংলাদেশিরা থাকার জায়গা খুঁজে বিপদে পড়ছেন। অগ্নিকাণ্ডের পর শতাধিক হোটেল বন্ধ হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের যাতায়াত ও খরচ বাড়ছে। হাসপাতালগুলো নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করছে
কলকাতায় চিকিৎসা নিতে আসা বাংলাদেশিরা হোটেল বন্ধের কারণে বিপদে পড়েছেন। হাসপাতালের কাছাকাছি সাশ্রয়ী আবাসন না থাকায় রোগী ও তাদের স্বজনদের যাতায়াত ও খরচ বাড়ছে। অগ্নিকাণ্ডের পর শতাধিক হোটেল বন্ধ হওয়ায় রোগীরা সড়কপথে রাত কাটানোর ঘটনাও ঘটছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কলকাতায় গত ১৯ আগস্ট মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু,其中 ৭ জন বাংলাদেশি
- 📌 কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের পরিদর্শনে শতাধিক হোটেল বন্ধ হয়ে গেছে, বিশেষ করে নিউ মার্কেট এলাকায়
- 📌 রোগী ও স্বজনদের জন্য হাসপাতালের কাছাকাছি থাকার ব্যবস্থা না থাকায় দূরের এলাকায় যেতে হচ্ছে, খরচ বাড়ছে
- 📌 বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন সতর্কতা জারি করেছে: আইনগতভাবে অনুমোদিত হোটেলে কক্ষ নিশ্চিত করে নেওয়ার পরামর্শ
- 📌 নিউ আলিপুরের বিপি পোদ্দার হাসপাতাল বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে, নিজস্ব আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ
- 📌 কসবার রুবি জেনারেল হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিশেষ ডেস্ক চালু করছে
📰 বিস্তারিত
চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা বাংলাদেশিরা হোটেল বন্ধের কারণে বিপদে পড়েছেন। আগে নিউ মার্কেট, মারকুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিটসহ এলাকায় কম খরচের হোটেল ও গেস্টহাউস থাকায় রোগী ও স্বজনদের কাছে এসব এলাকা জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু গত ১৯ আগস্ট মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি। এই ঘটনার পর কলকাতা পুরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ শহরের বিভিন্ন হোটেল-গেস্টহাউসে পরিদর্শন ও অভিযান চালায়। নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে নিউ মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধ হয়ে যায়।
হোটেল বন্ধের কারণে রোগী ও স্বজনদের জন্য থাকার ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়ার চ্যালেঞ্জ বেড়েছে। একজন রোগীকে নিয়ে কলকাতায় আসা পরিবারের জন্য হাসপাতালের কাছাকাছি থাকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা অস্ত্রোপচারের পর রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া-আনা করতে হয়। কিন্তু হাসপাতালের আশপাশে সাশ্রয়ী আবাসন না থাকায় অনেককেই দূরের এলাকায় যেতে হচ্ছে। ফলে চিকিৎসার খরচের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে অতিরিক্ত হোটেল ভাড়া, যাতায়াত ব্যয় ও সময়। গুরুতর অসুস্থ রোগী বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে ভোগান্তি আরও বেশি।
বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন সতর্কতা জারি করেছে। তারা বাংলাদেশিদের ভ্রমণের আগে আইনগতভাবে অনুমোদিত ও নিরাপদ হোটেলে কক্ষ নিশ্চিত করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। অর্থাৎ, চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়ার আগে শুধু হাসপাতাল বা চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; থাকার জায়গাটিও আগেই নিশ্চিত করতে হচ্ছে।
হোটেল সংকটের প্রভাব পড়েছে কলকাতার হাসপাতালগুলোর ওপরও। বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় কয়েকটি হাসপাতাল সরাসরি বাংলাদেশে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নিয়েছে। নিউ আলিপুরের বিপি পোদ্দার হাসপাতাল বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের কাছেই নিজস্ব আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটির গ্রুপ অ্যাডভাইজার সুপ্রিয়া চক্রবর্তী জানান, বাংলাদেশি রোগীদের জন্য নিরাপদ ও সংগঠিত আবাসনের ব্যবস্থা করা এখন গুরুত্বপূর্ণ। উডল্যান্ডস মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালও বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। রোগী ও স্বজনদের থাকার সুবিধার জন্য আলিপুর এলাকার কয়েকটি গেস্টহাউস ও হোটেলের সঙ্গে সমঝোতা করেছে হাসপাতালটি।
"বাংলাদেশি রোগীদের জন্য নিরাপদ ও সংগঠিত আবাসনের ব্যবস্থা করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।"
কসবার রুবি জেনারেল হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিশেষ ডেস্ক চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রয়োজন হলে রোগীদের জন্য নিরাপদ আবাসনের তথ্য দেওয়া এবং আগাম কক্ষ বুকিংয়ে সহায়তা করা হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতালটি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কলকাতা (নিউ মার্কেট, মির্জা গালিব স্ট্রিট, আলিপুর, কসবা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুপ্রিয়া চক্রবর্তী (বিপি পোদ্দার হাসপাতালের গ্রুপ অ্যাডভাইজার), রূপক বড়ুয়া (উডল্যান্ডস হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ জন (অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু), ৭ জন (বাংলাদেশি মৃত্যু), শতাধিক (হোটেল বন্ধ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!