📌 বিজ্ঞানীরা রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে জানতে পারলেন, বিলুপ্ত টি-রেক্সের শরীরের তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি প্রমাণ করে যে টি-রেক্স ছিল উষ্ণ রক্তের প্রাণী, যদিও এর তাপমাত্রা মানুষের মতো নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, টি-রেক্সের শরীরের তাপমাত্রা ভারতীয় হাতির মতোই ছিল
বিজ্ঞানীরা রাসায়নিক বিশ্লেষণ ও জীবাশ্মের গবেষণা করে একটি বড় রহস্য উন্মোচন করেছেন। প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্সের শরীরের তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। এই তথ্য বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণায় পাওয়া গেছে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, টি-রেক্স ছিল উষ্ণ রক্তের প্রাণী, যদিও এর তাপমাত্রা মানুষের মতো ৩৭ ডিগ্রি নয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 টি-রেক্সের শরীরের তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস — বিজ্ঞানীরা জীবাশ্মের দাঁত বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পেয়েছেন
- 📌 টি-রেক্সের তাপমাত্রা অন্যান্য বড় স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মতো, যেমন ভারতীয় হাতির শরীরের তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস
- 📌 গবেষণায় দেখা গেছে, টি-রেক্সের বিপাকক্রিয়া দ্রুত ছিল, যা উষ্ণ রক্তের প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য
- 📌 টি-রেক্সের শরীরের তাপমাত্রা মুরগির মতো উচ্চ নয় — মুরগির তাপমাত্রা ৪০.৬ থেকে ৪১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস
- 📌 বিজ্ঞানীরা টি-রেক্সের দাঁতের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পেয়েছেন — দাঁত দুটি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের মিউজিয়ামে সংরক্ষিত
📰 বিস্তারিত
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে ডাইনোসরদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ে গবেষণা করছিলেন। প্রায় ২০০০ সাল পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, ডাইনোসররা শীতল রক্তের প্রাণী — তাদের শরীরের তাপমাত্রা বাইরের পরিবেশের ওপর নির্ভর করত। কিন্তু নতুন গবেষণায় এই ধারণা ভেঙ্গে পড়েছে। বিজ্ঞানীরা টি-রেক্সের জীবাশ্মের দাঁত বিশ্লেষণ করে জানতে পারলেন, এই বিশাল আকৃতির শিকারি ডাইনোসরের শরীরের তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের (ইউসিএলএ) বিজ্ঞানীরা ‘থমাস’ নামের টি-রেক্সের দুটি দাঁত নিয়ে কাজ করেছেন। দাঁত দুটি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে সংরক্ষিত। বিজ্ঞানীরা দাঁতের এনামেল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে কার্বন ও অক্সিজেনের ভারী আইসোটোপের রাসায়নিক বন্ধন বিশ্লেষণ করেছেন। এই বিশ্লেষণ থার্মোমিটারের মতো কাজ করে — তাপমাত্রা নির্ধারণে সহায়তা করে।
গবেষণার প্রধান বিজ্ঞানী মার্কিন ভূ-জীববিজ্ঞানী রবার্ট ইগল বলেছেন, খনিজ পদার্থের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য সেই মুহূর্তে ‘হিমায়িত’ হয়ে যায়। সেই বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা অনেক কোটি বছর আগের তাপমাত্রা সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, টি-রেক্সের শরীরের তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেখানে প্রাচীন কুমিরজাতীয় প্রাণীদের গড় তাপমাত্রা ছিল মাত্র ৩১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, টি-রেক্সের উষ্ণ রক্তের বৈশিষ্ট্য ছিল এর সক্রিয় জীবনযাপনের কারণ। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে টি-রেক্স উত্তর আমেরিকার বিশাল এলাকায় বসবাস করতে পারত — আলাস্কা থেকে মেক্সিকো পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এর বিচরণ সম্ভব ছিল।
"কোনো খনিজ তৈরি হওয়ার সময় তার রাসায়নিক গঠনের বৈশিষ্ট্য সেই মুহূর্তে ‘হিমায়িত’ হয়ে যায়। সেই বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা অনেক কোটি বছর আগের তাপমাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (লস অ্যাঞ্জেলেস, মন্টানা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিজ্ঞানী রবার্ট ইগল, টি-রেক্সের জীবাশ্মের অধ্যয়নকারী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস (টি-রেক্সের তাপমাত্রা), ৩১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস (কুমিরজাতীয় প্রাণীদের তাপমাত্রা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!